ধানদিয়া ও নগরঘাটার হোটেলগুলোতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার

200
অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা হোটেল

ডেস্ক নিউজ: সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা ইউনিয়নে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে খাবার হোটেল। এসব হোটেলে আইন অমান্য করেই পরিবেশন করা হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাবার। যাতে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। হোটেলের ভিতরের পরিবেশ দেখে মনে হয় বাহিরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট। প্রশাসনের সঠিক তদারকির অভাবেই এমনটি করছেন হোটেল মালিকরা, অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে থানার নগরঘাটা ও ধানদিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি হোটেল ঘুরে দেখা যায়, হোটেলের বাইরে চাকচিক্য থাকলেও খাবার তৈরি করার জায়গাটির অবস্থা খুবই নোংরা, কর্দমাক্ত, স্যাঁতসেঁতে, মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। নেই খাবারে ঢাকনা। বাবুর্চির গায়ের ঘাম পড়ছে খাবারে। তার উপর মশা-মাছির উপদ্রব, ভনভন করছে খাবারের উপর। চারিদিকে দুর্গন্ধময়।এ যেনো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশই নয় এক নর্দমাক্ত খোলামাঠ। ভেতরের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখলে যে কেউ বিস্মিত হবার মতো। এমন নোংরা পরিবেশ অত্র এলাকার সবগুলো হোটেলেরই। অধিক মুনাফার জন্য শিশু শ্রমিক দিয়ে ও কাজ করাচ্ছেন এসব হোটেল মালিকরা।

অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা হোটেল

নগরঘাটা পোড়ার বাজারের একটা হোটেলের পিছনে গিয়ে দেখা যায় মিষ্টি তৈরির কড়াই কুকুর চেটে চেটে খাচ্ছে।

এসব বিষয়ে কোন হোটেলই মানছে না সরকারি বিধিমালা। বিএসটিআই অধ্যাদেশ-১৯৮৫ (সংশোধনী ২০০৩) এখন তাদের কাছে একেবারেই উপেক্ষিত। অধিকাংশ মালিকই জানে না বাংলাদেশ পিউর ফুড অধ্যাদেশ-১৯৫৯ (সংশোধনী ২০০৫) সম্পর্কে। অথচ এ আইনের ১৪ (বি) ধারায় বলা আছে, উৎপাদিত খাবার মান সম্মত না হলে অভিযুক্তদের সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা যাবে এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক বছরের কারাদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা যাবে।

এ আইনে আরও বলা আছে হোটেলগুলোর রান্নাঘর হবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, খাবার থাকবে ডাকা, বাবুর্চিদের নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম থাকবে, হাতের নখ থাকবে ছোট ইত্যাদি। কিন্তু তার কয়েকটি নিয়ম ছাড়াই বাকিগুলো কোন হোটেলই মানছে না। যেন সবই তাদের কাছে অধরা।

অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা হোটেল

স্থানীয়রা জানান, এখানে দেদারছে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলা ও থানা এলাকায় ছাড়া গ্রাম্য অঞ্চলে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় মালিকরা আরো বেপোরোয়া হয়ে পড়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না, অপরিচ্ছন্নভাবে খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশন করছে হোটেল মালিকরা। আর রান্নায় একই তেল বার বার ব্যবহার ও পুরানো খাবার খাওয়াচ্ছে এসব হোটেল গুলোতে। তবে এর চেয়ে তেমন ভালো মানের হোটেল না থাকায় গ্রাহকদের বাধ্য হয়েই খেতে হচ্ছে এসব হোটেল গুলোতে। এ দিকে হোটেলের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে স্থানীয়দের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।