মোঃ নাজমুল হাসান সেখ: সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আসন্ন ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে করোনাকালীন সময়ে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে ঘরে বসে অনলাইনে “পশুর হাট” নামে পশু বেচা-কেনার মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়েছে।
অ্যাপটি জেলা প্রশাসন সিরাজগঞ্জের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ্ ধারনা দিয়েছে ড. ফারুক আহাম্মদ, জেলা প্রশাসক, সিরাজগঞ্জ ও এ.বি.এম. রওশন কবীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, শিক্ষা ও আইসিটি। প্রজেক্ট ম্যানেজারঃ মো. মাসুদুর রহমান রহমান, সহঃ কমিশনার, জেলা প্রশাসন, সিরাজগঞ্জ।
এতে ৫ ধরণের ব্যবহারকারী রয়েছেঃ
* সুপার এডমিনঃ অ্যাপটি পরিচালনা করার জন্য অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সুপার এডমিন রোল এর ব্যবহারকারীরা থাকবেন। যারা জেলা এডমিন রোল এর ব্যবহারকারী তৈরি করাসহ অ্যাপ এর যাবতীয় সেটিংসগুলো মনিটর করতে পারবেন।
* জেলা প্রশাসন এডমিনঃ এই অ্যাপটি বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবহার করা যাবে। সেক্ষেত্রে সুপার এডমিন প্রতিটি জেলায় একজন করে জেলা প্রশাসন এডমিন তৈরি করে দেবেন। জেলা প্রশাসন এডমিন তার অ্যাকাউন্ট হতে লাইভস্টক এডমিন রোল এর ব্যবহারকারী তৈরি করে দিতে পারবেন এবং তাদের প্রদত্ত তথ্য যাচাই বাছাই করতে পারবেন। এছাড়াও বিক্রেতা এবং পশু সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য রিপোর্ট আকারে দেখতে পারবেন।
* লাইভ স্টক এডমিনঃ লাইভস্টক এডমিন এডমিন সকল পশুর তথ্য যাচাই করবেন। তথ্যগুলো ঠিক আছে কিনা সেটা দেখবেন। তিনি মূলত উপজেলা ভিত্তিক কাজ করবেন। কোনো বিক্রেতা যদি রেজিস্ট্রেশন করেন তাহলে প্রদত্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে সেটি লাইভস্টক এডমিনের কাছে পেনডিং অবস্থায় থাকবে। লাইভস্টক এডমিন যখন সকল সত্যতা যাচাই করে বিক্রেতাকে অ্যাপ্রুভ করে দেবেন তখন বিক্রেতা তার মাধ্যমে অ্যাপে সংযুক্ত হয়ে যাবেন।
* বিক্রেতাঃ যেকোনো লাইভস্টক এডমিন তার অ্যাকাউন্ট থেকে বিক্রেতাকে যুক্ত করতে পারবেন। মূলত প্রান্তিক পর্যায়ের খামারীরা বিক্রেতা হিসেবে যুক্ত হবেন। তবে কোনো বিক্রেতা নিজে অ্যাকাউন্ট খুললে লাইভস্টক এডমিন অ্যাপ্রুভ করে দিলে তার অ্যাকাউন্টটি সচল হবে। বিক্রেতা তার অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর প্রাপ্ত ড্যাশবোর্ড থেকে পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন, গায়ের রং, প্রজাতি, বয়স, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ইত্যাদির বিস্তারিত তথ্য দিয়ে পশুর বর্ণনা পোস্ট করবেন। পরবর্তীতে কোনো পশু বিক্রি হলে সেটিও ড্যাশবোর্ড থেকে চিহ্নিত করে দিবেন।
* ক্রেতাঃ অ্যাপটির মূল ব্যবহারকারী হবেন ক্রেতাগণ। এক্ষেত্রে ক্রেতাকে অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং তার ইংরেজিতে প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারটি অ্যাপে ইউজার নেম হিসেবে ব্যবহার হবে। ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার পর তার জেলার বিভিন্ন খামারীর পশু বিক্রি করার পোস্ট দেখতে পারবেন। কোনো একটি পোস্টের লিংক এ ক্লিক করলে সেখান থেকে ঐ পশুর ছবি ভিডিওসহ বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন এবং বিক্রেতার সাথে যোগাযোগের অপশন পাবেন। সেই অপশন থেকে ক্রেতা বিক্রেতার সাথে সরাসরি ফোনে কথা বলতে পারবেন অথবা অ্যাপের মাধ্যমে মন্তব্য করেও বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। পরবর্তীতে বিক্রেতা আগ্রহী হলে ক্রেতার সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে পশুটি ক্রেতার কাছে সরবরাহের ব্যবস্থা করবেন।
ব্যবহারের সুবিধা:
১.অ্যাপটি বাংলাদেশের যেকোন জায়গা থেকে ব্যবহার করা যাবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই সুপার এডমিন কর্তৃক কোনো নির্দিষ্ট জেলার নূন্যতম একজন জেলা প্রশাসন এডমিন রোলের ব্যবহারকারী তৈরি করে নিতে হবে।
২. জেলা প্রশাসন এডমিন প্রয়োজন অনুযায়ী লাইভস্টক এডমিন রোল এর ব্যবহারকারী অ্যাপটিতে সংযুক্ত করে দিতে পারবেন, যারা পরবর্তীতে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারীদের বিক্রেতা হিসেবে অ্যাপটিতে সংযুক্ত করবেন।
৩. ক্রেতা ও বিক্রেতাসহ অ্যাপের সকল ব্যবহারকারী নিবন্ধনের সময় প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারটি ইউজার আইডি হিসেবে ব্যবহার করে অ্যাপটিতে লগইন করতে পারবেন।
৪. অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড চালিত যেকোনো ডিভাইস থেকে APK ইন্সটল করে অথবা “পশুর হাট” www.poshurhaat.com ওয়েবসাইটটি ব্রাউজ করে যেকোনো ডিভাইস (মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট) থেকে ব্যবহার করতে পারবে।
৫. ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না।
এই অ্যাপটির মাধ্যমে কোনো ক্রেতা ও বিক্রেতা পশু কেনার জন্য সম্মত হলে তারা নিজ সময় মতো দিন ও তারিখ ঠিক করে সরাসরি দেখা করে পশু কিনতে পারবে। করোনার এই মহামারিতে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু কেনার জন্য অনলাইন মাধ্যমে এই অ্যাপসটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে মর্মে জেলা প্রশাসন সিরাজগঞ্জের প্রত্যাশা। APK টি www.poshurhaat.com থেকে ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে।
অ্যাপটির প্রজেক্ট ম্যানেজার মাসুদুর রহমান জানান, সিরাজগঞ্জের সকল খামারিদের এই এ্যাপের মাধ্যমে পশু বিক্রয়ের জন্য আহবান জানাবো। সারাদেশে আমরা প্রচার প্রচারণার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।


