আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুরে লাভলু বাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনে যুবলীগ কর্মী সাজ্জাত হোসেনের দু‘পা ভেঙে পঙ্গু হয়ে গেছে। ওই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি পঙ্গু হওয়াই বর্তমান তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। ওই বাহিনীর হাতে পাঁজিয়া এলাকার পর্যায়ক্রমে ২০ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী মারপিটের শিকার হয়ে অনেকেই এলাকা ছেড়ে ভয়ে রাত্রি যাপন করছে। এরপরও থেমে নেই ওই বাহিনীর তান্ডব। শনিবার দুপুরে কেশবপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পঙ্গু যুবলীগ কর্মী সাজ্জাত হোসেন আকুতির সাথে লাভলু বাহিনীর অত্যাচারের এ কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠকালে সাজ্জাত হোসেন বলেন, কেশবপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পাঁজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুলের ভাইপো আবু সাঈদ লাভলু পাঁজিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্যক্তিকে চাকরী দেয়ার কথা বলে, ঘের, ঘর, জমি দখলসহ নাশকতা মামলায় ঢোকানোর ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ৮৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা আদায় করেছেন বলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়।
এ ঘটনায় গত ১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯ টার দিকে পাঁজিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাত হোসেনকে দোষারোপ করে আবু সাঈদ লাভলু ও তার ভাই ফাইল নাজমুলসহ ১৫/১৬ জন সন্ত্রাসী তাকে পাঁজিয়া বাজার থেকে ধাওয়া করে ধরে একটি বাঁশ বাগানের ভেতর নিয়ে গাছের সাথে হাত পা বেঁধে মুখের ভেতর রুমাল ঢুকিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে দু‘পা ভেঙে দেয়। ওই রাতেই মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে আনলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ওই বাহিনীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় অবশেষে গত ২২ অক্টোবর সাজ্জাত হোসেন বাদি হয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করে।
আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্যে পিআইবিকে নির্দেশ দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাজ্জাত হোসেন বলেন, তিনি ১৯৯৭ সালে পাঁজিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান পাঁজিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের একজন সদস্য। বসতভিটা ৬ শতক জমি ছাড়া তার আর কিছুই নেই। ওই দোকানের আয়ের ওপরই চলে তার ৪ সদস্যের সংসার। বর্তমান অর্থাভাবে তার চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে তার উন্নত চিকিৎসার জন্যে লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন।
এছাড়া ইতোপূর্বে ওই বাহিনীর হাতে লাভলুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনকে টিউবয়েলের হাতল দিয়ে মারপিট করে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন থানায় মামলা করতে গেলে উল্টো তাকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়। সেই থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন পলাতক জীবন যাপন করছে। ২০১৬ সালে তার বাড়ি পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। যার মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সাজ্জাতের স্ত্রী রেহেনা সাকি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান ওই বাহিনীর লোকজন আদালত থেকে মামলা তুলে নিতে তার পরিবারকে একের পর এক ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। ফলে তার পরিবার ভয়ে রাত্রি যাপন করছে। এরপরও ওই বাহিনী এলাকায় চাঁদাবাজি, ঘের দখল, লুটপাট, সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। তাদের হাতে আওয়ামীলীগের মাসুম বিল্লাহ, রফিকুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ চক্রবর্ত্তী, গণেশ হালদার, প্রশান্ত বিশ্বাস, শাহীনুর রহমানসহ কমপক্ষে ২০ জন নেতা কর্মী নির্যাতনের শিকার হলেও ভয়ে কেউ এর প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি।
তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাহিনী প্রধান লাভলু ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সাহায্যে আবেদন জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলো ওই পরিবারের একমাত্র ৮ বছরের পুত্র সন্তান রাশেদুল হাসান ফয়সাল।



