ভ্যাপসা গরমে নগরঘাটার জনজীবনে ক্লান্তি, স্বস্তি নেই কৃষি কাজে, অসুস্থ্য শিশুরা

43

মোঃ মামুন হোসেন : ভ্যাপসা গরম আর সূর্যের প্রখর চোখ রাঙানি রোদ দিনকে দিন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন। এতটুকু স্বস্তি নেই কোথাও, দুপুরের রোদে খোলা আকাশের নিচে হাঁটলে গরম বাতাসের হলকায় মুখমণ্ডল পুড়ে যাওয়ার উপক্রম। শরীর ভিজে একাকার হয় যাচ্ছে ঘামে। সূর্য এতটাই তেতে উঠেছে যে, বাইরে বের হলেই মনে হচ্ছে অগ্নিকুণ্ড। শুধু দিনের বেলাতেই নয়, রাতেও গরমে মানুষ ঘুমাতে পারছে না। সপ্তাহ খানেক ধরে শুরু হল সাতক্ষীরাসহ দেশের অন্যান্য জেলায় ধানকাটার মৌসুম।

আর এই খা খা রোদে কৃষকের মুখ হাসির বদলে দেখাচ্ছে মলিন আর ক্লান্তিতে ভরা। তারপরেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকবেনা জেনে ভুতের খাটনিতে ব্যস্ত কৃষক ও দিনমজুররা। এই প্রখর রোদে খাওয়ার স্যালাইনই তাদের একমাত্র ভরসা। নগরঘাটার একাধিক গ্রাম্য-ডাক্তার সূত্রে জানাযায়, বিগত দুইদিন গরমের কারণে বেশি অসুস্থ হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। অধিকাংশরা গরমে শরীরে ঘাম ঝরে ও এই ঘাম শরীরে বসে সর্দি কাশিতে ভুগছে।

ব্যারোমিটারের হিসাব বলছে, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি কোথাও কোথাও প্রায় তীব্র তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপদাহের এই অবস্থা আরও পাঁচদিন বিরাজ করবে। এ সময় কমবে না রাতের গরমও।

গ্রীষ্মের তাপদাহে পুড়ছে সাতক্ষীরাসহ সারাদেশ। গত দু’দিন কিছুটা কমে গিয়ে আবারও বেড়েছে তাপদাহ। একেবারে তীব্র তাপদাহের পর্যায়ে পৌঁছেছে রাজশাহীর তাপমাত্রা বলে জানা যায়। দেশের উত্তরের এ জনপদে রোববার (২৮ এপ্রিল) মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলিসিয়াস হলেই অবস্থাকে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করে আবহাওয়া অধিদফতর।

সাতক্ষীরায় গরম বাতাস শরীরে বিঁধছে আগুনের হলকার মতো। বৃষ্টির দেখা নেই কয়েকদিন ধরে, তাই দিনে দিনে বেড়েই চলছে তাপদাহ। প্রচণ্ড গরমে মানুষের অবস্থা কাহিল। বৃষ্টি মহাশয় উদয় হচ্ছে না তাই কমছে না অতিষ্ঠ জনজীবনের দুঃখগাঁথা গল্প। অধিক জনসংখ্যার চাপ, মাত্রাতিরিক্ত শিল্প ও আবাসিক ভবন, গাছপালা আর নদ-নদীর অভাব; এছাড়া, সূর্যের তাপের সাথে গরমের মাত্রা বাড়াচ্ছে গাড়ির ইঞ্জিন ও বিভিন্ন যন্ত্রের বিকিরণ, এমনটাই প্রকাশ পাচ্ছে বিভিন্ন জরিপে।

খুলনা অঞ্চলের খুলনায় ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এবং সাতক্ষীরা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণি বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা তেমন নেই। তবে উড়িয়ে দেওয়াও যাবে না। ফণি যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে এটি যদি বাংলাদেশের উপকূলে আসে, তবে সেটি হবে ৪ মে রাত অথবা ৫ মে’র দিন। আর ভারতের উপকূলে আঘাত হানলে আরো একদিন আগেই আঘাত হানবে। এক্ষেত্রে ৩ মে পর্যন্ত বর্তমানে যে তাপমাত্রা আছে, এমনই থাকবে।

এসময় রাতের তাপমাত্রাও কমবে না বলে মনে করছেন তিনি। বলেন, রাতের বায়ুর তাপ ও জলীয় বাষ্পের তাপের তারতম্যের কারণে গরম অনুভূত হচ্ছে বেশি। রাতে জলীয় বাষ্প বেড়ে যাচ্ছে। জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হলে শরীরের ঘাম বায়ু শুষে নিতে পারে না। এজন্যই বেশি গরম লাগে।

অধিক তাপমাত্রার অতিষ্ঠ হয়ে একেবারেই জরুরি কাজ না থাকলে ঘরের বাইরে বেরোচ্ছেন না কেউই। বাজার ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসা অস্বাস্থ্যকর জেনেও অনেকেই পান করছেন রাস্তার পাশের লেবুর শরবত কিংবা অন্য কোনো ঠাণ্ডা পানীয়। তাপমাত্রা যে গতিতে বাড়ছে তাতে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তাপমাত্রা একই রকম থেকে কিছুটা বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়।

এদিকে, অধিক তাপমাত্রায় বাড়ছে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তীব্র গরমের কারণেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্নস্থানে পানিবাহিত রোগ ও ডায়রিয়ার প্রকোপ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।