মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় দৈনিক কিস্তি থেকে শুরু করে ব্লাঙ্ক চেক বন্ধক,সাপ্তাহিক ও মাসিক দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য যেন দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যবসার কল্যাণে অনেকেই জিরো থেকে হয়েছেন হিরো। অপরদিকে এদের ফাঁদে পড়ে অনেকেই হয়েছেন ভিটেমাটি ছাড়া। এদের কারণে সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হচ্ছে অধিক পরিমাণে।
এদের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, রিকশাচালক থেকে শুরু করে শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং চাকুরিজীবি।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ উপেক্ষা করে উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী অঞ্চল থেকে শুরু করে হাটে-বাজারে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে শুধুমাত্র সাধারণ একটি পাশবহি’র মাধ্যমে একটি অফিস ঘর সৃষ্টি করে জমজমাট ভাবে দৈনিক কিস্তির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যবসা এখন আর শুধু গ্রামের মধ্যেই সিমাবদ্ধ নেই। এ ব্যবসা এখন শহরের বাসা-বাড়ী থেকে শুরু করে একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে আবার কোথাও নাম সবর্স্ব সাইনবোর্ড এবং নামমাত্র সমিতি বা ক্লাব তৈরি করে প্রকাশ্যেই সুদ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দাদন ব্যবসায়ীগণ।
যার নেই কোনো সরকারি অনুমোদন। এদের নিকট ৯০ দিনের পরিশোধ সাপেক্ষে দৈনিক কিস্তির টাকা নিয়ে প্রতিদিন ১০,০০০ টাকায় লাভ আসলসহ দিচ্ছেন ১২০ টাকা। তার মানে প্রতিদিন এদের লাভ হচ্ছে ২০ টাকা। যা চক্র বৃদ্ধির সুদকেও হার মানিয়েছে। এই ব্যবসায়ীরা আবার এনজিও’র মত ব্যবসা শুরু করছেন ‘সাপ্তাহিক কিস্তি’। এদের কাছে বিপদে পড়ে চেক বন্ধক রেখে টাকা নিচ্ছেন শিক্ষক ও চাকুরীজীবীগণ।
এখানে নিয়ম আবার মাস শেষে বেতন ওঠানোর সময় বন্ধক রাখা চেকটি ওই দাদন ব্যবসায়ীর নিকট টাকা দিয়ে অথবা দাদন ব্যবসায়ী কে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে টাকা ওঠাতে হয়। মাসিক সুদ ব্যবসা আবার অন্যরকম! সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর বা জমির দলিল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দেন।
এখানে ১,০০০ টাকায় প্রতিমাসে লাভ গুণতে হয় ২০০ টাকা। এইভাবে যখন এদের মাসের লাভ ও মূল টাকা আটকে যায় তখন এই দাদন ব্যবসায়ীরা ফান্দে ফেলে কৌশলে জমি লিখে নিয়ে ভিটেমাটি ছাড়া করছেন এদের নিকট বিপদে কি আপদে টাকা নেওয়া ভুক্তভোগীদের ।পরে ঋৃণ গ্রহিতারা সময়মত টাকা পরিশোধ করতে না পারার কারণে দাদন ব্যাবসায়ীরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে রণকৌশল অবলম্বন করছেন। সেগুলোর মধ্যে চেক ডিসঅনার মামলা অন্যতম। এছাড়াও ভয়ভীতি দেখাতে এবং কৌশলে টাকা উদ্ধারের জন্য ঋৃণ গ্রহিতাদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। সেইসাথে টাকা দিতে না পারলে এদের কাছে হচ্ছেন হয়রানি ও অপমানিত।
আর অপমানিত ও হয়রানি থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগীগণ বাধ্য হয়ে নিজের থাকার জায়গাটুকু হারিয়ে অনেকেই হয়েছেন গ্রাম ছাড়া। এ ভাবেই দাদন ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন ‘জিরো থেকে হিরো’? সচেতন ও অভিজ্ঞমহল বলছেন এই কুখ্যাত দাদন ব্যবসায়ীদের এখনই যদি লাগাম টেনে না ধরা যায় তাহলে পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি দিনদিন বৃদ্ধি পাবে। তাই এদের লাগাম টেনে ধরার জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরী আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা । দাদন ব্যবসায়ীর নিকট জমি,গাড়ি, বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব মান্দা উপজেলার অনেকেই।


