মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দায় করোনা ভাইরাসের লকডাউন উপেক্ষা করে আন্দইল বিলের কৃষি জমিতে পুকুর খননকে কেন্দ্র করে দু-গ্রুপের সংঘর্ষে ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
গত শুক্রবার ( ২৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ভাঁরশো এবং তেঁতুলিয়া ইউপির মাঝখানে অবস্থিত আন্দইল বিলে পুকুর খননকারী ও মৎস্যচাষীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় দু-গ্রুপের সংঘর্ষে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা জানান।
সরজমিনে গেলে স্থানীয় মৎস্যজীবী সিরাজুল,বাবুল,সঞ্জিৎ সহ আরো অনেকে জানান, আন্দইল বিলের নি¤œ অংশে বছরের অধিকাংশ সময় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। সেখানে এই বিল ধারের ভাঁরশো, শালদহ, পলাশবাড়ী ও রোয়াই গ্রামের প্রায় ৩ হাজার পরিবার এই বিলে মাছ শিকার করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। অথচ উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউপির সাঁটইল গ্রামের সূর্য কান্তের ছেলে প্রভাবশালী উজ্জ্বল কুমার গংরা মৎস্যচাষীদের জন্য উন্মুক্ত জলাশয় ও বোরো ফসল জন্মে এমন খাস জমি এবং কৃষি জমি দখল করে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে বড় পুকুর বা দীঘি খনন কাজ শুরু করেছেন।
এমতাবস্থায় এভাবে বিলের সব খাস জমি দখল করে দীঘি খনন করলে আমাদের উপার্জনের পথ চির তরে বন্ধ হয়ে যাবে। এজন্য গত শুক্রবার ( ২৪ এপ্রিল) দুপুরে ৪ টি গ্রামের আমরা মৎস্যজীবীরা দীঘি খননে বাঁধা দিতে গেলে উজ্জ্বল বাহিনীর উৎপল,পরিমল, বরুন, চঞ্চল, সুজন এবং তাদের ভাড়াটিয়া লোকজন গাছের ডালের লাঠি দিয়ে আমাদেরকে পিটিয়ে আমাদের ৪ জনকে গুরুতর আহত করে। আমাদের আহতদের মধ্যে তিন জনের হাত ভেঙ্গে গেছে। আহতরা হলেন,সচীন্দ্রনাথের ছেলে সত্যেন ও নারায়ন কুমার,মহাদেবের ছেলে মিলন,সঞ্জয়ের ছেলে বন্ধন।
পুকুর খননকারী সূর্য কান্তের ছেলে প্রভাবশালী উজ্জ্বল কুমার তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পুকুর কাটার ব্যাপারে হাইকোর্টের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে। এছাড়াও আমি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ বিঘা জমি ১০ বছরের জন্য টাকার বিনিময়ে মাছ চাষের জন্য কন্ট্রাক্ট নিয়েছি। সে মোতাবেক আমি পুকুর খনন কাজ শুরু করে ছিলাম। কিন্তু আপাতত কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। আমি শুধু একা না, আমার আরো শেয়ার- পার্টনার আছে। তাদের সাথে স্বমন্বয় করা ছাড়া আমি কারো সাথে বৈরিতা করে এ অবস্থায় আর পুকুর খনন করতে চাই না।
এ ব্যাপারে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন এক পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিমকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা করা হবে জানান।



