নিজস্ব প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটায় আয়োজিত ১৪ দল ও মহাজোটের নির্বাচনী জনসভায় নৌকা প্রতিকের প্রার্থী এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেছেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে ক্ষমতায় যাওয়ার অধিকার নেই।
পবিত্র কুরআন ও গীতা পাঠের মাধ্যমে ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি স.ম আক্তারুল আলমের সভাপতিত্বে তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও তালা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরদার মশিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন,সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে নৌকা প্রতিকের বিরোধি প্রার্থী বিএনপির তিনটি দলীয় মামলার আসামী,বিগত ১০ বছর এলাকা থেকে আন্তগোপনকারী হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
তিনি আরো বলেন,জামায়াত-বিএনপি ২০১৩ সালে সাতক্ষীরাকে মিনি পাকিস্তানে তৈরি করেছিলো।মানুষ ঘরে থেকে বের হতে পারিনি।তাই আমি আপনাদের বলবো আপনারা ৩০ তারিখ সারাদিন নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করার জন্য আমাকে পূনরায় নির্বাচিত করুন।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন স্বাধীনতার স্বপক্ষের ও বিপক্ষের নির্বাচন।কোনো ভাবেই একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা আবারো দেশের ক্ষমতায় আসুক এটা আমরা চায়না।আ’লীগের ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে ভিশন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করুন।
এসময় বক্তারা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন পর পর তিন তিন বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন অর্জন করেছে।হাওয়া ভবন খুলে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।পূনরায় যদি সেই জামায়াত-বিএনপি ক্ষমতায় যায় তাহলে দেশে জয় বাংলা বলার মত লোক থাকবেনা।বক্তারা বলেন,ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে শেখ হাসিনা সরকারের বিকল্প নেই।
বিগত দশটি বছর আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে,এর আগে বিএনপি ক্ষমতায় ছিলো।বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে দেশের জনগন কি পেয়েছে, আর আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে দেশের মানুষ কি পেয়েছে সেটা সবাই জানে।
শেখ হাসিনা এখন আন্তর্জাতিক মানের নেতা।কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ বিদেশি অনেকগুলো পুরষ্কারে তিনি ভুষিত হয়েছেন।এই নগরঘাটায় প্রায় ১৫ হাজার ভোট।ভোট দেবার অধিকার জনগনের, আর পাওয়ার অধিকার যিনি কাজ করেছেন তিনি।যিনি জনগনের জন্য দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তিনি হলেন দেশ নেত্রী বঙ্গকণ্যা শেখ হাসিনা।সেজন্য নগরঘাটার ১৫ হাজার ভোট নৌকায় চাই বলে বক্তারা জনগনের কাছে দাবি আহ্বান।
বক্তারা আরো বলেন,যারা মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে,জোর করে কৃষকের জমির ধান কেটে নিয়েছে,রাস্তার গাছগুলো কেটে ফেলেছে,মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষর্ব করেছে তাদের ভোট চাওয়ার ও ভোট পাবার অধিকার নেই।সেজন্য আসেন বাংলাদেশের উন্নয়নের মার্কা,বঙ্গবন্ধুর মার্কা, শেখ হাসিনার মার্কা নৌকাকে বিজয় করার জন্য ৩০ ডিসেম্বর সারাদিন নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের যাত্রাকে সহজ করে দেই।
স্বাধীনতার পরও বহুবার বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থেকেছে। কিন্তু লুটপাট, দুর্নীতি ছাড়া দেশের জনগণের জন্য কিছুই করেনি। একসময় দিনে দুপুরে বিভিন্ন ইউনিয়নে মানুষ শান্তিতে চলাফেরা করতে পারতো না। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে, নিশ্চিন্তে ঘরে ঘুমাতে পারে।আপনাদের সেই দলকে ভোট দেওয়া উচিত যে দল উন্নয়নের জন্য কাজ করেছে, যে দল দেশের স্বাধীনতা এনেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নয়ন হয়েছে। সরকারের উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে গেছে বিএনপি। দেশে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আ’লীগের বিকল্প নেই। ফলে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে আ’লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে হবে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন,সাবেক প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ স.ম অালাউদ্দীনের কণ্যা ও জেলা মহিলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতি,জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ কামাল শুভ্র,তালা উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার,উপজেলা আ’লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ঈদ্রিস আলি,উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও তালা সদরের চেয়ারম্যান সরদার জাকির।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাতক্ষীরা -১ আসনের নির্বাচন সমন্বয়ক মহাসিন মোড়ল,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মফিজউদ্দীন,জেলা আ’লীগের উপপ্রচার সম্পাদক ও তালা প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব ঘোষ বাবলু,উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জাকির হোসেন,উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাদি,সাধারণ সম্পাদক মশিউর আলম সুমন।
সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান,ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান লিপু,নগরঘাটা কবি নজরুল বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক সাইদুল আলম বাবলু,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন মন্ডল,ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ সহ আ’লীগের সকল অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক,ইউনিয়ন-জেলা,উপজেলার নেতৃবৃন্দ ও নেতা-কর্মীরা,ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা বৃন্দ সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা।



