আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি: অবশেষে কেশবপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। যশোর-সাতক্ষীরা-খুলনা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, যশোর-কেশবপুর-চুকনগর সড়কটি চার লেনে উন্নতিকরণের। তার প্রেক্ষিতে সরকারি বরাদ্দে এডিবির অর্থে অবশেষে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের রাজারহাট হতে কেশবপুর হয়ে চুকনগর পর্যন্ত চার লেন রাস্তার নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এতদিন যাবৎ ছিল অবহেলিত। ফলে সাধারণ মানুষ ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের বিড়ম্বনা পোহাতে হতো।
এ বিষয়ে মাছ ব্যবসায়ী মোজাহার আলী জানান, এই রাস্তা হওয়ার ফলে দক্ষিণ অঞ্চলের পণ্য সরাদেশে দ্রুত পৌঁছিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে দক্ষিণ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আর্থিক দিক থেকে লাভবান হবে। এই মহাসড়কটি শেষ হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসমূহের স্থলবন্দর ভোমরা, চিংড়ির রাজধানী সাতক্ষীরা কালীগঞ্জ, শ্যামনগর, খুলনার, কয়রা পাইকগাছার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের সফলতা বয়ে আনবে পাশাপাশি ব্যাপক আর্থিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন সাধিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যশোর সড়ক ও জনপদ বিভাগ ৩৬৬ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়ন হচ্ছে। যা একনেক বরাদ্দ দিয়েছে। সূত্রমতে সড়কটিতে ৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। সিডিউল অনুযায়ী সড়কটি চওড়া ১০.৩ মিটার অর্থাৎ ৩৩ ফুট ও দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার। জানা যায়, আগামী ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে এ কাজ স¤পন্ন করতে নির্দেশনা রয়েছে। সড়ক নির্মাণের ধরন হবে ফ্লেকসিবল পেভমেন্ট ও রিজিড পেভমেন্ট। ৩৮.২৬৫ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক বন্যামুক্ত রাখতে উঁচু করা হবে। এ প্রকল্পের পিএম নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, রাস্তার সিডিউল নিয়ম অনুয়ায়ী তৈরি করা হচ্ছে। রাস্তা সংক্রান্ত কোনো গাফিলতি মেনে নেয়া হবে না।
কেশবপুরে ৩য় শ্রেণির কর্মচারীদের ৫ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান
আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদের কেশবপুর উপজেলা শাখা ৫ দফা দাবি পূরণের লক্ষ্যে সোমবার বেলা ১১টার সময় স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদের সদস্যরা উপজেলা চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার এমএম আরাফাত হোসেন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি তুলে দেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদ যশোর জেলা শাখার সমন্বয়ক মধুসূদন সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম খান, কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি স্বপন কুমার মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট ৩য় শ্রেণি কর্মচারীদের ন্যূনতম ১১তম গ্রেড দেওয়া, শিক্ষার্থী সংখ্যা অনুপাতে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা, পদের নাম পরিবর্তন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা/ অফিস সুপার করা, পেশাগত উন্নয়ন কম্পিউটারসহ অন্যান্য বিষয়ে উচ্চতর ট্রেনিংয়ের দ্রুত ব্যবস্থা করা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত চাকরিবিধি-২০১২ দ্রুত বাস্তবায়ন ও প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটি/ গভর্নিং বডিতে কর্মচারীদের একজন সদস্য রাখার ব্যবস্থা করা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দ্রুত উচ্চতর পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা এবং সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করার দাবি করা হয়।
কেশবপুরে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
কেশবপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাজাসহ জাকির হোসেন ফকির নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে৷ তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে ৷
থানা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দীনের নির্দেশে উপ-পরিদর্শক আজিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পৌর শহরের মাছ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকির হোসেন ফকিরকে (২৮) মাদক বিক্রির সময় হাতে-নাতে গ্রেফতার করে৷ ওই সময় তার কাছ থেকে ১১ পিচ ইয়াবা ও ১শত গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়৷ সে পৌরশহরের আলতাপোল গ্রামের আবু তাহের বিশ্বাসের ছেলে। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয় ৷ তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাহয়েছে ৷ আগেও তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বুধবার সকালে গ্রেফতারকৃত আসামীকে যশোর আদালতে প্রেরণ করা হবে৷
কেশবপুরে পান চাষে ভাগ্য বদল জগ্ননাথ নন্দীর
কেশবপুরে জগ্ননাথ নন্দী নামে এক পান চাষ করে ভাগ্য বদল হয়েছে । পান চাষ করে যা উপার্জন হয় তাই দিয়ে চলে জগ্ননাথ নন্দীর সংসার। ছেলে ১০ম শ্রেণিতে পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে তার বাবার সাথে পানের বরজে কাজ করেন।
