
মো: জাবের হোসেন : ব্ল্যাক বেবি, মধুমালা এবং ইয়োলো বার্ড তিনটি জাতের রঙিন তরমুজ মাচায় দুলছে। আর এসব রঙিন তরমুজকে ঘিরে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন তালা উপজেলার নগরঘাটা এবং ধানদিয়ার সেনেরগাঁতির কৃষকেরা।
উপজেলার মোট ২ হেক্টর জমিতে নতুন এ বছর রঙিন এ তরমুজ এবার চাষ হয়েছে। শুধু শীতকাল বাদে বাকি সময়গুলোতে চাষযোগ্য এ তরমুজ।
জানা গেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় তালার বে-সরকারি সংস্থা “উন্নয়ন প্রচেষ্টা’র” কৃষি ইউনিটের আওতায় কৃষকদের এ চাষের ব্যাপারে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ, কারিগরী সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

নগরঘাটার তরমুজ বাগানে গিয়ে দেখা যায়, মাচায় দুলছে এ নতুন জাতের তরমুজ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নগরঘাটার আসাদুজ্জামান সরদার আসাদ, মাসুদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম এবং একই এলাকার মিঠাবাড়ি গ্রামের মুকুল হোসেন এ বছর রঙিন তরমুজ চাষ করেছেন। পাশ্ববর্তী ধানদিয়া ইউনিয়নের সেনেরগাঁতি গ্রামেও এ তরমুজ চাষ হয়েছে এ বছর।
নগরঘাটার মৃত বোদিয়ার রহমানের পুত্র কৃষক আসাদুজ্জামান সরদার আসাদ (৪৫) জানান, তিনি এবার ২০ শতক জমিতে নতুন চাষ করছেন ব্ল্যাক বেবি ও হলুদ রঙের তরমুজ। তার জমিতে প্রায় ২৫’শ থেকে ৩ হাজার তরমুজ রয়েছে যেটি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হবে। বর্তমানে গাছের পরিচর্যায় বেশিরভাগ সময় দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ফলন এতটাই ভালো হয়েছে যে, দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। আর খেতেও রসালো ও সুস্বাদু এই তরমুজ। ভালো দামে বিক্রি করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

সরোজমিনে দেখা যায় নগরঘাটা ও সেনেরগাঁতি এলাকায় সবুজ কচি লতাপাতার মাঝে ঝুলছে রঙির তরমুজ। ছোট-বড় তরমুজে নুয়ে পড়েছে মাচা। দেখতে যেন হলুদের সমারোহ। এ উপজেলায় প্রথম মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে বলে জানা যায়। পোকা দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ। তাতে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়নি। এ তরমুজ চাষ দেখতে ভিড় করছেন এলাকাবাসি।
উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষি ইউনিটের কৃষি কর্মকর্তা মো: নয়ন হোসেন জানান, আমরা গত ২ বছর যাবৎ সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় তরমুজ চাষে কৃষকদের সহযোগিতা করছি। তবে এ বছরই নতুন এই গ্রীষ্মকালীন রঙিন তরমুজ চাষ তালার নগরঘাটা এবং ধানদিয়াতে করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এ এলাকার ৬ বিঘা জমিতে রঙিন তরমুজ চাষ হচ্ছে। প্রথমে শুরু হয়েছে সেনেরগাঁতিতে। তিনি আরো বলেন বিঘা প্রতি খরচ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বিঘা প্রতি বিক্রি হবে। তবে বাজার ভালো গেলে ১.৫ লক্ষ টাকাও বিঘা প্রতি বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা হলেও কিছুদিন পূর্বে সেনেরগাঁতির কৃষকেরা বাজারের সর্বোচ্চ দাম পেয়েছেন।তারা প্রতি কেজি তরমুজ সর্বোচ্চ ৭০ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, চাষি আসাদুজ্জামান সরদার আসাদ নগরঘাটাই প্রথম হলুদ রঙের তরমুজ আবাদ শুরু করেছেন। তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে। তার তরমুজ চাষ দেখে এলাকার অন্য চাষিরাও এ জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তারাও আমার কাছে পরামর্শ চাইছেন, আমি পরামর্শ দিচ্ছি।
রঙিন তরমুজ চাষের ব্যাপারে তালা উপজেলা কৃষি অফিসার হাজিরা খাতুন জানান, উপজেলাতে মোট ২ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন এ তরমুজ চাষাবাদ হচ্ছে।তালার বে-সরকারি সংস্থা উন্নয়ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে উপজেলাতে রঙিন তরমুজ চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে টেকনিক্যালি সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।



