মাহবুবুজ্জামান সেতু,নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় ‘জেলা লোকাল গভর্ণমেন্ট এ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে মান্দার ইউএনও খন্দকার মুশফিকুর রহমান শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্য্যালয়ে উপস্থিত শুভেচ্ছা স্বারক ক্রেস্ট মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হাতে তুলে দিয়ে সম্মাননা জানান ৭নং প্রসাদপুর ইউ’পির সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম হোসেন মন্ডল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নওগাঁ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডা:ইকরামুল বাড়ি টিপুসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ। উল্লেখ্য,গত ৬ জুন (শনিবার) নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি শ্রেষ্ঠত্বের ক্রেস্ট প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো: হারুন-অর-রশিদ।
বাংলাদেশে এ ধরনের আয়োজন প্রথম উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বলেন, কোন কাজের মুল্যায়ন করা না হলে কাজের স্পৃহা হারিয়ে যাবে। এই পুরস্কারের মাধ্যমে সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধিদের জনসেবা নিশ্চিত করতে আরও উৎসাহিত করবে। আগামীতে তাদের ভাল কাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
জানা গেছে, গত ২০১৮ সালের ২০ মার্চ ৩২তম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে মান্দায় যোগদান করেন খন্দকার মুশফিকুর রহমান। তিনি যোগদানের পর থেকে জনবান্ধব প্রশাসন গড়া, অধিকতর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে চলেছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছেন। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহী করতে কাজ করে চলেছেন। তিনি নিজ উদ্যোগে কয়েকটি লাইব্রেরী গড়ে তুলেছেন। শুধু উপজেলাকে মডেল হিসেবে নয়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে চলেছেন।
১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়নে ১১ টি মিনি শিশু পার্ক তৈরি মিনি শিশু পার্ক তৈরী করেছেন এবং বাঁকি ৩ টি ইউনিয়নেও মিনি শিশুপার্ক তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে। যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন অাছে। এছাড়াও অবকাঠামোর উপর জোর দেয়া, এসডিজি আলোকে আরো প্রকল্প নেয়া, মান্দার পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটিয়েছেন।
বিশেষ করে উপজেলা পরিষদে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ডিজিটাল হাজিরা ও পরিচিতি কার্ডের ব্যবস্থা, ডিবেটিং, কালচারাল ও বিজ্ঞান ক্লাব, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগই যথেষ্ট’ শিরোনামে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুসুম্বা শাহী মসজিদে নারী গোসল ও অজু ঘাট সংষ্কার, আবর্জনা রাখার নির্দিষ্ট স্থান, স্কাউটদের নিয়ে কাজ করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বালুমহাল উচ্ছেদ, স্ট্রিক্ট লাইট স্থাপন, নারীদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা, স্বল্প সুদে ঋনের ব্যবস্থা, কৃষকদের নিয়ে কাজ করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করন, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, খাস জমি উদ্ধার, জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে পুকুর কাটার ব্যাপারে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহন, ইটভাটার গ্যাসের বিষাক্ত ছোবল থেকে রক্ষা পেতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, পুকুর লিজের ব্যাপারে স্বচ্ছ ভুমিকা, ভিক্ষুক পূর্নবাসন, হাটের অবৈধ টোল আদায় বন্ধ ও ইজারার ক্ষেত্রে বৈধতা যাচাই, ট্রাক্টরের উপর পলিথিন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা, অটোচার্জারের ডান পাশ ঘিরে দেয়া, চার্জার ভ্যানের ঝুঁকিপূর্ণ লাইট বন্ধ, খাদ্যে ভেজাল রোধ, অতিরিক্ত দ্রব্যমূল্য রোধ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সহ গুরুত্বপূর্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন তিনি।
স্থানীয় সরকার অবকাঠামোর সাথে সম্পৃক্ত উপজেলা পর্যায়ে ৯ ক্যাটাগরীতে এবং জেলা পর্যায়ে ১১ ক্যাটাগরীতে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা, কর্মচারী, জনপ্রতিনিধিসহ ১১০ জনকে ভাল কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এরমধ্যে জেলা পর্যায়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমানকে শ্রেষ্ঠ ইউএনও হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।