জগন্নাথ নন্দী উপকারভোগী সদস্য আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প কেশবপুরের সাঁগরদাড়ি দক্ষিণ গ্রাম উন্নয়ন সমিতি থেকে ২০১৪ সালে ঋণ গ্রহণ করে ১৫ শতক জমি নিয়ে প্রথম পান চাষ শুরু করেন।
সেই ঋণের টাকা নিয়ে তিনি তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে শুরু করেন পান চাষ। আর তার এ কাজে সাখে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী-পুত্র। তিনি গত সাত বছর ধরে এ প্রকল্পের সদস্য আছেন। সর্বশেষ ঋণ গ্রহণ করেন ৪০ হাজার টাকা। বর্তমানে ৩ বিঘা জমি হারি নিয়ে পান চাষ করছেন। প্রতি বছর হারি দিতে হয় ১ লাখ টাকা। পানের বরজই তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। এর থেকে যে অর্থ উপার্জন হয় তা দিয়েই সংসার চলে তাদের। পান চাষ করে এখন তিনি স্বাবলম্বী। নিজের ক্ষেত থেকে পান তুলে সাঁগরদাড়ি ও কেশবপুরের হাটে বিক্রি করেন।জগ্ননাথ নন্দী বলেন, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প হতে ঋণ গ্রহণ করে পানের বরজ শুরু করি। পান বরজ থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে আমাদের সংসার চলে।সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠ সহকারী রেজওয়ান হোসেন বলেন, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প হতে ঋণ গ্রহণ করে সাগরদাঁড়িতে প্রায় ১২৮০ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন আয়বর্ধক খামার করেছেন। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক সুভংকর বিশ্বাস বলেন, জগ্ননাথ নন্দীর মতন অসংখ্য মানুষের ভাগ্যবদল হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সারা দেশের ন্যায় কেশবপুর উপজেলায়ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নপ্রসূত আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক হতে ১১টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভাসহ গাভী পালন, হাঁস-মুরগি পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, মাছ চাষ নার্সারি, সবজি চাষ, পান চাষ ও হস্তশিল্পসহ ১০৩৪৫টি আয়বর্ধনমূলক প্রকল্পে পঁচিশ কোটি টাকা ঋণ বিনিয়োগ চলমান আছে।
কেশবপুরে ঐতিহ্যবাহি ৮ দলীয় হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত
আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
হাজারও দর্শকের উপস্থিতিতে কেশবপুরের নেপাকাটিতে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে মঙ্গলবার দিনব্যাপী গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহি ৮ দলীয় হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেপাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত ওই হাডুডু খেলায় বড়বাগ সবুজ দল ২-০ ব্যবধানে পাঁজিয়া দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
নেপাকাটি যুব সমাজের আয়োজনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ওই হাডুডু খেলা উপভোগ করার জন্য সকাল থেকেই দর্শকরা মাঠে হাজির হতে থাকেন। কখনও দাঁড়িয়ে আবার কখনও বা বসে দর্শকরা এ খেলা আনন্দের সাথে উপভোগ করেন। নারী দর্শকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তর স¤পাদক হারুনার রশীদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ী দলের টিম ম্যানেজার এবং অধিনায়কের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ লাভলু, প্রধান শিক্ষক প্রভাত কুমার কুন্ডু প্রমুখ।উপজেলার বেলকাটী গ্রাম থেকে খেলা দেখতে আসা নেয়ামত আলী খাঁ (৯২) বলেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকেই যেখানেই হাডুডু খেলা হয় সেখানেই তিনি দেখতে যান। গড়ভাঙ্গা থেকে আসা যুবক তরিকুল ইসলাম জানান, খেলা উপভোগ করার জন্য সকাল ৯টায় মাঠে এসে হাজির হন। নারী দর্শক শিখা রাণী বলেন, হাডুডু খেলা দেখার জন্য সকালেই বাড়ির কাজ গুছিয়ে এসেছি।খেলায় চ্যাম্পিয়ন দলকে একটি ফ্রিজ ও রানার্স আপ দলকে টেলিভিশন পুরস্কার দেওয়া হয়। খেলায় রেফারীর দায়িত্ব পালন করেন তজিবুর রহমান ও নুরুল ইসলাম খান।
অসহায় মেহেদী হাসানের পাশে এমপি শাহীন চাকলাদার
আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়া কেশবপুরের মেধাবী ছাত্র যশোরের কেশবপুর উপজেলার আলতাপুর গ্রামের মৃত মোমিন গাজীর দুই ছেলের বড় ছেলে যশোর সিটি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত ছাত্র মেহেদী হাসানের পাশে যশোর-৬ কেশবপুরের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার।
কপোতাক্ষ নিউজে ২৮ ডিসেম্বর সোমবার ‘মেধাবী ছাত্র মেহেদী বাঁচতে চায়,বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এমপি শাহীন চাকলাদার এমপি শেখ হেলাল কে জানান।পরবর্তীতে এমপি শেখ হেলালের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী ফিরোজ আহমেদ এর মাধ্যমে মেহেদী হাসানের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।এদিকে এমপি শাহীন চাকলাদার অসহায় মেহেদী হাসানের পরিবাবের সকল খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানান মেহেদী হাসানের ছোট ভাই।মেহেদী হাসান দুইটি কিডনী নষ্ট হয়ে ও মস্তিষ্কের ইনফেকশন নিয়ে খুলনা গাজী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এমপি শাহীন চাকলাদার ও এমপি শেখ হেলাল মেহেদীর পাশে দাড়িয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করছেন বলে জানিয়েছেন মেহেদী হাসানের মা।


