আওয়ামীলী থেকে -৬ বিএনপি থেকে-৪ জাতীয় পার্টি থেকে-২ ও জামায়াত থেকে ১ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী
আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোর-৬ কেশবপুর আসনটি জেলার ভি আইপি আসন হিসেরে পরিচিত হয়ে আসছে। কারন এ আসন থেকে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত নৌকা প্রার্থী এএস এইচকে সাদেক শিক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন । অপরদিকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী নৌকার প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব জাতীয় সংসদের হুইপ হয়েছিলেন। এরপর ২০১৪ সালে বিজয়ী নৌকার প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর এএস এইচকে সাদেক এর সহধর্মীনি ইসমাত আরা সাদেক নৌকার প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি দেশের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীত্ব লাভ করে বর্তমান দায়িত্ব পালন করছেন।
যেকারনে যশোর জেলার ৬টি আসনের মধ্যে এই আসনটিকে গুরুত্বপূর্ন আসন হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে। এ আসনে সর্বশেষ ভোটার সংখ্যানুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৫শ ৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৭ হাজার ১শ ১ জন, ও মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৯৬ হাজার ৪ শত ৩৩ জন।
এহিসেবে মহিলা ভোটার অপেক্ষা পুরুষ ভোটার ৬৬৮ জন বেশী। পাকিস্তানের শেষ সময় ১৯৭০ সালে কেশবপুর, মনিরামপুর ও অভয়নগর তিন থানা নিয়ে আসনে নৌকা প্রতিক নিয়ে আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন সুবোধ মিত্র, ১৯৭৩ সালেও নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন পিযুষ কান্তি ভট্রাচার্য্য, ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন গাজী এরশাদ আলী, ১৯৮৬ সালে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওই সময়কার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হালিম সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চাকা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
১৯৮৮ সালে লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে জাতীয় পার্টির এ্যাড.আব্দুল কাদের নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তিনি যশোর জেলা চেযারম্যান হন। ১৯৯১ সালে দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন। যশোর-৬ কেশবপুর আসনটি থেকে নির্বাচনে নৌকার প্রত্যাশি ব্যক্তির সংখ্যাও প্রতিবারই বেশী হয়ে থাকে।
এবার ও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। বর্তমানে এ আসনের থেকে প্রাথী হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হাফ ডজন ব্যক্তি। যাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান এমপি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আমীর হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হুসেইন মোহাম্মদ ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য শেখ আদুর রফিক, ও ডক্টর তাপস কুমার দাস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন স¤পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা এসব প্রার্থীরা দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
অন্য দলের পক্ষ থেকে তেমন কোন কার্য্যক্রম করতে না পারায় আওয়ামীলীগের একক দাপট রয়েছে। তবে এখানে আওয়ামীলীগের প্রতিদ্ধন্ধি আওয়ামী লীগ। প্রায় বছর তিনেক আওয়ামীলীগের মধ্যে দুটি পক্ষ। ২০ দলীয় জোটের থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, জেলা বিএনপি সহসভাপতি ও কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিযন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর আবু, কেন্দ্রীয় সহ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেশবপুর উপজেলা আমীর অধ্যাপক মোক্তার আলী। এসকল ব্যক্তির মধ্যে অমালেন্দু দাস অপু কেশবপুরের সন্তান ঢাকার বাসিন্দা।
তিনি বছরে ২/৩বার কেশবপুরে যখন আসেন তখন গনসংযোগ করেন। মোস্তাফিজুর রহমানেরও কেশবপুরে বাড়ি তিনি ঢাকার বাসিন্দা । তিনিও বছরে ১/২বার কেশবপুরে যখন আসেন, তখন তিনি এলাকায় গনসংযোগ করেন। অবশ্য এই দুজনের উপস্থিতির অবর্তমানে কেশবপুরে তাদের পক্ষে কারও গনসংযোগ করতে দেখা যাযনা। কেশবপুর আসনটিতে ২০ দলীয় জোটে ব্এিনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাড়া আর কোন দলের কার্য্যক্রম চোখে পড়েনা।
২০ দলীয় জোটের বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বিএনপি অফিস বন্ধ প্রায ৬মাস । আর জামায়াতের অফিস বন্ধ ২০১৪ সাল থেকে প্রায় ৫বছর যাবৎ। এদুটি দলের অফিস খুলে কার্য্যক্রম নেই। তবে তাদের সমার্থীতদের মধ্যে গোপনে কার্য্যক্রম নিভু নিভূ ভাবে চলে বলে সংশ্লিষ্ট দলের একাধীক সূত্র জানায়। জাতীয় পার্টির দুজন প্রার্থী গণসংযোগ করছেন। তাদের মধ্যে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এ্যাড, আব্দুল মজিদ ও সাধারন সম্পাদক উপজেলা ভাইস চেযারম্যান আব্দুল লতিফ রানা । এই দইুব্যক্তি জানান তারা গনসংযোগ করছেন এবং দলের কাছে লাঙ্গল প্রতীকের মনোনয়ন চাইবেন।



