প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাচন বন্ধ কিন্তু অনিয়ম নয়: সিইসি

27
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা

প্রয়োজনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া হবে, কিন্তু অনিয়মের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। নির্বাচন কর্মকর্তাদের এমন হুশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। বুধবার আগারগাঁওয়ে ইটিআই ভবনে প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, যদি কোনো রিটার্নিং অফিসার মনে করেন যে, তার সম্পূর্ণ উপজেলায় নির্বাচন করার পরিবেশ নেই। তবে সেটা বন্ধ করে দেয়ার সুপারিশ করবেন। কমিশন সেটা বন্ধ করে দিতে পারবে। আমরা সে অবস্থানে থাকতে চাই।

যদি কখনও কোনো জায়গায় কোনো প্রার্থী, দল বা কেউ অতিরিক্ত নিষ্প্রয়োজনীয় আইন ব্যত্যয়কারী কোনো ঘটনা সৃষ্টি করে বা নির্বাচন রিটার্নিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণের বহির্ভূত হয়ে যাবে এমন কিছু হলে পুরো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বন্ধ হবে। কিন্তু নির্বাচনে কোনো রকম অনিয়মের সঙ্গে আপস করা যাবে না।

সিইসি বলেন, মানুষ ভোট দেবে। ভোটারের পছন্দের প্রার্থী বিজয়ী হবে। প্রার্থী কোন দলের, কোন ধর্মের, কোন বর্ণের সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়। অনেকে বলেন নির্বাচনের প্রার্থী মেট্রিকের নিচে, তারা দেখতে ভালো না। এটা তো কোনো কথা না। ভোটার যাকে যোগ্য মনে করবেন তিনিই হবেন তাদের নির্বাচিত প্রার্থী। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, প্রার্থীর এজেন্টদেরকে নিয়ে সবসময় আপনাদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।

নির্বাচনে প্রার্থীরা যাতে ভোট কেন্দ্রে এজেন্ট দেন সেজন্য তাদেরকে উৎসাহিত করবেন। এজেন্টরা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এজেন্ট থাকা এবং যাওয়ার দায়িত্ব তো আপনারা নিতে পারেন না, সেটা প্রার্থীর বিষয়। প্রার্থীদেরকে উৎসাহিত করবেন যাতে তারা এজেন্ট দেয়। এজেন্টরা যাতে সেখানে নিরাপদে নির্ভয়ে থাকতে পারে এটা দেখবেন। ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে নির্দেশ দিয়ে সিইসি বলেন, বলা হয়ে থাকে যে ভোটারদেরকে ভোট দিতে আসতে দেয়া হয় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দেবেন কোন কোন জায়গায় ভয়ভীতি দেখানো হয় বা হতে পারে।

সেগুলোকে ভালোভাবে নজরদারিতে রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এসব জায়গায় বাড়তি সতর্কতায় থাকতে বলবেন। যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে, বিনা বাধায় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। নির্বাচনের আগে, পরে এবং নির্বাচনের দিন যাতে কোনো সহিংসতার ঘটনা না ঘটে এ বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে বলেও নির্দেশনা দেন সিইসি।

ওই অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে অবৈধ উপায়ে কেউ যাতে পেছনের দরজা দিয়ে উপজেলা পরিষদে ঢুকে না পড়েন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তথা রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা তা নিশ্চিত করবেন। তিনি বলেন, আমরা সবাই বলে থাকি- নির্বাচন আইনানুগ হতে হবে। কথাটার কিছু ব্যাখ্যা প্রয়োজন। নির্বাচন আইনানুগ হওয়ার অর্থ সবার সম-অধিকার ও সবার প্রতি সম-আচরণ নিশ্চিত করা। এজন্য আমাদের কঠোর নিরপেক্ষতা অবলম্বন করতে হবে। কোনো প্রকার ভয়ভীতি, লোভ বা প্রলোভনের কাছে আপনারা নতিস্বীকার করবেন না।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ প্রমুখ।