নগরঘাটা ও ধানদিয়ার বাজার গুলোতে পর্নোগ্রাফির রমরমা ব্যবসা

102
পর্নোগ্রাফি

ইয়াছিন আলী : তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা ও ধানদিয়া ইউনিয়নের বাজার গুলোতে কম্পিউটার ব্যাবসার আড়ালে চল‌ছে পর্ণোগ্রাফি ও অশ্লীল ভিডিও’র রমরমা ব্যবসা । আর এ ব্যবসার প্রধান গ্রাহক হ‌লেন তরুন কমলম‌তি কি‌শোর ও যুবক শ্রেণীর ছাত্ররা। যে সম‌য়ে তা‌দের মেধা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটার কথা, ন্যয় অন্যয় ভা‌লো মন্দ জানার কথা, ঠিক সে সময় তারা প‌র্নোগ্রা‌ফি না‌মের অ‌নৈ‌তিক বস্তুর সা‌থে প‌রি‌চিত হ‌চ্ছে। আর এর যোগানদাতা হি‌সে‌বে কাজ কর‌ছে কিছু সংখ্যক অর্থ লো‌ভী ক‌ম্পিউটার ব্যবসায়ী।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ধানদিয়া ও নগরঘাটা ইউনিয়নের অনা‌চে কানা‌ছে না‌মে বেনা‌মে প্রায় ৩৪ টা ক‌ম্পিউটার দোকানে চল‌ছে ভয়ানক এ ব্যবসা। সাতক্ষীরা জেলার লাবনী সিনেমা হলের উপরের মার্কেটে অব‌স্থিত কয়েকটি ভি‌ডিও সেন্টার থে‌কে গান, ছ‌বি ও চ‌লচ্চিত্রের সা‌থে অশ্লীল ভি‌ডিও কি‌নে নেন বি‌ভিন্ন ইউ‌নিয়ন ও থানা পর্যা‌য়ের ছোট ছোট ক‌ম্পিউটার দোকানীরা। পরবর্তী‌তে তা নানা বয়‌সী মানু‌ষের ফোন মে‌মো‌রি‌তে ‌লোড করা হয়। শহ‌রে প্র‌তিষ্ঠিত এসব ব্যবসায়ীরা কোথা থে‌কে সংগ্রহ ক‌রেন এই অশ্লীল ভি‌ডিও জানা গে‌লো অনুসন্ধানে।

এরা অ‌ধিকাংশ পর্ন ভি‌ডিও ইন্টার‌নে‌টের বি‌ভিন্ন পর্ন সাইট ও ইউ‌টিউব থে‌কে সংগ্রহ ক‌রেন । আবার কোন কোন সময় ইন্টার‌নে‌টে প্রকাশ হয়‌নি এমন নতুন নতুন অশ্লীল ভি‌ডিও (যা নানা উপা‌য়ে সংগ্র‌হিত) চরা মূ‌ল্যে কি‌নে নি‌য়ে থা‌কে। যা পরবর্তী‌তে বি‌ভিন্ন পর্ন সাইটের কা‌ছে বি‌ক্রির মা‌ধ্য‌মে ইন্টার‌নেট জগ‌তে স্থান পায়। আর এ ভি‌ডিও গু‌লো খুব সহ‌জেই হা‌তের কাছে পাওয়াতে আসক্ত হ‌য়ে পড়‌ছে নানা বয়‌সী শিশু কি‌শোর ও ছাত্ররা।

সম্প্রতি জার্মান গবেষকদের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের পত্রিকা ডেইলি মেইল জানিয়েছে, পর্নোগ্রাফি দেখার ফলে মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশ সংকুচিত হয়ে যায়। একই সাথে কমে যায় এর কার্যক্ষমতা।

গবেষকরা জানান, মানুষ যখন পর্নোগ্রাফি দেখে তখন মস্তিষ্কের অন্যতম পরিবাহক (নিউরোট্রান্সমিটার) ডোপামাইনে একটি ঢেউ তোলে। এই পরিবাহকটির অন্যতম কাজ আনন্দ এবং সুখের অনুভূতিগুলো বহন করে তাঁর স্মৃতি নিউরণে পাঠিয়ে দেওয়া। একটা সময় মানুষ পর্নোগ্রাফি দেখা ছাড়তে চাইলেও মস্তিষ্ক অভ্যস্ততা থেকে একই রকম ঢেউ চায়, অর্থাৎ পর্নোগ্রাফি দেখতে আসক্ত হয়ে পড়ে।

বর্তমা‌নে দে‌শের নারী সমা‌জের অন্যতম প্রধান সমস্য হি‌সে‌বে জায়গা ক‌রে নি‌য়ে‌ছে ইভ‌টি‌জিং ও যৌন নির্যাতন। যার ভয়াল থাবা থে‌কে বাদ পড়‌ছেনা শিশুরাও। আর এর পেছ‌নে র‌য়ে‌ছে প‌র্নোগ্রা‌ফির কুফল ।

দে‌শের যুব সমাজ‌কে পর্নোগ্রা‌ফির ছোবল থে‌কে বাচা‌তে সরকার ২০১২ সা‌লে পর্নোগ্রা‌ফি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রবর্তন ক‌রে। আইন‌টির সংজ্ঞায় বলা হয়, যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোনো অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য-চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, অঙ্কিত চিত্রাবলী, বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য বিষয়— যার কোনো শৈল্পিক মূল্য নেই– তা পর্নোগ্রাফি হিসেবে বিবেচিত হবে। অধিকন্তু, যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী অশ্লীল বই, পত্র-পত্রিকা, ভাস্কর্য, কল্প-মূর্তি, মূর্তি, কার্টুন বা প্রচারপত্র পর্নোগ্রাফি হিসেবে বিবেচিত হবে। এসবের নেগেটিভ বা সফট ভার্সনও পর্নোগ্রাফি হিসেবে গণ্য হবে। আর এই আই‌নের মাধ্য‌মেন পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, বহন, সরবরাহ,ক্রয়-বিক্রয় ও প্রদর্শন সম্পূর্ন রু‌পে বেআইনী ও নিষিদ্ধ করা হ‌য়ে‌ছে।

আর এ নি‌ষিদ্ধ কা‌জের সা‌থে যুক্ত ব্য‌ক্তির শা‌স্তি সম্প‌র্কে বলা হ‌য়ে‌ছে যে, পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও বিতরণকারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অধিকন্তু ৫ লাখ টাকা জরিমানা আরোপের বিধান র‌য়ে‌ছে।

প‌র্নোগ্রা‌ফি ‌রো‌ধে এই আইন‌টির প্র‌য়োগ হ‌চ্ছে কম। মা‌ঝে মা‌ঝে ২ একটি যায়গায় মোবাইল কোর্ট প‌রিচালনা করা হ‌লেও তুলনামূলক কম শা‌স্তি দেয়ায় পার পে‌য়ে যা‌চ্ছে ব্যবসায়ীরা।

প‌র্নোগ্রা‌ফির ছোবল থে‌কে রক্ষা ‌পে‌তে ধানদিয়া ও নগরঘাটা ইউনিয়নের ছোট বড় ক‌ম্পিউটার দোকান গু‌লো‌তে মোবাইল কোড প‌রিচালনার মাধ্য‌মে শা‌স্তি দেয়া হোক সাধারন জনগনের এমন‌টিই দা‌বি জা‌নি‌য়ে‌ছেন স‌চেতন নাগ‌রিক সমাজ।