মধুসূদন পদক পাচ্ছেন দুই কবি

176

আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি : (২৫ জানুয়ারি) শনিবার অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৬ তম জন্ম দিন। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোরের কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদ তীরের সাগরদাঁড়ি গ্রামে জমিদার রাজ নারায়ণ দত্ত ও মাতা জাহ্নবী দেবীর পরিবারে জন্ম নেন শ্রী মধুসূদন দত্ত। তিনি বাংলা ভাষায় সনেট প্রবর্তনের মাধ্যমে মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন বিশ্ব দরবারে।

তিনি সুদুর ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে বসে মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে রচনা করেছেন অসংখ্য সাহিত্য কর্ম। মেঘনাধ বধ কাব্য, শর্মীষ্ঠা নাটক, বুড়ো শালিকের ঘাঁড়ে রো নাটক, কৃষ্ণ কুমারী নাটকসহ অসংখ্য সাহিত্য কর্ম রচনা করেন অল্প সময়ে। ছেলে বেলায় নিজ গ্রামের এক পাঠশালায় মাওলানা লুৎফর রহমানের কাছে শিশু মধুসূদন তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন।

কিন্তু গাঁয়ের পাঠশালায় তিনি বেশি দিন শিক্ষা লাভ করতে পারেননি। পিতা রাজনারায়ন দত্ত কর্মের জন্য পরিবার নিয়ে কলকাতার খিদিরপুরে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে মধুসূদন দত্তকে চলে যেতে হয়। শেষ জীবনে অর্থাভাব, ঋণগ্রস্থ ও অসুস্থতায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। এরপর সকল চাওয়া পাওয়াসহ সকল কিছুর মায়া ত্যাগ করে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতায় মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দিবসটি স্মরণে প্রতিবছর সংষ্কৃৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠ পোষকতায় যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম জয়ন্তি ও সপ্তাহব্যাপী মধু মেলার আয়োজন করা হয়। এবারও সাগরদাঁড়িতে মহাকবির জন্ম জয়ন্তিতে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে। মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান জানান, এবার মধুসূদন পদক পাচ্ছেন ২ জন কবি।২৮ জানুয়ারি মধু মেলার শেষ দিনে তাদেরকে পদক প্রদান করা হবে।

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২৫ জানয়ারি জন্ম বার্ষিকী থাকলেও এসএসসি পরীক্ষার কারণে এবার ২২ জানুয়ারী বুধবার থেকে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা।এদিকে মধুমেলার ৩য় দিনে শুত্রæবার মধুমঞ্চে মধুমেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফের সভাপতিত্বে ও পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জী এবং দৈনিক প্রতিদিনের কথা পত্রিকার সাংবাদিক উৎপল দের সঞ্চালনায় বাংলা কবিতায় আধুনিকতায় ও মাইকেল মধুসৃদন দত্তের উপর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখবেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ।বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখবেন ঢাকা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগি অধ্যাপক ও গনযোযোগ এবং সাংবাদিকতা এস এম শামীম রেজা,পীরক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক যশোর শিক্ষা বোড়ের মাধব চন্দ্র রদ্র।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখবেন যশোর রামকৃষ আশ্রম ও রামকৃষ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞান প্রকাশানন্দ,দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সিনিয়ার সাংবাদিক শ্যামল সরকার,যশোর প্রেসক্লারেব সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান,কেশবপুর মধুসৃদন একাডেমীর পরিচালাক কবি খসরু পারভেজ,বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক সুকুমার দাস কেশবপুর সম্মিলনী সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান,, খুলনার চুকনগর কলেজের সহকারী অধ্যাপক হাশেম আলী ফকির,বাংলাদেশ টেলিভিশন যশোর জেলা প্রতিনিধি ওহাবুজ্জামান ঝন্টু,পাঁজিয়া মনোজ্ঞ ধীরাজ একাডেমীর পরিচালাক এম এ হালিম,স্বাতম বক্তব্য রাখেন মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান প্রমুখ।

তারা “মধুসূদনের আন্তর্জাতিকতা ও আন্তর্জাতিক বিশ্বে মধুসূদন” বিষয়ের ওপর আলোচনা করবেন। এছাড়া মধু মেলার মাঠে মধু ভক্তদের আনন্দ উপভোগের জন্য সার্কাস, ইঞ্জিন ট্রেন, মৃত্যুকুপ, নাগোরদোলা, যাদু প্রদর্শনী, কৌতুকসহ বিভিন্ন বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া প্রতিদিন মধুমঞ্চে বিভিন্ন দলগত সংগীতানুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের খ্যাতিমান কণ্ঠ শিল্পীরা এখানে সংগীত পরিবেশন করছেন। প্রতিবারের ন্যায় মেলায় আগতদের মাঝে মেলা আকর্ষণীয় করে তুলতে মেলার উন্মুক্ত মঞ্চে কবিতা আবৃতি, নাটক, যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলার মাঠে বসেছে নানা ধরনের আকর্ষনীয় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। মধুমেলাকে ঘিরে ৩য় দিনে সাগরদাঁড়িতে দূর-দুরান্ত থেকে আসা মধু ভক্তরা আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছে। মধুমেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ অশ্ল¬ীলতামুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মধুমেলাতে সব কিছু শালীনতার মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করার জন্য কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে।

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবু সাঈদ জানান, অতীতের ন্যায় মেলাকে নিয়ে কোন বির্তকের সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। যে কোন উপায়ে মেলার সুশৃংঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন, মেলায় মধুভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও পাশাপাশি ডিবি, জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সাথে প্রয়োজন মতো সাদা পোশাকে পুলিশ ও র‌্যাব-৬ বলবৎ রয়েছে। এছাড়া মেলার মাঠে একাধিক নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ভাবে শতাধিক যুবকদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে সেচ্ছাসেবক বাহিনী।মেলায় মধুভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ একাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।