নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের নামাজ শুরু হয়।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় ও পশু কুরবানির মধ্য দিয়ে পালন করেছে ধর্মীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম এ উৎসব। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে মুসলিমরা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা উদযাপন করে। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শ্যের প্রতিকী নিদর্শন হিসেবে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বছর আগে থেকে শুরু হয় কোরবানির এই প্রচলন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানী করতে উদ্যত হয়েছিলেন।

সে সময় আল্লাহ্ পাক বেহেস্ত থেকে একটি দুম্বা ঐ একই কোরবানী করান। ঐ পরীক্ষায় হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগ মহান আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়ে যান। ওই অনন্য ঘটনার স্মরণেই ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির এ রেওয়াজ চালু হয়। মহান আল্লাহ পাকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, তার সন্তুষ্টি অর্জন এবং তারই রাস্তায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এ ঐতিহাসিক ঘটনার ধারাবাহিকতায় মুসলিম বিশ্বে কোরবানী ও ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়ে আসছে।
ঈদের জামাত শেষে দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। জামাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা জালাল উদ্দীন।কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জামাতে সাতক্ষীরা সদর ২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ নিজাম উদ্দীন, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হক বকুল, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান।
বৃষ্টির কারনে অধিকাংশ স্থানে স্থানীয় মসজিদে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন মুসুল্লীবৃন্দ। এর আগে সকাল ৭টা ১৫ মিনিট, সাতক্ষীরা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ঈদের জামাতে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নেতৃবৃন্দ।

পরে জেলা প্রশাসক সকল পর্যায়ের মানুষের মানুষের সাথে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন।এদিকে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমানসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীরা সকল স্তরের মানুষের সাথে মিলিত হন পুলিশ লাইন চত্বরে। সেখানে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন।
নামাজ শেষে জেলা পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান সকল পর্যায়ের মানুষের মানুষের সাথে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন। ঈদের এ বিশেষ দিনে মুসুল্লীরা পরস্পরের সাথে কোলাকুলি ও করমর্দন করে ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ।



