কেশবপুরে সরকারি হালট দখল করে টিনসেড ঘরসহ পূজা পরিষদের সাইন বোর্ড

309

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুর উপজেলার কাবিলপুর গ্রামে প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সরকারি হালট জবর দখলের লক্ষ্যে রাতের আধারে অস্থায়ী টিনসেড ঘরসহ পরিত্যাক্ত ঘরে পূজা পরিষদ কার্যালয়ের সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে বাঁশের চটা দিয়ে সরকারি হালট ঘেরার চেষ্টা করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে পুলিশ তা বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করলে তিনি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্যে বাউশলা ইউনিয়ন তহশীলদারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাবিলপুর ও সকসকেনপুর গ্রামে সার্বজনীন পূজা মন্দির সংলগ্ন ২২ শতক সরকারি খাস জমি রয়েছে। দুই গ্রামে ১১০ পরিবার হিন্দু ধর্মাবলম্বী বসবাস করেন। সরকারি এ হালট দখল করে কাবিলপুর গ্রামের শিক্ষক অমল দাস পাকা ল্যাট্রিন, সঞ্জয় কুমার দাস দোকান ঘর ও আনন্দ দাসসহ কতিপয় ব্যক্তি পূজা মন্দিরের নামে দাক্ষণ পার্শ্বে অস্থায়ী টিনসেডের ঘর নির্মাণ করেছে। ৪ বছর আগে দুই গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সরকারি হালট বাদ দিয়ে নিজস্ব জায়গায় মন্দির স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘ ৫০ বছরের পুরানো মন্দির ভেঙ্গে ফেলে অসিম দাসের দান করা জমিতে মন্দির স্থাপন কাজ শুরু করেন।

এ সময় সরকারি হালট দখলকারীদের সাথে গ্রামবাসির বিরোধ শুরু হয়। এর একপক্ষ সরকারি জমিতে মন্দির স্থাপনের পক্ষে এবং অপরপক্ষ সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ব্যক্তি জমিতে মন্দির স্থাপনের পক্ষে অবস্থান নেয়। এ নিয়ে গত ৩ বছর ধরে গ্রামবাসী দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পৃথক মন্দির নির্মাণ করে পূজা-অর্চনা করে আসছেন। কাবিলপুর গ্রামের মনুতোষ দাস অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে এলাকাবাসি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করলে তিনি সদ্য সমাপ্ত হওয়া দূর্গা পূজার এক সপ্তাহ আগে নিজ কার্যালয়ে গ্রামবাসীর স্বাক্ষরিত একটি আপোষনামা তৈরী করেন এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে চলতি বছর উত্তর পাশের মন্দিরে দূর্গা প্রতিমা তৈরী করা হয়।

শিক্ষক অমল দাস, সঞ্জয় কুমার দাস, আনন্দ দাসসহ কতিপয় ব্যক্তির বিরোধিতার কারণে রঙ না করা সেই দূর্গা প্রতিমা অদ্যাবধি মন্দিরে রয়ে গেছে। এদিকে, আপোষনামার এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে শিক্ষক অমল দাস গ্রুপ রাতের আধারে দূর্গা পূজার নামে দক্ষিণ পার্শ্বের সরকারি হালটের ওপর একটি অস্থায়ী টিনসেডের ঘর নির্মাণ করে প্রতিমা তৈরী করে তাতে পূজা-অর্চনা সমাপ্ত করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আপোষনামার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সরকারি হালটের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিলেও তারা আজও অপসারণ করেনি। ফলে চলতি বছর দু‘গ্রামের অর্ধেক লোক দূর্গাপূজা করতে না পারায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এছাড়া হালটটি দখলে রাখতে আনন্দ দাসের টালির ছাউনির পরিত্যাক্ত ঘরের সামনে ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের কার্যালয় নামক একটি সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এরপরও শুক্রবার প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সরকারি হালট বাঁশের চটা দিয়ে ঘিরে জবর দখলের চেষ্টা করলে নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। এলাকাবাসী মন্দির চত্বর সংলগ্ন হালটের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে শিক্ষক অমল দাস বলেন, আমরা সরকারি হালটের সামান্য একটু দখল করেছি। ৫০ বছর ধরে যেখানে পূজা হচ্ছে সেখানেই ঘর করা হয়েছে। তারা বিরোধিতা করে পৃথক মন্দির করে পূজা করছে। হাসানপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লক্ষণ দাস বলেন, সবাই মিলে সরকারি জমি বাদ দিয়ে মন্দির তৈরী করা হয়। কিন্তু পলাশ, মনুতোষসহ কতিপয় লোক সিদ্ধান্ত অমান্য করে মন্দির নির্মাণ করেছে। মন্দিরের ভিটা ত্যাগ করা না করা নিয়ে বিরোধ শুরু হয়েছে। বাউশলা ইউনিয়ন তহশীলদার কার্ত্তিক চন্দ্র বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে সরেজমিনে গিয়ে দখলদারদের সরকারি জায়গা ছেড়ে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

পূজার পরের দিন ভেঙে নেয়ার কথা থাকলেও আজও তারা অপসারণ করেনি। বিষয়টি ইউএনও স্যারকে অবহিত করা হয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান বলেন, সবাইকে এক করে পূজা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সে মতে নলিনী শঙ্কর দাসকে আহবায়ক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া সরকারি হলট বাদ দিয়ে তাদের মন্দির করতে বলা হয়েছে। এ নির্দেশ না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।