ঝিনাইদহে ভুল চিকিৎসায় সন্তান হারাল এক দম্পতি জানাতে গেলে থাপ্পড় মারল নারী চিকিৎসক

33
ঝিনাইদহে শামীমা ক্লিনিকের ডাঃ রেজা সেকেন্দারের ভুল চিকিৎসায় সন্তান হারাল এক দম্পতি

সাহিদুল এনাম পল্লব, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ ঘটনা টা ঘটেছে ঝিনাইদহ জেলায় মুজিব চত্তব্রের পূর্ব পাশে অবস্থিত শামীমা ক্লিনিকে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডেফল বাড়িয়া গ্রামের মফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী ঝিনাইদহে সৃজনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানায় যে প্রায় এক মাস আগে ঝিনাইদহ শহরে অবস্থিত শামীমা ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে যায় রুপালী বেগম (৩০)।

এই সময়ে তার ক্লিনিকে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ক্লিনিক মালিক ডাঃ শামিমা সুলতানা ও তার স্বামী ডাঃ রেজা সেকেন্দার তাদের জানায় যে রুপালীর জরায়ুর নাড়িতে টিউমার হয়েছে। এই টিউমার অপরেশন না করলে ক্যান্সার হয়ে যেতে পারে, আর ও বলে যে শামীমা ক্লিনিকে এই অপরেশন করতে হলে ৯ হাজার টাকা লাগবে। তখন এই দম্পতি বলে যে আমারা এত টাকা জোগাড় করতে পারব না। তখন তারা যুক্তি দেয় যে হামদহ সৃজনী হাসপাতালে অপরেশন করলে ২ হাজার টাকা কম খরচ হবে।

তখন ডাঃ রেজা সেকেন্ডার গত ২২ শে ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতি বার বেলা ২টার দিকে রুপালিকে অপরেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর অপরেশন করার সময় দেখতে পায় যে রুপালীর গর্ভে একটি কন্যা সন্তান। এই অবস্থায় রুপালীর স্বামীকে বলে যে এই সন্তান এখন বাঁচান সম্ভব না আর যদি রুপালীর জরায়ু অপরেশণ না করা হয় তাহলে খুব তাড়াতাড়ী ক্যান্সার হয়ে যাবে এবং রুপালী বাঁচান সম্ভব হবে না।

এই সময়ে হাসপাতালের কর্মচারীরা মিলে ভর্তি ফর্মে লিখে দেয় যে রুপালীর গর্ভে সন্তান আছে বলে রুপালীর স্বামীকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। তারপর রুগীর অপরেশণ করে শিশু সন্তানটি রুপালীর স্বামীকে দেখতে দেয়। তখন মফিজুর রহমান শামীমা ক্লিনিকে যেয়ে ডাঃ শামীমা সুলতানা কে বলে যে খালা আমার স্ত্রীর পেটে যেহেতু বাচ্ছা আছে কেন সেটা আমাদের আগে জানানি।

এই কথা বললে ডাঃ শামীমা সুলতানা মুফিজুর কে গালে থাপ্পড় মেরেবের করে দেয়। এই বলে সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করে এই দম্পতি। মফিজুর আরও দাবী করে যে এই ব্যাপারে ঝিনাইদহ থাকে অবগত করছে।

এই প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলে যে বাচ্চা না এক দেড় মাসের ভ্রূণ নষ্ট হয়েছে। ঘটনা জানার পর আমি নিজে সৃজনী ক্লিনিকে গিয়ে ছিলাম। ঐ ক্লিনিকের পরিবেশ নোংরা আমি ওদের কাগজ পত্র দেখব।যাহাতে মানুষ নিয়ে এই ধরনের ব্যবসা না করতে পারে।তাছাড়া আমি উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে পাঠিয়েছি বলে জানান।