ঠ্যালামারা কাম কর‌্যা দিয়্যা চল্যা যাবে, অগল্যা কাম হামরা চাই না!

22

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি : মান্দার পঞ্চমীতলা-কদমতলী সড়কের বেহাল দশার কবলে পড়ে দীর্ঘদিন থেকে ভোগান্তি পোহাতে হতো পথচারীদের। পরিস্থিতি এমনই ছিলো যে, যেন দেখার কেউ ছিলো না! অবশেষে টনক নড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ছোট যানবাহন, ছাত্রছাত্রীসহ জনসাধারণের চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছিলো রাস্তাটি। এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করে। এরপর মান্দার এলজিইডি কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গত তারিখে সাংবাদিক মাহবুবুজামান সেতু’র লেখা “মান্দার পঞ্চমীতলা-কদমতলী সড়কের বেহাল দশা” শিরোনামে একটি নিউজ বেশকিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ একাধিক স্থানীয়, জাতীয় এবং আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ইতোমধ্যে মান্দার পঞ্চমীতলার বেহাল দশা সড়কের কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, উপজেলার গনেশপুর ইউপির পঞ্চমীতলা মোড় থেকে মৈনম ইউপির কদমতলী মোড় পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা সড়ক ২০০০ সালের দিকে পাকা করা হয়। সড়কটি পাকা হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্কার কিংবা মেরামত না করায় পুরো সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছিলো। এ সড়ক দিয়ে মান্দা-মহাদেবপুর, পাহাড়পুর, গোপালকৃষ্ণপুর, বিন্দারামপুর, চাঁনপুর, নলকুড়ি, দূর্গাপুর এবং বিলদুবলাসহ প্রায় ২০ গ্রামের হাজার মানুষ চলাচল করে থাকে। তারা প্রতিনিয়ত নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক হয়ে সতিহাট বাসস্ট্যান্ডের ওপর দিয়ে উপজেলা ও জেলা সদর, বিভাগীয় শহর রাজশাহী এবং রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন।

এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর হাটবাজারে কৃষিপণ্য বহনে যেমন অসুবিধা পোহাতে হতো,তেমনি জরুরি রোগী নিতেও ভোগান্তিতে পড়তে হতো রোগীর স্বজনদের। সড়কটি নির্মাণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্কার কিংবা মেরামত না করার কারণে পুরো সড়কের কংক্রিট উঠে ছোট-বড় শতশত গর্তসহ খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছিলো।

দূর্গাপুর গ্রামের নাজমুল এবং বিন্দারামপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসসহ আরো অনেকে জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না কারায় মরণ ফাঁদে পরিণত হয়। এটি দ্রুত সংস্কার করা ছিলো আমাদের প্রাণের দাবী। তবে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর দ্রæতগতিতে রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। সেইসাথে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা আশা করবো যে, রাস্তাটির সংস্কার কাজের গুণগত মান যেনো ঠিক থাকে। দায়সারাভাবে কাজ করলে আমরা সেটা মেনে নিবোনা। এবিষয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন সু-দৃষ্টি রাখবে এমনটিই প্রত্যাশা করছি। এর ব্যাত্ত্বয় ঘটতে দিবোনা আমরা। কেননা, রাস্তাটি নির্মাণের এতোদিন পর সংস্কার হচেছ, তাও যদি আবার ফাঁকিজুঁকি দিয়্যা দায়সারাভাবে ঠ্যাকা চালানা কাজ করা হয়; তাহলে সে কাজ করার চেয়ে না করা অনেক ভালো। যেভাবে আছে সেভাবে থাকাই ভালো। তাছাড়া ‘ঠ্যালামারা কাম কর‌্যা দিয়্যা চল্যা যাবে,আর দুই দিন পর সড়কের সব ছাল ছিলকা বা ছাল বাকলা (পিচ) উট্যা যাবে, অগল্যা কাম হামরা চাই না।’

মান্দা উপজেলা এলজিইডি ইঞ্জিনিয়ার শাহ্ মো. শহিদুল হক বলেন, রাস্তাটির টেন্ডার হওয়ার পর ইতোমধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তাটি সংস্কার কাজ শুরু করেছে। আমরা আশাবাদী যে, রাস্তাটি সংস্কার কাজের গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা হবে। কাজে যেনো কোন অনিয়ম না হয়,সে বিষয়ে আমাদের মনিটরিং টিম সার্বক্ষনিক নজরদারী অব্যাহত রাখবে।