মোঃ নয়ন হোসাইন পীরগঞ্জ, প্রতিনিধি : স্বামী মারা যাওয়ার ৬ বছর পার হয়েছে। বয়স ষাট বছর। বিধবা/বষস্ক ভাতার জন্য আবেদন নিবেদন করেও পাননি। মানুুষের বাড়িতে কাজ করে মানষিক প্রতিবন্ধী সন্তান মমিনুলকে নিয়ে কোন মতে দিন কাটছে তার। এখন ঠিকমত চোখে দেখতে পান না। সে কারণে অন্যের বাড়ির যে কাজ করেন তাও যায় যায় অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলো কিভাবে কাটবে তা নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ঠাকুরগাওয়ের পীরগঞ্জ পৌর শহরের রঘুনাথপুর মহল্লার জয়নব বেওয়া। সে ভাবনাই তাড়া করছে তাকে। রাত দিন দু’চোখে ঘুম নেই তার। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন, এখনেই ভাতা হবে না। সময় লাগবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পীরগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর (মুন্সিপাড়া) মহল্লার দিনমজুর মৃত মুনসুর এর স্ত্রী জয়নব বেওয়া। ৬ বছর আগে তার স্বামী মারা যায়। ম্বামী দিনমজুরী আর জয়নব অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে যা উপর্জন করতো তা দিয়েই চলত তাদের সংসার। স্বামীর মৃত্যুর পর তার এক মাত্র ছেলে মোঃ মমিনুল বাদাম বিক্রি করে কিছু আয় করে মায়ের সংসারে সাহায্য করতো। কিন্তু কিছু দিন পর হঠাৎ মমিনুল মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। মানষিক রোগীতে পরিণত হয় সে। উপার্জন করার পরিবর্তে মায়ের সংসারে বোঝা হয়ে দাড়ায় মমিনুল। সংসারের বাড়তি চাপ পড়ে জয়নবের উপর। আগে দু’টি বাড়ি কাজ করলেও এ অবস্থায় সংসারের ঘানি টানতে বাধ্য হয়েই তাকে আরো কাজ খুজতে হয়। এরপর ৪টি বাড়িতে ঝি’এর কাজ শুরু করেন তিনি। গোলাম রব্বানী নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন। দুু’ বছর আগে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মমিনুলকে চিকিৎসার জন্য পাবনা মানষিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে সাড়ে তিন মাস চিকিৎসা করেও কোনো লাভ হয়নি মমিনুলের। সেখান থেকে ফিরে এসে আরো অবস্থার অবনতি হয় তার। এখন মাঝে মাঝে সে তার মার উপর ক্ষিপ্ত হয়।
এদিকে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই বিধবা অথবা বয়স্ব ভাতা পাওয়ার জন্য পৌরসভায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুড়াঘুড়ি করছেন। কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদনও করেছিলেন। এতেও কোন কাজ হয়নি।
জয়নব বেওয়া বলেন, স্বামী মারা যাবার পর আমি অনেক কষ্ট করেছি। কেউ কোনো দিন খোঁজ নেই নি আমার। এর যে ছেলেটিকে নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছিলাম। সেও এমন হয়ে গেলো। আমার জীবনে কয়েক বছরে অন্ধকার নেমে এসেছে। মানুষের বাড়িতে সারাদিন কাজ করতে হয়। বয়স বেশি হওয়ায় চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে। একচোখ দিয়ে অল্প করে দেখা যায়। কিভাবে কাজ করবো তা ভেবে পাচ্ছি না। ঠিকমত কাজ করতেও পারছি না। এতে বাড়ি ওয়ালারাও বোকাঝোকা করছে। কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিতে চাচ্ছে। অনুনয় বিননয় করে কাজ ধরে রেখেছি। পৌরসভায় ঘুড়ে ঘুড়ে ক্লান্ত হয়ে গেছি। কোন প্রকার ভাতা পাইনি। ওর্য়াড কাউন্সিলর রশিদুলের কাছে বছরের পর বছর ঘুড়ছি বিধবা ভাতার কার্ড এখনো করে দেয়নি। এখন হতাশা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। কিভাবে আগামী দিনগুলি কাটাবো- সে দুশ্চিন্তায় দু’চোখে ঘুম আসে না।
এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর রশিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি জানেন। নতুন করে বিধবা ভাতার কোন কার্ড হয়নি। এখনই হবে না। আগামীতে কার্ড হলে জয়নবকে দেওয়া হবে।



