কেশবপুরে অনাবৃষ্টিতে ফলন বিপর্যয় : বাজারে পানের দাম বেশি, পান চোরেরা বেপরোয়া

13

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুরে অনাবৃষ্টিতে ফলন বিপর্যয় বাজারে পানের দাম বেশি হওয়ায় চোরেরা পান খেত থেকে পান চুরি করে নিচ্ছে বলে শিরোনামে গত ২ নভেম্বর একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পান চোররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এদিকে শুক্রবার সকালে বায়সা গ্রামের সন্তোষ ঘোষের পান বরজ থেকে চোরেরা প্রায় ১০ হাজার টাকার পান চুরি করে বস্তায় ভরে নিয়ে যাওয়ার সময় চোরদের ধাওয়া করলে চোরের তাদের পোশাক পরিবর্তন করে দ্রুত পালিয়ে যায়। একই দিনে অরুণ ঘোষের পান বরজ থেকে প্রায় ১২ হাজার টাকার পান চুরি করে চোরেরা। এসময় পান খেতের মালিক অরুণ ঘোষ টের পেয়ে পান খেতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই চোর পান রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়। এসব চোরেরা একের পর এক পান চুরি করে চলেছে।

অপরদিকে পানের বরজের মালিককে রাত জেঁগে পাহাড়া দিতে হচ্ছে পান ক্ষেত। উল্লেখিত গত ১৫ দিনে উপজেলার বায়সা ঘোসপাড়ার ৫ পান চাষির ক্ষেত থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার পান চুরি হয়ে গেছে। গত বছর একই সময় এক রাতে এক চাষির ৩০ শতক ক্ষেত থেকে প্রায় লক্ষ টাকার পান চুরি হয়ে ছিল।

বায়সা গ্রামের শিবুপদ ঘোষের ক্ষেত থেকে ২৯ অক্টোবর রাতে প্রায় ৪ হাজার টাকার পান চুরি হয়ে যায়, ২০ অক্টোবর রাতে সন্তোষ ঘোষের বরজ থেকে প্রায় ৫ হাজার টাকার পান, ১৮ অক্টোবর রাতে মশিয়ার রহমানের বরজ থেকে প্রায় ৬ হাজার টাকার পান, ১৬ অক্টোবর রাতে শিবুপদ ঘোষের পান ক্ষেত থেকে প্রায় ৭ হাজার টাকার পান ও ১৫ অক্টোবর রাতে অরুন দাসের পান ক্ষেত থেকে প্রায় ৯ হাজার টাকার পান চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা।

এ ঘটনার পর থেকে এলাকার পান চাষিরা রাত জেগে ক্ষেত মালিক তার পান ক্ষেত পাহারা দিয়ে আসছেন। পান চাষি সন্তোষ ঘোষ জানান, রাত্রি জেঁগে পাহারা দিয়েও ক্ষেতের পান চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। যেন চোর আমাদের পাহারা দেচ্ছে। আমরা যখন ক্ষেত থেকে বাড়ি আসি সে সময়ের মধ্যে পানের ক্ষেতে চোর হানা দেয়। চলতি বছরে অনা বৃষ্টির কারনে পানের ফলন অনেক কম । অপর দিকে বাজারে পানের দাম বেশ চড়া। বর্তমান কেশবপুর বাজারে বড় পান ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকাই বিক্রি হচ্ছে।

মাঝারি সাইজের পান ৮০ থেকে ১০০ টাকা পন দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষক সন্তোষ ঘোষ আরো জানান, গত বছর এই সময়ে তার ৩০ শতকের পান ক্ষেত থেকে এক রাতে প্রায় লক্ষ টাকার পান চুরি হয়ে যায়।