রেফারি তৈয়ব হাসানের ঐতিহাসিক জার্সিটি বিক্রি হলো ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকায়

42

অনলাইন ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে নিলামে তোলা সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়ব হাসানের ঐতিহাসিক জার্সিটি বিক্রি হলো ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকায়।

শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১০টায় অকশন ফোর অ্যাকশন’র পরিচালনায় অনলাইনে পরিচালিত নিলামে অংশ নিয়ে সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নাছিম ফারুক খান মিঠু পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জার্সিটির দাম হাকান ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত এটিই ছিল সর্বোচ্চ মূল্য।

নাছিম ফারুক খান মিঠুর পূর্বে সাতক্ষীরার তুফান কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচারক শেখ তানজিম কালাম জার্সিটির দাম হাকান ২ লাখ টাকা। এছাড়া কুয়েতে অবস্থানকারী সাতক্ষীরার আরেক ব্যবসায়ী ইমাদুল ইসলাম এর দাম হাকান তিন লাখ টাকা। সর্বশেষে সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নাছিম ফারুক খান মিঠু ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্য দিয়ে জার্সিটি নিজের ঘরে নেওয়ার বন্দোবস্ত করেন।

রেফারি তৈয়ব হাসান বলেন, রেফারিং করার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। অনেক সময় পরিবারকে সময় দিতে পারিনি। এমনকি বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতে গিয়েও অনুশীলন করতে হয়েছে। জীবনে অনেক ম্যাচ পরিচালনা করেছি। তবে ২০১৩ সালে সাফের ফাইনাল পরিচালনা করা জার্সিটি আমার কাছে অন্যরকম। এই জার্সিটির সমুদয় অর্থ করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যয় করা হবে।

নিলামে নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন, তৈয়ব হাসান আমাদের সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান। তার উদ্যোগটি ভালো। সবকিছু মিলিয়েই সেই কারণে কেনা।

প্রসঙ্গত, নিলামে তোলার জন্য ঘোষিত জার্সিটি পরেই তৈয়ব হাসান ২০১৩ সালে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবলের ফাইনাল পরিচালনা করেছিলেন। সেবারই প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার কোনো রেফারি সাফ ফুটবলের ফাইনাল পরিচালনা করেন। সেই দিক থেকে তৈয়ব হাসানের এই জার্সিটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

তৈয়ব হাসান বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। টানা ১০ বছর এএফসির এলিট প্যানেলেও ছিলেন তিনি। ১৯৯৯-২০১৬ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছরে ১০০ এর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বর্তমানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রশিক্ষক হিসেবে নতুন রেফারি তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন এই কিংবদন্তী রেফারি।