মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দায় শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ ভাঁরশো ইউনিয়ন পরিষদের শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় শতাধিক মৌচাকে মৌমাছি বাসা বেঁধেছে। গত ৩ বছর ধরে শীতকালে এ ইউনিয়ন পরিষদের চারপাশের কার্নিশে এবং সামনে ও পেছনের গাছগাছালিতে এভাবেই মৌমাছি চাক বাঁধে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মান্দার দেলুয়াবাড়ি -চৌবাড়িয়া হাটে যাওয়ার পথে লক্ষীর মোড় থেকে কয়েক’শ হাত দক্ষিণে ভাঁরশো ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। এর পূর্ব পার্শ্বে একটি বৃহৎ বটগাছ এবং উত্তরে নাম না জানা বেশ কয়েকটি গাছ। তার আশে পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে সরিষার সমারোহ। আর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের কার্নিশে একে একে প্রায় শতাধিক মৌচাকে মৌমাছি বাসা বেঁধেছে। সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজার হাজার মৌমাছির গুঞ্জরণে এ পরিষদ এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে।
ভাঁরশো ইউনিয়ন পরিষদের একটি ভবন, ভবনের সামনের বটগাছ, ভবনের পেছনে অন্যান্য গাছে এবং ভবনের কার্ণিশে এতো মৌচাক আর মৌমাছির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়তই অজস্র মানুষ এখানে ভিড় করছে।
ভাঁরশো ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন জানান, আমি নির্বাচিত হবার পর থেকে গত প্রায় ৩ বছর ধরে প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসে মৌমাছির দল তার ইউনিয়ন পরিষদে এসে বাসা বাঁধে আর আষাঢ় মাসের দিকে চলে যায়। ইতিপূর্বে এক বিল্ডিং-এ এভাবে কখনোও মৌচাক বাসা বেঁধেছে কি-না তা জানা নেই। তবে, এটা আল্লাহর অশেষ নিয়ামত। তাছাড়া এটা সম্ভব না। তিনি আরো জানান যে, প্রতি বছর শীত মৌসুমে অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ক্ষেতের পাশে দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিরা কৃত্রিমভাবে মৌবাক্স স্থাপনের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে থাকলেও এসব মৌচাক থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমান মধু আহরণ করা যায়।
সরিষা ফুল থেকে আহরিত ওইসব কৃত্রিম মধু থেকে এ মধুর চাহিদাও ব্যাপক। প্রতি কেজি মধু ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতি বছর এ মধু বিক্রি করে যে পরিমান টাকা বাড়তি আয় হয়। তা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নে কাজ করে থাকি। বিশেষ করে এবছরে মধু বিক্রির টাকা দিয়ে শীতার্থদের জন্য শীতবস্ত্র ক্রয় করা হয়েছে। যা গরিব,দু:খী ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরন অব্যাহত আছে।
এসব মৌমাছি সব সময় উড়ে বেড়ালেও কারো গায়ে হুল ফোটায় না, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা বা সেবাপ্রত্যাশীদের উপরও এসব মৌমাছি কখনও আক্রমণ করে না বলে জানান তিনি।



