চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গন- দুই জায়গাতেই তিনি সমানতালে কাজ করেছেন। নীরবে নিভৃতে কাজ করতেন। সেই বরেণ্য নির্মাতা সাইদুল আনাম টুটুল আর নেই। মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। এ সময় পাশে ছিলেন তার স্ত্রী মোবাশ্বেরা খানম। টুটুলের বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৫ ডিসেম্বর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন সাইদুল আনাম টুটুল। তাকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
ল্যাবএইড হাসপাতালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (কমিউনিকেশন) সাঈফুর রহমান লেনিন বলেন, ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল তার। তিনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মাহবুবুর রহমানের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবাল বিকাল সোয়া ৩টার দিকে তিনি মারা যান।
গুণী এই নির্মাতার মৃত্যুখবর জানার পর ল্যাবএইড হাসপাতালে ছুটে যান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ, নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, গাজী রাকায়েত, সালাউদ্দিন লাভলু, মাসুম রেজা, শিল্পী আফরোজা বানুসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকে।
এদিকে মঙ্গলবার বিকালে হাসপাতাল থেকে সাইদুল আনাম টুটুলের মরদেহ নেয় হয় তার শান্তিনগরের বাসায়। বাদ এশা বাসার পার্শ্ববর্তী মসজিদে এই নির্মাতার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ জানান, ‘সাইদুল আনাম টুটুলের মরদেহ হিমঘরে রাখা হবে। তার দুই মেয়ে ঐশী আনাম ও অমৃতা আনাম যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। সোমবার বড় মেয়ে ঐশী বাবার অসুস্থতার খবর শুনে ঢাকায় এসেছেন। আর ছোট মেয়ে অমৃতা আজ ঢাকা এসে পৌঁছবেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে জানাজার পর তাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ছোট মেয়ে ঢাকায় আসার পর চূড়ান্তভাবে জানানো হবে।’
সাইদুল আনাম টুটুল ১৯৫০ সালের ১ এপ্রিল পুরান ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। চলচ্চিত্র সম্পাদনার ওপর পড়াশোনা শেষ করে তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে এসে টুটুল দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ চলচ্চিত্রের সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র সম্পাদকের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
চলচ্চিত্র সম্পাদক হিসেবে তিনি আরও সম্পাদনা করেছেন ‘ঘুড্ডি’, ‘দহন’, ‘আগামী’, ‘দুখাই’, ‘দীপু নাম্বার টু’র মতো দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র। সাইদুল আনাম টুটুল ২০০৩ সালে নির্মাণ করেন তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘আধিয়ার’। তিনি বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের একজন খ্যাতিমান নির্মাতা। তার উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে লাল পিরান, বখাটে, সেকু সেকান্দর, ৫২ গলির এক গলি, আপন পর, গোবর চোর, হেলিকপ্টার, নিশিকাব্য, অপরাজিতা ইত্যাদি।
সাইদুল আনাম টুটুল বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। সফল বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতা হিসেবে তিনি প্রায় চারশ’ বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করেছেন।



