স্টাফ রিপোর্টার : ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বিজিবির সাথে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে বিজিবি’র গুলিতে নিহত নবাব (৩০, সাদেক (৪০) ও জয়নুল হকের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। আপন জন হারানোর ব্যাথায় মুর্ছা যাচ্ছেন স্বজনরা। পাড়া প্রতিবেশী সহ প্রশাসনের লোকজন তাদের সান্তনা দেওয়া চেষ্টা করছেন। তাও থামছে না কান্নার রোল।
বুধবার দুপুরে নিহতদের সৎকারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম জে আরিফ বেগ নিহতদের বাড়িতে গিয়ে টাকা পৌছে দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতি পুরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন। এদিকে ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি এরই কাজ শুরু করেছেন।
হরিপুর থানার ওসি আমিরুজ্জামান জানান, নিহতদের মরদেহ মযনা তদন্তের জন জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বিকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার সুষ্ট’ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এবং নিহত ও আহতদের সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূণ দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এদিকে এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টায় বিজিবি ঠাকুরগাঁও সেক্টরের লেজার ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিজিবি। এতে ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ দাবী করেন-ভারতীয় ৫টি গরু আটকের পর বহরমপুরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র বিজিবির উপর দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে ৫জন বিজিবির সদস্য আহত হয়। বিজিবিকে হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীরা হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় আত্মরক্ষায় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বিজিবি সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ৫০ বিজিবির এই পরিচালক বলেন, বিজিবির গুলিতে নিহতরা যদি নিরপরাধ হয় তবে সে বিষয়ে পরে জানানো হবে। কত রাউন্ড গুলি বর্ষন করা হয়েছে এ প্রশ্নে সঠিক উত্তর দেননি তিনি।
এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান লে.কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে ভারতীয় চোরাই গরু সন্দেহে হরিপুরের বহরমপুর গ্রামে ভারতীয় সন্দেহে গরু আটক করাকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নবাব (৩০, সাদেক (৪০) ও জয়নুল হক মারা যায়। আহত হয় আরো ১৫ জন।



