আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি :
যশোর অঞ্চলে কুমড়ার বড়ি তরকারী হিসাবে বেশ জনপ্রিয় খাবার। শীতের শুরু থেকেই খাদ্য তালিকায় থাকে কুমড়ার বড়ি। এটি তৈরির কারিকুলামেও রয়েছে মুন্সিয়ানা।
কুমড়ার সাথে কলাইয়ের ডাল পিসে কাপড় অথবা বিশেষ নেটে ছোট ছোট বড়ি বানিয়ে রৌদ্রে শুকালেই খাওয়ার উপযোগী হয়ে উঠে। এতে খাবারের তালিকায় আসে পরিবর্তন। এর বিশেষ মহাত্ব হচ্ছে, এটি একবার তৈরি করে সারাবছর খাওয়া যায়।শীতের শুরু থেকেই এসব দৃশ্য যশোর জেলার কেশবপুর এলাকা জুড়ে দেখা মিলছে। পাড়ার বাড়ির ছাদে, উঠোনে, কিংবা বিলের ধারে- যার যেখানে সুবিধা সেখানেই রৌদে শুকানো হচ্ছে এসব বড়ি। এর আগে বর্ষার মৌসুমে গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি পরিবারই কুমড়োর গাছ লাগায়। গোয়ালঘর, থাকার ঘর, রান্না ঘরের ছাদে বা চালা জুড়েই দেখা মিলে কুমড়া গাছের লতা-পাতা। কোন প্রকার সার ছাড়াই বেড়ে ওঠে এসব গাছ। প্রথম পর্যায়ে কাঁচা কুমড়া তরকারী হিসাবে খাওয়া হয়, বাকি গুলো রেখে দেওয়া হয় বড়ি তৈরি জন্য।পাকা কুমড়ার সঙ্গে কালাইয়ের ডাল টেকিঁতে বা মেশিনে মিশিয়ে মন্ডাকার বানানো হয়। পরে নেট, টিন, চালনী বা পরিষ্কার কাপড়ে মন্ড থেকে ছোট ছোট বড়ি বানিয়ে রোদে শুকাতে দেওয়া হয়। এরপর এটিকে তরকারী হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এককেজি কালাইরের ডালের সঙ্গে তিনটি কুমড়া পিষে বড়ি বানালেই খাওয়া যায় সারা বছর। কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামের নূর জাহান বেগম (৬৫) এর সাথে তিনি বলেন, আমরা কুমড়ো, আর গ্রাম্য ভাষায় বলি ঠিকরে কোলয় ঢেঁকিতে কুটে যে বড়ি তৈরী করি সেইটা খেতে অনেক মজার। কিন্ত কিছু মানুষ ব্যবসা করতে তৈরী করে পেপে, কচুর এটে, এজাতীয় বিভিন্ন জিনিস দিয়ে। সেই গুলো বিক্রি করে হাটবাজারে।এ নিয়ে কথা হয় কেশবপুরের মুদি দোকানদার মকছেদ আলী (৬০) এর সাথে, তিনি কপোতাক্ষ নিউজকে বলেন আমরাও তাই শুনি, কথা হয় দোকানী আব্দুল্লাহসহ আরো অনেক দোকানীর সাথে যারা মুদি মালের সাথে কুমড়ো বড়িও বিক্রি করে।এভাবেই কেশবপুর এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে সারাবছর খাওয়ার জন্য নারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তরকারি হিসাবে তৈরি হচ্ছে কুমড়ার বড়ি।


