আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
‘পরকীয়া’ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে এই মুহূর্তে সারা ভারত তোলপাড়। এতদিন পর্যন্ত এদেশে ৪৯৭ ধারায় ‘পরকীয়া’ ছিল শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু ২৭ সেপ্টেম্বর একটি ঐতিহাসিক রায়ে ভারতের শীর্ষ আদালত ঘোষণা করে যে পরকীয়াকে আর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না।
অর্থাৎ ‘পরকীয়া’-র দায়ে কোনও ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে আর ফৌজদারী মামলা করা যাবে না। তবে বিবাহবিচ্ছেদের একটি ক্ষেত্র হিসেবে ‘পরকীয়া’ বিবেচিত হবে। অর্থাৎ কোনও স্বামী বা স্ত্রী তাঁর সঙ্গীর এই ধরনের আচরণের অভিযোগ তুলে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
এখন প্রশ্ন হল, কেন হঠাৎ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দিলো। এর পিছনে রয়েছে ইতালি-প্রবাসী ভারতীয় জোসেফ শাইনের পিটিশন এবং দুই কৃতী আইনজীবীর দক্ষ সওয়াল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ডট কম-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোসেফ শাইন গত বছর অগস্ট মাসে সুপ্রিম কোর্টের কাছে একটি পিটিশন দাখিল করেন এই আইন সংশোধনের জন্য। ৪৫ পৃষ্ঠার আবেদনে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ছিল মার্কিন কবি র্যালফ ওয়ালডো এমারসন, নারীবাদী তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা মেরি উলস্টোনক্রাফট এবং প্রাক্তন ইউএন সেক্রেটারি জেনারেল কোফি আন্নান-এর কিছু উক্তি।
এই পিটিশন দাখিল করার পরে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে যে দু’জন আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের কাছে সওয়াল-জবাব করেছেন তাঁরা হলেন কালীশ্বরম রাজ ও তুলসী কে রাজ।
রায়ের পরে এই দুই কৃতী আইনজীবী একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান যে পৃথিবীতে প্রায় ৭০টি গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকদের নৈতিক ভুলের জন্য অপরাধী বলে বিবেচনা করা হয় না। তাঁদের বক্তব্য, এই রায় এদেশে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করবে। শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সিদ্ধান্তের নিরিখে নাগরিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
সূত্র: এবেলা



