মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করায় স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন এক স্বামী। এরই জের ধরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী মনোরমা পারভীন সেবু। মামলার বাদী নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ভরাট্ট গ্রামের মৃত কাজী মোয়জ্জেম হোসেনের মেয়ে এবং ভুক্তভোগীর স্ত্রী নিজেই।
মামলা নং ১৪১/ ২০২০। এতেও ক্ষান্ত হননি তার স্ত্রী। সম্প্রতি কয়েক দফায় রাগে অভিমানে তার বাড়িতে ঘরের ভিতরে থাকা ফ্রিজ, খাট,সোকেস, ড্রেসিং এবং অন্যান্য আসবাবপত্র ভাংচুরসহ গরু-ছাগল,হাঁস,মুরগী, টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নিয়ে যান তার স্ত্রী এবং সাঙ্গপাঙ্গরা। এতে ওই পরিবারে চরম অশান্তি বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মান্দা উপজেলার গনেশপুর ইউপির মীরপুর গ্রামের শেখপাড়ায়।
ভুক্তভোগী মীরপুর গ্রামের মৃত খাদেম শেখের ছেলে ইমাজ উদ্দিন শেখ। তার দুই মেয়ে রিফাত আরা (২০) এবং সুরাইয়া আক্তার (১৬)। এদের মধ্যে বড় মেয়েটি লেখাপড়ার সুবাদে নওগাঁতে অবস্থান করতো। আর ছোট মেয়েটি মায়ের সাথে বাড়িতে থেকে সতিহাট জিএস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতো। এমতাবস্থায় বাবা বাড়িতে না থাকার সুযোগে মায়ের আসকারা পেয়ে মেয়ে দুটো বেপোরোয়াভাবে বেহায়ার মতো চলফেরা করতে শুরু করে।
এরই এক পর্যায়ে একই এলাকার আমজাদ শেখের স্ত্রী নাসিমা নামে এক মহিলার চাচাতো বোনের ছেলে রানীনগর উপজেলার নাসিম ওরফে নাহিদ এর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যায় বড় মেয়ে ইফাত আরা। আর ছোট মেয়েটিও একইভাবে মান্দার মৈনম ইউপির মজনুম্যাকার এলাকার একটি জৈনক ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বাবা বাড়িতে না থাকার সুযোগে মায়ের সাপোর্ট পেয়ে মেয়েগুলো বাবার অবাধ্য হতে থাকে। এমনকি তারা ওই প্রেমিক পুরুষদেরকে লোকচক্ষুর আড়াল করে অন্তরঙ্গ মুহুর্তে রাত্রি যাপন করতে রাতের অন্ধকারে নওগাঁ- রাজশাহী মহাসড়ক হয়ে বিলের মধ্য অর্থাৎ বাইপাস আইল রাস্তা দিয়ে নিজ শয়ন কক্ষে এনে এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাতো। সত্য কখনো গোপন থাকে না। আর সেকারণে বিষয়টি আস্তে আস্তে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে থাকে।
মেয়েদের প্রেমঘটিত বিষয়টি জানার পরে স্ত্রীর কাছে জানতে চান ইমাজ উদ্দীন শেখ এই বলে যে, আসলে বিষয়টি কি? আমি এসব কি শুনতেছি? আমাদের মেয়ে না কি নওগাঁর রানীনগরের কোন জানি এক ছেলের সাথে সম্পর্ক করে? সে ছেলেটি না কি দুবলহাটির পশ্চিমে হাতাশ- শুনুলিয়াতে নানার বাড়ি থেকে নওগাঁ বাটার মোড়ে মা টেলিকম নামে এক দোকানে কর্মচারীর কাজ করে, ও না কি ওই ছেলেটির সাথে সম্পর্ক করে? আসলে বিষয়টি কি? ঘটনা কি সত্যি? আমি এসব আলতু- ফালতু ছেলের সাথে মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মানিনা।
কেনোনা আমার কোন ছেলে নাই। দুটো মাত্র মেয়ে। জীবনের যা কামাই, সব খাবে জামাই। সুতরাং দুটা ভালো জামাই চাই। আর এতো কষ্ট করে লেখাপড়া শিখিয়ে এই আশা করছিলাম আমি? এই তোমাদের অবদান? আর মেয়েদের বেপোরোয়া হওয়ার পেছনে তুমিই দায়ী বলে স্ত্রীর সাথে রাগারাগি করেন ইমাজ উদ্দিন।
এরই প্রেক্ষিতে স্বামী- স্ত্রীর মাঝে মেয়েদের প্রেমকাহিনী নিয়ে বাকবিতÐার একপর্যায়ে বিষয়টি চড়ম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। আর ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে শাস্তি স্বরুপ মেয়ের অপরাধের সমান অংশীদার মেয়ের মা অর্থাৎ তার নিজ স্ত্রীকে গত ২৫ ফেব্রæয়ারি তালাক দিতে বাধ্য হন তিনি। এনিয়ে অত্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মান্দা থানার এসআই সুজন এবং সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।


