বিভ্রান্ত দল চেনার কিছু উপায়

82
বিভ্রান্ত দল চেনার কিছু উপায়। ছবি- লাল সবুজের কথা।

বর্তমানে মুসলমানদের মাঝে আছে যেমন কয়েক ডজন ধর্মীয় ফেরকা-মাযহাব, তেমনি আছে নানা নামের নানান সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, পীরের দরবার ও খানকা, সিলসিলা, আরো আছে নানান কিসিমের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সামরিক ও জঙ্গি সংগঠন।

এদের মধ্যে কারা সত্যিকার ইসলামের অনুসরণ করছে, আর কারা দিকহারা হয়ে ইসলামের নামে অন্য কিছুর অনুসরণ করছে, তা বোঝার জন্য কিছু লক্ষণ বা আলামত জেনে রাখা ভাল।

তবে প্রথমেই বলে নিচ্ছি, বিভ্রান্ত পথহারা দল চেনার উদ্দেশ্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা নয়, এমনটি করলে বরং ফেতনার আগুনেই ঘি ঢালা হবে এবং ইসলামের শত্রুদেরই নয়ন জুড়াবে।

বিভ্রান্তদের চেনার উপায় জানার একমাত্র উদ্দেশ্য হল নিজেরা ঐ সমস্ত দলের সংসর্গ থেকে নিরাপদ থাকা- কোন দলের তরফ থেকে দাওয়াত পেলে যাতে এক নজর যাচাই করে নেয়া যায় সেটাই আমার এ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য।

কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের নাম ধরে গীবত না করে শুধু বিভ্রান্ত দল চেনার কতিপয় আলামত চিনিয়ে দেবার চেষ্টা করা হবে এ নিবন্ধে।
বিভ্রান্ত দলসমূহের অভিন্ন (common) ও উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:-

১। নেতার আনুগত্যে অতিরিক্ত অগ্রাধিকার প্রদান।

২। আল্লাহর নবী ছাড়া অন্য কাউকে বেশি হাইলাইট করা।

৩। অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি, অতিরিক্ত শিথিলতা ও অযাচিত শর্তারোপ।

৪। প্রয়োজনীয়/বেশি প্রয়োজনীয় বিষয়ের চেয়ে অপ্রয়োজনীয়/কম প্রয়োজনীয় বিষয়াদিতে বেশি জোর দেয়া।

৫। মাযহাব, উপদল, শ্রেণী বা সম্প্রদায়কে (মুসলিম) উম্মতের উপর প্রাধান্য দেয়া। ইসলামের সাথে সারনেম বা ট্যাগ যুক্ত করা।

৬। কোরআনের ফয়সালা মানতে অনীহা।

৭। ব্যক্তিগত আক্রমণ।

৮। তাকফির, তাহরিম ও গালিগালাজ।

৯। হারামকে হালাল করবার প্রবণতা এবং নিজেদের অন্যায় অপকর্মের পক্ষে কোরআন-হাদীস থেকে দলীল অন্বেষণ করা।

১০। ধর্মের নামে অধর্মে লিপ্ত হওয়া।

১০। অতিভক্তি ও বেয়াদবি।

১১। বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঈমানদারদের চাইতে কাফেরদের দিকে বেশি ঝোঁকার প্রবণতা।

১২। দ্বিমুখী নীতি।

১৩। ন্যায়পরায়ণতার অভাব।

১৪। সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত সত্যকে পাশ কাটানোর প্রবণতা।

১৫। কুরআন অধ্যয়নকে নিরুতসাহিত করণ।

১৬। তথ্য বিকৃতি।

১৭। ভোল পাল্টানো।

১৭। সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণ।

১৮। প্রশ্নের সম্মুখীন হতে অনীহা এবং লুকোচুরি মনোভাব।

১৯। ব্যক্তিগত বিষয়কে ধর্মের নামে চালানো।

২০। দুনিয়া কামানোতে দ্বীনের ব্যবহার এবং ধর্মের নামে কৃত সংগ্রামে জৈবিক প্রণোদনা।

২০। মূর্খতা ও অজ্ঞতা।

২১। ধর্মীয় পরিভাষাগুলো সর্বদা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল উচ্চারণে করা।

২২। মিথ্যা কৃতিত্ব দাবি করার প্রবণতা।

২৩। অন্যের উপর দায় চাপানো।

২৪। আল্লাহর সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা।

২৫। অপ্রয়োজনীয় শারীরিক খেদমত গ্রহণের প্রবণতা।

২৬। দুর্বোধ্যতা ও রহস্যময়তা।

২৭। ধর্ম নিয়ে ন্যাকামি ও হীনমন্যতা।

২৮। মনগড়া বাহুল্য।

২৯। থিউরি সর্বস্বতা ও গদবাঁধা বুলি ইত্যাদি।

তবে এগুলো ছাড়াও আরো অনেক উপায় আছে।এখানে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।