মান্দার সতিহাটে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ি নির্মাণ কাজে বাধা

43
মান্দার সতিহাটে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ি নির্মাণ কাজে বাধা

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় গনেশপুর ইউপি’র শ্রীরামপুর গ্রামের সতিহাটে এক সংখ্যা লঘু পরিবারের বাড়ির ছাদ ভেঙ্গে জমি নিতে চায় বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তি আলহাজ্ব মকছেদ আলী জিনের বিরুদ্ধে।

ভূক্তভোগী মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউপি’র বিন্দারামপুর গ্রামের মৃত ক্ষিতিশ চন্দ্র মন্ডলের ছেলে অরবিন্দু মন্ডল। যিনি সতিহাটের একজন বিশিষ্ট ঔষুধ ব্যাবসায়ী। তার একটি ঔষুধের দোকান আছে। যার নাম মেসার্স মেডিসিন কর্ণার। ব্যাবসার সুবাদে তিনি গত ৮/১০ বছর পূর্বে সতীহাট বাজারের উত্তরে ব্রাইট স্টার কেজি স্কুল সংলগ্ন গ্রামীণ/রবি টাওয়ারের পূর্ব দক্ষিণে শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত হযরতুল্যার ছেলে মকছেদ হাজীর কাছ থেকে বাসা বাড়ি করার জন্য শ্রীরামপুর মৌজায় ৪৮২ নং খতিয়ানের ২৯ শতক জমির মধ্যে ৫ শতক জমি ক্রয় করে অদ্যবধি সেখানে কবলাকৃত জমিতে বাসাবাড়ি করে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে জমি বিক্রেতা মকছেদ হাজী আমার ভিতর অতিরিক্ত জমি আছে বলে তারই সার্ভেয়ার দিয়ে জমি জরিপ করিয়ে নেন। তারপর অন্যের প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এবছরের এপ্রিল মাস থেকে অদ্যবধি অনর্থকভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে অসৎ উদ্দেশ্য সাধনে বাড়ি নির্মান এবং সংস্কার কাজে বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করছে, যা চরম অনৈতিকতা।

উল্লেখ্য, ওই জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন, শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত ফজল মেম্বার। তার মৃত্যুর পর সে জমিটির অংশিদার হন তার ছেলেরা। তাদের কাছ থেকে কবলাসূত্রে মালিক হন একই গ্রামের মৃত হযরতুল্যার ছেলে মকছেদ হাজী ওরফে জিন। পরবর্তীতে তার কবলাকৃত সম্পত্তি হতে ৫ শতক জমি অরবিন্দু মন্ডলের কাছে বিক্রয় করেন। যখন জমিটি বিক্রয় করেন তখন ওই জমির উত্তর পাশ দিয়ে একটি আইল রাস্তা ছিলো। যা ওই এলাকায় বসবাসকারীদের যাতায়াতের জন্য প্রশারিত করা হয়। কিন্তু কথা হচ্ছে যে, জিন মকছেদের কাছ থেকে যখন অরবিন্দ মন্ডল জমিটি ক্রয় করেন তখন কিন্তু জমি বিক্রেতা মকছেদের সম্মতিক্রমে তার দখল পজিশনের উত্তর দিক দিয়ে পূর্ব পশ্চিম লম্বা প্রায় সাড়ে ৮ ফুটের একটা রাস্তা রাখা ছিলো। যে রাস্তাটি দিয়ে বর্তমানে সকলে চলাচল করতিছে।

রাস্তা ব্যাতীরেখে ভূক্তভোগী অরবিন্দু মন্ডল তার কবলাকৃত সম্পত্তিতে ইঞ্জিনিয়ারিং প্ল্যানে ছাদ দিয়ে উত্তর দক্ষিণ লম্বা ২ ইউনিট বিশিষ্ট একটি ফ্লাট নির্মান করেন। যা পরবর্তীতে সংস্কারের উদ্যোগ নেন। এমতাবস্থায় মিস্ত্রি দিয়ে পাটিশান ভেঙ্গে নিজের ঘরের ছাদের নিচে মেঝে প্লাষ্টার কাজ করার সময় জমি বিক্রেতা মকছেদ হাজী এবং তার ছেলে মকলেছুর রহমান সংস্কার কাজে বাধাঁ প্রদান করেন। নিজের কবলাকৃত ৫ শতক জমির উপর বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করাবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে বিরাম্বনায় পড়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেছেন ভূক্তভোগী অরবিন্দু মন্ডল।

তার দাবি যে আমার কবলাকৃত জমিতে আমি আজকে নতুন না আজ থেকে আরো প্রায় ৮/১০ বছর পূর্বে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছিলাম। অথচ,জমি বিক্রেতা নিজে আমার বসতবাড়ির নির্মাণ কাজে বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ আমি একজন সংখ্যালঘু। সেই সাথে আমি একজন ঔষুধ ব্যাবসায়ী। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাকে দোকানেই সময় দিতে হয়। কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। আমার আগচরে জমি বিক্রেতা তার বাসার ভেতরে আমার বাসার ওয়ালের সাথে ওয়াল লাগিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব কর্ণারে একটি ট্রয়লেট নির্মান করেছেন। এছাড়াও আমার বাসার পশ্চিমে জানালার পাশে ট্রয়লেটের একটি সেফটি ট্যাংকি নির্মান করেছেন। সেইসাথে পানির ড্রেনের নালা দিয়েছেন। যা মহা অন্যায়। এর পাশাপাশি আমাকে অবরুদ্ধ করতে পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে আমার বাসা সংলগ্ন এক থেকে দেড় ফুট দূরে বিভিন্ন ফলজ গাছ লাগিয়েছেন। যে গাছগুলো বড় হলে আমার বাসার ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এতোকিছুর পরেও প্রতিবাদ করতে গিয়ে হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মূল বিষয় হচ্ছে যে, স্থানীয় কিছু মুখরোচক মাতবরদের একতরফা সিদ্ধান্তের কারনে কোন প্রতিকার না পাওয়ারও অভিযোগ করেন। তিনি এসব প্রতিবন্ধকতা থেকে পরিত্রান পেতে চান। এই মুহুর্তে তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন। প্রতিবেশীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ তিনি। খুব দ্রুত এর একটা সহজ সমাধানও চান তিনি।