ঝিনাইদহের ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তাদের চেক জালিয়াতির শিকার হয়ে ৩ মামলার হয়রানীর শিকার

182
ঝিনাইদহের ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তাদের চেক জালিয়াতির

সাহিদুল এনাম পল্লব, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহে জেলা ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তারা চেক জালিয়াতি করে শাহিনুর রহমান জীবন নামের এক ব্যাক্তির নামে ৫ লক্ষ টাকা ঋণে ১৩ লক্ষ ৫৮ হাজার ৪ শত ৪০ টাকার ৩ টি মামলা দিয়ে হয়রানী করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ কারী জানান ৫ লক্ষ টাকার ঋণে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ, বছরের মধ্যে ৬৫ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার পরও আমার নামে ১৩৫৮৪৪০ টাকার ৩ টি মামলা।

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কোট পাড়ার মোঃ মোজাম্মেল হকের ছেলে মোঃ শাহিনুর রহমান জীবন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর ঝিনাইদহ শাখা থেকে মোবাইল হসপিটালের নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ২০১৪ সালের ১৭ ই নভেম্বর একটি ৫ লক্ষ টাকার ঋণ পাশ করান বলে জানান শাহিনুর রহমান জীবন। তার ভাষ্য মতে সে আরও জানায় যে উক্ত তারিখে ঋণ পাশ করলেও সে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর পক্ষ থেকে একটি চেকের মাধ্যমে ১৮/০২/২০১৫ তারিখে ৩ লক্ষ টাকা এবং ২৩/০২/১৫ তারিখে ২ লক্ষ টাকা পায়।

শাহিনুর রহমান জীবন আরও জানায় যে এই ঋণ নেওয়ার সময়ের ব্যাংকের ঝিনাইদহ শাখার তৎকালীন ভিপি শেখ মোঃ আব্দুস সালাম ও ব্যাংকের আইন জীবী এক সময়ে শৈলকূপা জামাতের আমীর অ্যাডঃ তৈয়ব আলী তার সাথে চুক্তি করে যে তাকে বিশ লক্ষ টাকা ঋণ পাইয়ে দেবে এই মর্মে তাদের ৫৫ হাজার টাকা দিতে হবে। তখন এই ঋণের খরচের বাবাদ তার নিকট থেকে ভিপি শেখ মোঃ আব্দুস সালাম ২০ হাজার টাকা এবং অ্যাডঃ তৈয়ব আলী ২০ হাজার টাকা এবং সার্বে বাবাদ ১০ টাকা নেয়। তবে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ পাশ হওয়ার কারনে চুক্তির বাকী ৫ হাজার টাকা দেয় না। ঋণ নেওয়ার সময়ে তাকে একটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। তাকে কোন চেক বই প্রদান করা হয় না। ঋণ গ্রহণ কালে তার সম্পত্তির দলিল ব্যাংকে জমা রাখে।

জীবন আরও জানায় যেহেতু আমি ব্যাংক থেকে ঋণ পেয়েছি ১৮/০২/২০১৫ ও ২৩/০২/১৫ তারিখে সেই মোতাবেক আমার ঋণের মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হয় ১৭/০২/২০১৫ তারিখে। এই এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ব্যাংকের সুদের টাকা বাবাদ ২/১২/২০১৫ তারিখে ৪০ হাজার টাকা এবং ১/০২/২০১৬ তারিখে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে দুই কিস্তিতে ৬৫ হাজার টাকা জমা দেই। এই টাকা জমা দেওয়ার ৭ দিনের মাথায় ব্যাংক কর্মকর্তারা আমার নামে ২৯/০২/২০১৬ তারিখে ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকার একটি চেক প্রতারনার মামলা দায়ের করে। আমি তাদের একটি ফাঁকা চেক দিয়েছিলাম কিন্ত অন্য একটি ফাঁকা চেকে আমার স্বাক্ষর জাল করে ১২/০৪/ ২০১৬ তারিখে ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকার আরও একটি চেক প্রতারনার মামলা দায়ের করে। একটি চেকে ডিজ অনারের তারিখ দেখান হয়েছে ২৩/১২/২০১৫ ও জাল স্বাক্ষর কারী চেকে তারিখ দেখান হয়েছে ২৭/১২/২০১৫ সাল। তাদের মামলা এখানেই শেষ নয় ১৯/০১/২০১৮ তারিখে ব্যাংক আমার বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৪ শত ৪০ টাকার অর্থ ঋণ মামলা দায়ের করে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা এই মামলা করেই ক্ষান্ত নয় তারা বিভিন্ন সময়ে আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভঁয় ভিতি দেখাতে থাকে । এই মামলা চলাকালীন সময়ে আমি যে হিসাব নম্বর দেখিয়ে মামলা দায়ের করেছে সেই হিসাব ২৭৫৯ নম্বরে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা জমা দেই। পরিশেষ সাংবাদিক দের মাধ্যমে দেশ বাসীর কাছে প্রশ্ন করেন শাহিনুর রহমান জীবন কি ভাবে ঋণ পরিশোধ হওয়ার মেয়াদের আগেই আমার নামে মামলা হোল। ৫ লক্ষ টাকার ঋণ মামলা হল ১৩ লক্ষ ৫৮ হাজার ৪ শত ৪০ টাকার।

এই সকল প্রশ্নের উত্তর খুজতে ঝিনাইদহের বেশ কিছু সাংবাদিক ঝিনাইদহের ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর ঝিনাইদহ শাখা অফিসে গত সোমবার জানতে গেলে শাখা অফিসের বর্তমান এস এ ভিপি মিজানুর রহমান কোন কথা বলতে রাজি হয় নি। সে জানায় বিষয়টি যেহেতু আদালতে বিচারাধীন সেহেতু এই বিষয়ে কোন কথা বলব না। তবে ইসলামী ব্যাংকের ঋণ কে সে ঋণ বলতে এবং সুদ কে সুদ বলতে নারাজ। সে বলে ইসলামী ব্যাংক বিনিয়োগ করে তার লভ্যাংশ নিয়ে থাকে।