মান্দায় ২০ দিন ধরে অবরুদ্ধ একটি পরিবার

10

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দা উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতা এবং পারিবারিক দ্বন্দের জের ধরে একটি পরিবারকে প্রায় ২০ দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে ওই পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না।

পরিবারের গৃহকর্তা রিয়াজ উদ্দিন (৫৫) এলাকার মাতব্বরদের কাছে ধর্না দিয়েও এই অবরুদ্ধ থেকে মুক্তি না পেতে থানায় অভিযোগ করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না।

জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে ওই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ইটের তৈরি বাড়ির খলিয়ানের পূর্ব- দক্ষিণ ও উত্তর- পূর্বসহ বাড়ির সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে আজিজুর রহমান বলেন, আমার দাদার দুই স্ত্রী। আমার দাদী বড়। আমার দাদীর পেটের আমার বাবা একা। আমার দুটো ফুফু আছে। আমার এক ফুফু ইতোমধ্যে মারা গেছেন। আমরা তিন ভাই সে ফুফুর ছেলের কাছ থেকে ফুফু যে পরিমান জমির অংশিদার তার মধ্য থেকে আমাদের চলাফেরার সুবিদ্বার্থে বাড়ির আশেপাশে তিন মৌজায় মোট ২২ শতক জমি আমরা গত ৬ অক্টোবর অতিরিক্ত দামে কেনার জন্যই ঈশর্^ানীত হয়ে তারা আমাদেরকে অবরুদ্ধ করতে তারা এহেন ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড ঘটায়।

কিন্তু হঠাৎ করেই সৈয়দপুর গ্রামে বসবাসকারী একই বংশের বৈপিত্রিয়/ বৈমাত্রেয় অংশিদার মৃত এনায়েতুল্যার ছেলে আশরাফ আলী, আশরাফ আলরি ছেলে আহসান হাবিব, সরবতুল্যার ছেলে বিরাজ হোসেন,মৃত মতুল্যার ছেলে আব্দুল খালেক, মৃত হুরমতুল্যার ছেলে বেলার এবং দুলাল আমাদের ফুফাতো ভাই সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ২২ শতক কবলাকৃত জমি দখল না দিয়ে সে জমিতে গত ৭ অক্টোবর তাদের ভাড়াটে লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে এসে আমাদের বাড়ির সামনে পাগাড় খুঁড়ে গর্ত করে জোরপূর্বক কিছু গাছ লাগানোর পাশাপাশি ওই জমিতে তারা বাঁশের বেড়াও লাগায়। কিন্তু থানায় অভিযোগ করার পর সে বেড়াটি খুলে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার একই গ্রামের ইন্তুুল্যার ছেলে মুজাহার,হরমতুল্ল্যার ছেলে হেলাল সোনার,বেলাল,শমসের,সরবতুল্যার ছেলে সিরাজ,বিরাজ এবং ইদু সোনারের ছেলে খোরশেদ আলী সহ সঙ্গবদ্ধ ভ‚মিদূস্যচক্রের সহায়তা ও প্ররোচনায় বাঁশ বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধসহ আমাদের বাড়ির সবদিক বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানায় ভ‚ক্তভোগী পরিবারের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে আজিজুর রহমান।

গত প্রায় ২০ দিন ধরে আমরা পরিবার নিয়ে বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে আছি। আমরা কোনোভাবেই বেড়া ডিঙ্গিয়ে চলাচল করতে পারছি না।

বাড়ির বাইরে যেতে চাইলে প্রতিপক্ষরা নানা হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আমরা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছি না। বর্তমানে আমরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগতেছি। আমরা এর থেকে পরিত্রাণ পেতে চাই।

ভুক্তভোগীদের দাবি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তিনি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি ও মাতব্বরদের কাছে ধর্না দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে গত ৭ অক্টোবর থানায় অভিযোগ করলেও তারও কোনো ফল দেখছি না।

ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিপক্ষের কোন লোকজনকে না পাওয়ায় তাদের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।

অপরদিকে উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ হানিফ উদ্দিন মন্ডল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমার জানা, তবে তারা উভয়পক্ষই যদি মীমাংসা না করে তাহলে আমাদেরই কি-বা করার আছে। তবে আমি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বসে মীমাংসার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। আমি আশা করছি অতিদ্রæত এর একটা সমাধান হবে।

এদিকে মান্দা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত না নয়। এব্যাপারে এখন পর্যন্ত কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।