এসএম বাচ্চু,তালা থেকে: তালার তৃণমূলের একজন রাজনীতিক ঘোষ সনৎ কুমার ।তালা উপজেলার হরিশ্চন্দ্রকাটি গ্রামের মৃত: নির্মল চন্দ্র ঘোষের পুত্র ঘোষ সনৎ কুমার (৫৫)। ১৯৭৫ সালে পঞ্চম শ্রেনীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় বাবার সাথে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন ও মুক্তিযোদ্ধা সম লুৎফর রহমানের সান্নিধ্যে ছাত্র লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া সেদিনের সহজ-সরল কিশোরটি আজ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও পর পর দু’মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কাউন্সিলরদের দ্বারা মনোনীত হয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
রাজনীতির মাঠের চড়াই-উতরাই , একাধিক হয়রানিমূলক মামলা, জেল জুলুমে যেমন ছন্দ পতন ঘটেনি ওই রাজনীতিকের তেমনি সকল ষড়যন্ত্রকে তুচ্ছজ্ঞান করে মাথা উঁচু করে আজও নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন দেশের সবচেয়ে প্রাচীনতম সংগঠন আওয়ামী লীগের। আশির দশকে সাতক্ষীরা জেলায় হাতে গোনা যে সকল ডাকসাইটের ছাত্রনেতার আবির্ভাব ঘটেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে ইতিহাসের পাতায় সাক্ষী হয়ে আছেন ঘোষ সনৎ কুমারের নাম।
১৯৮০ সালে তালা কলেজে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ১৯৮২ সালে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি,১৯৮৩ সালে থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এরপর টানা ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের মধ্যেই ১৯৯৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শতকরা ৭৫ ভাগ কাউন্সিলরের ভোটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মধ্যদিয়ে ছাত্রলীগ থেকে সরাসরি আওয়ামী লীগের মূল নেতৃত্বে চলে আসেন ঘোষ সনৎ কুমার। সেখান থেকে একাধিকবার দলের কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হওয়াসহ ২০০৯ ও ২০১৪ সালে কাউন্সিলদের সরাসরি ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী মনোনীত হয়ে টানা ১০ বছর উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
ঘোষ সনৎ কুমারের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে ভিন্ন রাজনীতিক মতাদর্শের মানুষের মধ্যে ভিন্নমত,মন্তব্য ও মূল্যায়ন থাকলেও তালার রাজনীতিক, সাংবাদিক,সুশীল সমাজ ও সাধারন মানুষের মধ্যে একটি বিষয়ে অভিন্ন মতামত ও মূল্যায়ন উঠে এসেছে আর সে-টি হলো দীর্ঘ ১০ বছর উপজেলা চেয়ারম্যানের থাকা ওই মানুষটির দ্বারা কেউ কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। উপরন্ত: উপজেলা চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ন পদে আসীন থেকেও সাদামাটা জীবন-যাপনে অভ্যস্ত সদা হাস্যোজ্জল ওই মানুষটি সাধারন মানুষের বিপদ-আপদের কথা শুনলেই ছুটে গেছেন সবার আগে। রাস্তার ফেরিওয়ালা থেকে শুরু করে ছোট-বড় নানান পেশার মানুষ তার বন্ধু।
উপজেলার প্রত্যেকটি বাড়ী যেমন তার চেনা তেমনি আত্মিক সম্পর্ক বাড়ীর মানুষগুলোর সাথে। ছোট-বড় সকলের সাথেই তিনি বন্ধুসুলভ আচরন ও একসাথে পথচলতে ভালোবাসেন। আসন্ন নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হওয়ার মানসে দলের কাছে আবেদন করেছেন। তবে দল তাকে কিভাবে মূল্যায়ন করবে সাধারন মানুষ তা জানলেও ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে শান্তির দূত হিসেবে তাকে নির্বাচিত করতে কারোরই কার্পন্য থাকবেনা এমনই অভিমত সচেতন মহলের।



