তালায় কিশােরী গৃহবধূ লিজার মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল!

44

এসএম বাচু, তালা : তালায় লিজা খাতুন(১৬) নামের কিশােরী গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। স্বামীর পরিবার এটিকে আত্মহত্যা বললেও বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে হত্যার অভিযােগ আনা হয়েছে।এদিকে ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী ও শ্বশুর পলাতক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

প্রকাশ,প্রেমের সম্পর্ক ধরে তালা উপজেলার শুভংকারকাটি গ্রামরে ইমান সরদারের পুত্র হানিফা সরদারের (২২) সহিত লিজা খাতুনের বিবাহ হয় পরিবারের অমতে প্রায় ৩ মাস আগে। বিবাহের পর হত কিশােরী গৃহবধূ লিজা খাতুনেক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসতাে স্বামী হানিফা সরদার,শ্বশুর ইমান সরদার,শ্বাশুড়ি ঝর্না বেগম এবং লিজার কাছে যেতুকর টাকা দাবি করা হতাে বলে জানা যায়।গত ৯ জুলাই শুক্রবার লিজা খাতুনকে মারপিট করে বিষ খাওয়ায় হত্যা করা হয়েছে বলে জানা যায়।

ঘটনার বিষয় সরেজমিনে শুভংকারকাটি গ্রামে খাঁজ নিলে সাইদ সহ গ্রামবাসী জানান, হানিফা তার স্ত্রীক প্রায় প্রতিনিয়ত মারধর করতাে। হানিফার যেদিন মৃত্যু বরণ করেছন সেদিন দুপুর বিষপানের খবর আমার পাই। কি হানিফার পরিবারর সদস্যরা তার স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বিভিন্ন রকমের তাল বাহানা শুরু করে। তাদের এই সময় ক্ষেপনের জন্য লিজা মৃত্যুবরন করেছে।

লিজার মাতা তাসলিমা বেগম(৩৫) জানান, আমার মেয়ে তার খালার বাড়ি শুভংকরকার্টি গ্রামের বেড়াত যায় প্রায় ৫-৬ মাস আগে।সেখান থাকায় অবস্থায় একই গ্রামের ইমান সরদারের পুত্র হানিফা সরদার আমার মেয়েক কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। আমার বােন বিষয়টি বুঝার পর মেয়েক আমার কাছে ঢাকার আশুলিয়ায় পাঠিয়ে দেন। সেখান হতে হানিফা ও তার সঙ্গীরা জােরপূর্বক আমার মেয়ে তুলে এনে বিবাহ করে।

অনেক খোঁজা খুজি করার পর আমি মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারলে মানসিক ভাবে তাদের বিয়ে মেনে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।

প্রতি মাতাবক ও মেয়ের কথা মত জামাইকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক হিসাবে প্রদান করি। কি টাকা দেওয়ার সত্ব আমার মেয়েক তার স্বামী,শশুর,শাশুড়ী শরিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো। সর্বশষে গত শুক্রবার ৯ ই জুলাই আমার মেয়েকে মারধর করে জােরপূর্বক বিষপান করানাে হয়।

আমার বােন বিষপান করানাের বিষয়টি জানতে পরে লিজাকে নিয়ে তালা হাসাপাতালে চিকিৎসা করানাের জন্য নিয়ে আসে।সেখানে রাত আনুমানিক ৭টার দিকে মত্যু বরণ করেন লিজা। আমি কার্টের মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।এদিকে লিজার সুরতহাল করার সময় শরীরিক বিভিন্ন স্থানে আঘাতে চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে বলে সেখানকার লােকজন জানিয়েছন।

এ বিষয়ে হানিফার দাদী বলেন, আমাদের পুতাবউকে কােন মারধর করা হয়নি। সে ইচ্ছাকৃত ভাবে আত্নহত্যা করেছেন।

তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল জানান,প্রাথমিক ভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা রের্কড করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপাের্ট আসলে বিষয়টি স্পষ্ট বলা যাবে।