সাহিদুল এনাম পল্লব, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপার উপজেলার ত্রিবেনী ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামে তামান্না খাতুন ওরফে মধু (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল। তবে ঘটনার পর থেকে তামান্নার শ্বশুর বাড়ির সমস্ত লোক জন পলাতক রয়েছে। তামান্নার পারিবারিক সুত্রে জানা যায় গত ৭ বছর পারিবারিক ভাবে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের সোনাদাহ গ্রামের সৌদি প্রবাসি নাছির ফকিরের মেয়ে তামান্না খাতুন ওরফে মধু (২৫) এর সাথে শৈলকুপা উপজেলার আনন্দনগর গ্রামের মকছেদ আলীর ছেলে বকুলের বিয়ে হয়। বিয়ের ২ বছর পর তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে।
পুত্র সন্তানের নাম তানভীর বর্তমান বয়স ৫ বছর। বকুল ঢাকায় শ্রমিক হিসাবে কাজ করে। এই শ্রমিকের কাজ করতে যাতে ঢাকায় অন্য একটি নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে গত ১ বছর ঐ নারী কে বিবাহ করে ঢাকায় থাকে। এই বিয়ের পর বকুল বিভিন্ন ভাবে তামান্নার উপর নির্যাতন করে আসছিল। ঘটনার আগের দিন রবিবারে সকালে বকুল ঢাকা থেকে বাড়িতে আসে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানায় বকুলের পরিবার তামান্না কে হত্যা করে ঘটনা কে ধামা চাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কথা বলে যাচ্ছে। যেমন কেউ বলছে জ্বর হয়েছিল, কেউ আবার বলছে গলাই দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে আবার কেউ বলছে স্টোক করেছেন। তবে তামান্নার তামান্নার গলাই ও কানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তামান্নার দাদা ইকামত হোসেন জানান, তামান্না তার মা মরিয়মের কাছে রোববার বিকেলে ফোন করে বলে তার স্বামী বকুল ঢাকা থেকে বাড়ি এসেছে আজ সকালে। তারপর কিছু কথা বলতে চেয়ে বলে আমার ফোনে টাকা নেই মা তোমার ফোনে টাকা থাকলে একটু কল ব্যাক করো। পরে মা মরিয়ম কল ব্যাক করলে আর রিসিভ হয়না। অবশেষে মধ্য রাতে ফোন কল পেয়ে তারা জানতে পারে তামান্নাকে মেরে ফেলে রেখেছে।
তবে তামান্না কি ভাবে মারা গেছে বাড়ির সবাই পালাতক থাকার কারনে জানা যায় নি। ঘটনার পর তাকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহীন ঢালী জানান, লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ ব্যাপারে শৈলকুপার রামচন্দ্রপুর ক্যাম্প আইসি রবিউল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় বকুলের পরিবার পলাতক রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।



