এসএম বাচ্চু, তালা প্রতিনিধি : দ্বিতীয় দফায় লকডাউনে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় পুলিশ প্রশাসনের উলেখযোগ্য ভূমিকায় থাকলেও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন দোকানদার,দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ।
তালা উপজেলায় লকডাউন চলমান এই পরিস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। এছাড়া তালা থানা ও পাটকেলঘাটা প্রশাসন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জনগণকে ঘরে ফেরাতে নিরলাস ভাবে কাজ করে চলেছে।সামাজিক রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন।তবে তালা উপজেলা সাধারণ মানুষ গত বছরের লকডাউনে ক্ষতি এখনো পুষিয়ে উঠতে পারিনি। বিগত বছরের ক্ষতি না কাটতেই ২য় দফায় লকডাউন মানতে নারাজ সাধারন মানুষ ও ব্যাবসায়িরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাবসাহী বলেন গত বছরে কোন বেচাকেনা করতে পারিনি এবারো ঈদের আগে এমন হলে আমাদের পথে বসতে হবে।
এক ইজিবাইক চালক বলেন এনজিও থেকে লোন নিয়ে এই গাড়ী কিনেছি বাড়িতে অসুস্থ মা, ছোট ভাই,ছেলে মেয়ে আছে। পুলিশে জেল জরিমানা যতই করুক না কেন গাড়ী চালাতে হবে খাবো কি ,খাবার দেবে কে?
জেলার সবচেয়ে সুবিধা বঞ্চিত উপজেলা হচ্ছে তালা উপজেলা এই উপজেলা থেকে জেলা সদরে ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে। তালা থেকে খুলনাঞ্চলে ও খুলনা শহরে ভ্যান ও রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন শত শত মানুষ। এই ধরনের মানুষ বেশীর ভাগ তাদের দৈনন্দিন রোজগার দিয়ে সংসার পরিচালনা করেন।তা এখন ভেস্তে গেছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তারিফ-উল-হাসান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম তারেক সুলতান এর নেতৃত্বে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিশেষ সচেতনতামূলক অভিযান ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়ে।এসময় মাস্ক ব্যবহার না করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায়, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি বিধি নিষেধ ভঙ্গ করে দোকান খোলা রাখা ও সড়ক পরিবহন আইনে জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমান আদালত। দ্বিতীয় দফায় চলমান অভিযানে প্রায় অর্ধশাতাধিক মামলা ও প্রায় নব্বই হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এসময় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সকলকে সংশ্লিষ্ট আইন ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তারিফ-উল-হাসান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিসিআর ল্যাব ও চিকিৎসক সংকট দূরকরণের দাবি
এসএম বাচ্চু,তালা:
করোনা ব্যবস্থাপনা অধিকতর সহজ ও দ্রæত করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরটি-পিসিআর ল্যাব চালু করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক কমিটিসহ শুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
প্রকাশ,গত বছর এলাকার মানুষের জোরালো দাবির প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা পরীক্ষার জন্য আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়। কিন্তু ল্যাবটি অদ্যাবধি চালু করা হয়নি। স¤প্রতি দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার শঙ্কায় এলাকাবাসীর মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়ে চলেছে। আরটি-পিসিআর ল্যাব চালু না করায় করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শত শত মানুষ। পিসিআর ল্যাব চালু হলে বেশি সংখ্যক মানুষ পরীক্ষার আওতায় আসবে। তখন রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাটাও আরো সুন্দরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
তাল উপজেলাসহ পাশর্^বর্তী এলাকায় করোনাভাইরাস পজিটিভ অনেকেই থাকলেও পরীক্ষা করার সুযোগ তারা পাচ্ছে না। খুলান ও সাতক্ষীরা থেকে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয়। এ কারণে মানুষের আগ্রহটাও অনেক কম। এছাড়া এলাকায় কতগুলা করোনা রোগী আছে সেটাও জানা সম্ভব হচ্ছেনা। এরকম একটা অসচেতনতার মধ্যে আছি আমরা। ইতিমধ্যে করোনার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তালা হাসপাতালের ল্যাবটি চালু করা হলে ভালো একটা ফলাফল বের হবে।এছাড়া টেস্ট কম হওয়া ও রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হওয়ার কারণে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে সঠিক সময়ে শনাক্ত করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
একই সাথে দীর্ঘদিন তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। হাসপাতালে ৩৩ জন চিকিৎসকের জায়গায় কর্মরত আছেন মাত্র ১০ জন চিকিৎসক। এছাড়া হাসপাতালের কোন পরিচ্ছন কর্মী নেই। রয়েছে বিভিন্ন পদে জনবল সংকট। তাই আরটি- পিসিআর ল্যাব চালু করার পাশাপাশি হাসপাতালে দ্রæত চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শূন্যপদে জনবল নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোরালো দাবী জানানো হয়।


