পীরগঞ্জে ভাষা শহীদের প্রতি ভালবাসা আর শ্রদ্ধা জানাতে অস্থায়ী বাশেঁর শহীদ মিনার

190

মোঃ নয়ন হোসাইন, পীরগঞ্জ প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ভাষা শহীদের প্রতি ভালবাসা আর শ্রদ্ধা জানাতে অস্থায়ী বাশেঁর শহীদ মিনার তৈরি করেছে কৈশোরের অগ্রদূত বেতার শ্রোতাক্লাব ।

সরেজমিনে দেখা যায়। বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) মহান শহীদ ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসে পীরগঞ্জ উপজেলার সেনুয়া চৌরাস্তা স্কুল মাঠে। কৈশোরের অগ্রদূত বেতার শ্রোতাক্লাবের সদস্যরা বাশেঁর এই অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে।

শহীদ বেদীটি কাঠ ও বাশঁ দিয়ে অবিকল শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে তৈরী করা হয়েছে। প্রতিকী এই মিনার তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে বাশঁ, সুতা,দড়ি, রং বে রঙের কাগজ ইত্যাদি।

এ ব্যাপারে ক্লাবের উপদেষ্টা মোঃ মোস্তফা আলম কালু বলেন, ক্লাবের ছেলেরা বাশঁ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনারটি প্রায় রাত ২ টা পর্যন্ত এত সুন্দর ভাবে তৈরি করেছে যা দেখলে মুগ্ধ হবে যে কেউ। কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে শহরের শহীদ মিনারে ফুল দিতে পারিনা, আমি এ বছর একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দিতে অস্থায়ী কাঠের শহীদ মিনারে আসি।

তিনি আরো বলেন, এখানকার ছেলে মেয়েরা ও আমার মত বিভিন্ন কারনে শহরের স্থায়ী শহীদ মিনারে যেতে পারবেনা, তাই অস্থায়ী শহীদ মিনারে ভাষা শহীদ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি আজ সম্মান প্রদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে ক্লাবের সভাপতি রিপণ আলী সবুজ জানায় গতকাল ২০-২-২০১৯ তারিখে সেনুয়া এলাকার স্কুল গুলোতে “ইচ্ছে মত আঁকি” প্রোগ্রামের কথা বলতে যায় ক্লবের প্রতিনিধিরা এতে শিক্ষাথীরা অভিযোগ করে বলে- আমরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে চাই ? কিন্তু আমরা শহরের স্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিতে যেতে পারিনা আমরা ছোট বলে পরিবারের বাধায়।

তবে কি আমাদের শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া হবেনা? সময় না থাকায় তারা রাত প্রায় ২ টা পর্যন্ত কাজ করে তৈরি করেছি বাশেঁর অস্থায়ী শহীদ মিনারটি। সকালে যখন ছোট ছোট বাচ্চারা শহীদ মিনারে ফুল দিতে পেরে আনন্দিত,তখন খুশিতে ভরে যায় এটি তৈরিতে কাজ করা সদস্যদের মন।স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নিকট শহীদ মিনারের দাবী দীর্ঘ দিন ধরে জানিয়ে আসছে ক্লাব টি।কিন্তু তারা শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে এলাবাসীর অনেক দিনের দাবী সেনুয়া চৌরাস্তা নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল মাঠে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার। এ ছাড়াও ক্লাব টি আজকে “ইচ্ছা মত আঁকি” নামক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রোগ্রামে ২ টি স্কুলের ২৩৪জন ছাত্র ছাত্রী আংশগ্রহন করে। পরে দুইটি স্কুলের দশটি শ্রেণীর ৩০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করে।এবং অংশগ্রহন কারী সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি করে কলম বিতরণ করে।