একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথগ্রহণ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে তাদের শপথগ্রহণ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আজ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীও শপথ নেন।
তবে অসুস্থ্যতার কারণে, সৈয়দ আশরাফ ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনুপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচিত ৭ সদস্য শপথ গ্রহণ করেননি। তবে, বগড়া-৭ আসনের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করীম বাবুল শপথ নিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে ওই সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হবে।
গেল মঙ্গলবার, নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গেজেট প্রকাশের পর, নির্বাচন কমিশন শপথের প্রস্তুতি নিতে, জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দেয়। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ হওয়ার তিনদিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করা এবং ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আজ শপথগ্রহণ শেষে, নবনির্বাচিত সাংসদরা সংসদ সচিবালয়ের স্বাক্ষর খাতায় সই করেন। নিয়ম অনুযায়ী, শপথ শেষে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা বৈঠক করে নিজেদের সংসদ নেতা নির্বাচন করবেন।
গেল ৩০শে ডিসেম্বর রবিবার, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে, ২৯৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গাইবান্ধা-৩ আসনের প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এছাড়া, নির্বাচনে অনিয়মের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ফলাফল স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পরে ২৯৮টি আসনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচনের পরদিন গেল সোমবার ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় পায়।
নির্বাচন কমিশনের দলভিত্তিক ঘোষণা করা ফলাফল অনুযায়ী- আওয়ামী লীগ-২৫৭ টি, জাতীয় পার্টি-২২টি, ওয়ার্কাস পার্টি-৩ টি, জাসদ-২ টি, বিকল্পধারা-২টি, তরিকত ফেডারেশন-১টি, জাতীয় পার্টি (জেপি)-১টি আসন পায়।
অন্যদিকে, বিএনপি-৫টি ও গণফোরাম-২টি আসনে জয়ী হয়। এছাড়া তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন।



