এস.এম মফিদুল ইসলাম, পাটকেলঘাটা ॥
পাটকেলঘাটার অধিকাংশ কলার আড়ৎগুলোতে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে পাকানো হচ্ছে কলা।
দীর্ঘদিন যাবত এসকল অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় এ পন্থা ব্যবহার করলেও দেখার যেন কেউই নেই। হরহামেশাই রাসায়নিক পদার্থ কার্বাইট ব্যবহার করে আসলেও ব্যবসায়ীদের নিকট যেন তা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়ে গেছে। তালা উপজেলায় কলা চাষ একটি জনপ্রিয় ফসল হিসেবে পরিগণিত। স্বল্প ব্যয়ে অধিক লাভের আশায় এ অঞ্চলের চাষীরা তালা সহ পাটকেলঘাটার মাঠে-ঘাটে কলা চাষ করে থাকেন।
সরেজমিনে গতকাল পাটকেলঘাটা বাজার এবং তার ১ কিলোমিটার দুরে কুমিরা বাসষ্ট্যান্ড ও ব্রীজের সন্নিকটে কয়েকটি কলার আড়তে রাসায়নিক ব্যবহার করে কলা পাকানোর দৃশ্য চোখে পড়ে।
রাসায়নিক পদার্থ কার্বাইট ব্যবহারের ফলে দ্রুত পাকানো এবং তার দৃষ্টিনন্দন রং পক্ত হওয়ার আশায় এ সকল অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পন্থা গ্রহণ করেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী। কলা কিনতে আসা থানার কুমিরা গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র শহিদুল ইসলাম বলেন, কলায় রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার আমাদের জীবনে যে কতটা ভয়াবহতা বিপর্যয় ঘটাচ্ছে তা আমরা সহজে আচ করতে পারি না। যে কারণে নানা রোগের স্বীকার হয়ে আমরা অল্প বয়সে মৃত্যু ঝুকিতে পড়ছি।
দেখা যায়, অপরিপক্ক কলার গায়ের গাঢ় রং হওয়ায় ভালোদামে রপ্তানি করতে পারেন।
তালা-পাটকেলঘাটা অঞ্চলে উৎপাদিত কলাগুলো এ অঞ্চলে প্রয়োজন মিটিয়ে ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলাগুলোতে রপ্তানি করা হয়। অধিক মুনাফা লাভের আশায় এ অঞ্চলের কলার আড়ৎদাররা অপরিপক্ক কলা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে পাকিয়ে রপ্তানি করে থাকে।
ফলে কলাগুলো দেখতে নান্দনিক হলেও খেতে গেলে ভেতরে শক্ত অনুভুত হয়। অথচ এ সকল অসাধু ব্যবসায়ীদের খোজ খবর নেয়ার যেন কেউই নেই। রাসায়নিক যুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয় সমাজের মানুষগুলো।
নানা রোগের প্রাদুর্ভাবের ফলে অল্প বয়সে অস্বাভাবিক মৃত্যুর দ্বারস্থ হন বলে স্থানীয় ডাক্তারগণ জানান। সচেতন মহলের অভিযোগ যদি মাঝে মধ্যে এসকল অসাধু ব্যবসায়ীদের সঠিক নিয়ম ব্যবহারের জন্য ব্যবসায়ীদের উদ্ধুদ্ধ এবং শাস্তির ব্যবস্থা করা হয় তবে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব।
তাই সঠিক নিয়ম মেনে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কলা পাকানো এবং অপরিপক্ক কলা না কাটা থেকে বিরত থেকে অসাধু কলা ব্যবসায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন পাটকেলঘাটাবাসী।



