মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি: শীতের প্রভাবে জনজীবন ভয়াল অবস্থায়। জীবন বিপন্নপ্রায় অনেকের। দেশের উত্তরাঞ্চলে মানুষের মৃত্যুর মিছিল। তাপমাত্রার খবরে সবার চোখ। তবুও এই অবস্থায় শহরের ফুটপাতে বা বিভিন্ন মোড়ে শীতকালীন খাবারের দোকান আর দোকান ঘিরে সবার ব্যস্ততা। নানা রকম পিঠার পাশাপাশি অনেক এগিয়ে আছে ডিমের জায়গা। সিদ্ধ ডিমে সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেখা যায় শীতের এরকম সময়েই।
পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং সুস্বাদু খাবার ডিম। আর তাই কাঁচা কিংবা সিদ্ধ সব ডিমেরই ব্যবসা জমজমাট। কাঁচা থেকে সিদ্ধ হতেই দাম প্রায় দ্বিগুণ হলেও চাহিদায় ছেদ পড়ছে না এতটুকুও। আর মানুষের এই চাহিদার কারণে সিদ্ধ ডিম বিক্রিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন অনেকেই।
এই ব্যবসার ওপর ভর করে মান্দা উপজেলাতেও জীবন ধারণের ব্যবস্থা করা মানুষেরা সংখ্যাও কম নয়।
উপজেলার প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার ও ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান বা রাস্তার পাশে বসে বিক্রেতাদের সিদ্ধ ডিমের ব্যবসা দেখা যায়।
হাঁস, মুরগি ও কোয়েল পাখির সিদ্ধ ডিম বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানে। এর মধ্যে হাঁস ও দেশি মুরগির সিদ্ধ ডিম ১৪-১৫ টাকা, ফার্মের মুরগির ১০ টাকা এবং কোয়েল পাখির ডিম ৩ থেকে ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গরমের সময় একেক দোকানে প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০টি মতো ডিম বিক্রি হতো। আর এখন শীতকালে তা ডাবল (দ্বিগুণ) হয়ে যায়। তখন প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০টি ডিম বিক্রি করেন তারা। আর এই জেঁকে বসা শীতে সিদ্ধ ডিমের দোকানে উপচে পড়া ভিড়।
মান্দার সতিহাটের সিদ্ধ ডিম বিক্রেতা মৈনম ইউপির দূর্গাপুর গ্রামের বয়তুল সোনারের ছেলে আসমত আলী (৪৮) বলেন, দীর্ঘ ২৫-২৬ বছর যাবৎ এই পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার তেমন জায়গা জমি নেই। বাড়ি ভিটাসহ হয়তোবা দুই থেকে আড়াই বিঘা সম্পত্তি হতে পারে। পরিবারে ১ ছেলে, ১ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার। আর এসব ডিম বিক্রির টাকায় চলে সংসার। তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে ডিম সংগ্রহ করে থাকেন বলে জানান। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে হাঁস মুরগীর কাঁচা ডিমের জোড়া ২০ টাকা ।আর ব্রয়লার বা পোল্টি মুরগীর ডিম কিনতে হয় ৭২০ থেকে ৭৪০ টাকা শ’ এবং কোয়েল পাখির ডিম প্রতি পিস আড়াই থেকে পনে তিন টাকায় কিনতে হয়। এসব ডিম সিদ্ধ করার পর বাজার দর বিক্রি করে থাকেন । সবাই যে দামে বিক্রি করে থাকে তাকেও সে দামে বিক্রি করতে হয়।


