লাদাখ সীমান্তে চীনের ৪৩ সৈন্য হতাহতের দাবি ভারতের

94

অনলাইন ডেস্ক: লাদাখ সীমান্তের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীন সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। ভারতের সেনা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

২০ সেনা নিহতের বিষয়টি স্বীকার করে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে জানিয়ে ভারতের সেনা বাহিনীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদ সংস্থা এএনআই।

পাশাপাশি ভারতের সেনাবাহিনী দাবি করছে, সোমবারের এই সংঘর্ষে চীনের ৪৩ জন সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছে।

যদিও চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও হতাহতের সংখ্যা জানানো হয়নি। তবে চীনের গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, সংঘর্ষে চীনা সৈন্যরাও হতাহত হয়েছে। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, এতে চীনের অন্তত ৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন।

এদিকে সংঘর্ষের পর ভারতীয় সৈন্যদের বিরুদ্ধে সীমান্ত অতিক্রম করে চীনা ভূখণ্ডে প্রবেশের অভিযোগ এনেছে বেইজিং। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান দাবি করেন, সোমবার ভারতীয় সেনারা দুবার সীমান্তরেখা অতিক্রম করেছে। তারা উসকানিমূলকভাবে চীনের সেনাদের আক্রমণ করে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

তবে ভারতের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পূর্ব লাদাখে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলাকালীন চীনা সেনারা ‘একতরফাভাবে’ স্থিতিশীলতা পরিবর্তনের চেষ্টার কারণেই গালওয়ান উপত্যকায় এই সহিংস ঘটনা ঘটেছে। চীনা সেনারা উচ্চ পর্যায়ের চুক্তি অনুসরণ করলে এই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।

উল্লেখ্য, সোমবারের ওই সংঘর্ষে প্রথমে ৩ জন ভারতীয় সেনা নিহতের কথা জানানো হলেও মঙ্গলবার রাতে এ সংখ্যা ২০ জন বলে নিশ্চিত করে ভারতের সেনাবাহিনী।

ভারতীয় সেনা বাহিনী মঙ্গলবার বিবৃতিতে আরও জানায়, সোমবার রাতের ওই সংঘর্ষে কোনো পক্ষ থেকে গুলি চালানো হয়নি। সেনাদের মৃত্যু হয়েছে হাতাহাতি, রডের ব্যবহার ও পাথর ছোড়াছুড়িতে।

ভারতীয় সেনা সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, গুরুতর জখম হওয়া ১৭ ভারতীয় সেনার বৈরি আবহাওয়ার কারণে খোলা আকাশের নীচে মৃত্যু হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অত উঁচুতে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় আর টিকে থাকতে পারেনি তারা।

সৈন্যদের সীমান্ত অতিক্রম এবং সংঘাতে জড়ানোর এ ঘটনায় দিল্লির কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বেইজিং।

ঘটনার পর পর ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দেশটির সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা এ বৈঠকে ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরও উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তা জানা যায়নি।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা বৈঠকে বসে উত্তেজনা নিরসনের চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের পর সম্ভবত এই প্রথম ভারত-চীন সীমান্তে সামরিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

ত্তথ্যসূত্র: বিবিসি, এএনআই, এনডিটিভি, গ্লোবাল টাইমস চায়না, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট