ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

97
ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

সাহিদুল এনাম পল্লব, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার সুশান্ত কুমারদেব এর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, শিক্ষক হয়রানি ও শিক্ষকের সাথে দুরব্যহারের অভিযোগ উঠেছে। শৈলকূপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম খলিল বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জেলা শিক্ষা অফিসারের জরুরী ভিত্তিতে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন।

গত ২৭ শে জুন শিক্ষা সচিব বরাবর অভিযোগ পত্রে প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন যে গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি ২০১৯ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিও ভুক্ত হয়। উক্ত বিদ্যালয়ের কয়েক জন শিক্ষক এমপিও ভুক্ত হওয়ার জন্য প্রাথমিক ভাবে কাগজ পত্র জেলা শিক্ষা অফিসার করে প্রেরন করে। কিন্ত জেলা শিক্ষা অফিসারের চাহিদা মাফিক ঘুষ না দেওয়ার কারনে কোন কারন ছাড়াই অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক সহ শৈলকুপা ফাযিল মাদরাসার ও সহকারী গ্রন্থাগারিক এমপিওভূক্তির জন্য কাগজপত্র খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রেরন না করে বাতিল করে দেন।

পরবর্তীতে তারা আবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শৈলকুপার মাধ্যমে এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইন আবেদন করেন। যাহা জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক প্রেরনের শেষ তারিখ ছিল ২৫ শে জন ২০২০। এই ঘটনা কে কেন্দ্র করে ঐ দিন শৈলকূপা ১ আসনের সংসদ সদস্য ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ আব্দুল হাই টেলিফোনে সহকারী গ্রন্থাগারিকদের এমপিওভুক্তি হয় সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন।

তারপর গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম খলিল শৈলকুপা ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ,এস,এম আক্তারুজ্জামানকে সাথে নিয়ে সকাল ১১.০০ ঘটিকার সময় জেলা শিক্ষা অফিসার সুশান্ত কুমারদেব এর সাথে দেখা করতে অফিসে জান। তাদের দুই জন কে সামনে পেয়ে প্রচণ্ড রেগে যান জেলা শিক্ষা অফিসার।

জানতে চান কেন এম পি ফোন করেছে? দাবীকৃত অর্থ কোথায়? না দেওয়ার জন্যই এমপির টেলিফোন এই সকল কথা বলে অকথ্য ভাসায় গালিগালাজ করে রুম থেকে বের করে দেয়। তখন তারা দুই জন বারান্দায় আসলেও সে গালিগালাজ করতে করতে তাদের প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের হুমকি দেয়। সেই সাথে সহকারী গ্রন্থাগারিকদের এমপি ভুক্তির জন্য অনলাইন আবেদন আঞ্চলিক কার্যালয়ে ধার্য্য তারিখে প্রেরণও করেননি/বাতিলও করেননি।

জেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে এখানেই অভিযোগের শেষ নয়। তার বিরুদ্ধে গত ১০ই জুন খুলনা আঞ্চলিক অফিসের উপ পরিচালক বরাবর অভিযোগ করেছে শৈলকূপা উপজেলার দিগনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অভিবাবক সদস্য খাইরুল হোসেন। ঐ অভিযোগ পত্রে খাইরুল হোসেন উল্লেখ করেন যে বাকাই সিদ্ধি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিশারত হোসেন কে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে তার কাগজ পত্র এমপিও ভুক্তির জন্য খুলনা আঞ্চলিক অফিসে প্রেরন করেছে। বিশারতের বিরুদ্ধে অডিট আপত্তি ছিল। শুধু বিশারত নয় তার সাথে আরও ৩/৪ জনের কাগজ পত্র অবৈধ অর্থের বিনিময়ে এমপিও জন্য খুলনা আঞ্চলিক অফিসে প্রেরন করেছে।

প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম আরও অভিযোগ করেন যে জেলা শিক্ষা অফিসার সুশান্ত কুমার দেব এর মানসিক নির্যাতন ও খারাপ আচরণের কারণে সকল জেলা উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।সেই সাথে ঝিনাইদহ জেলার সকল বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রসা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

এই প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সুশান্ত কুমার দেব বলেন, আমি কার নিকট থেকে অবৈধ আর্থিক সুযোগ নিয়েছে সেটা কেউ প্রমান করতে পারবে না। দারুল এসহান থেকে সার্টিফিকেট ক্রয় কারীদের জন্য ২০১৩ সালে ২২ শে অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যারা দারুল এসহান থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সালে নিয়োগ পেয়ে স্কুলে লাইব্রেরিয়ান পদে চাকুরি করছে তাদের এমপিও ভুক্ত হতে হলে ৩ বছরের মধ্যে সরকার অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুরপ একটি সার্টিফিকেট অর্জন করতে হবে।

তাছাড়া ২০১৬ সালে হাইকোটের রায়ে দারুল এসহান থেকে প্রাপ্ত সকল সার্টিফিকেট বাতিল ঘোষণা করে। গাড়াগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় ও শৈলকূপা ফাজিল মাদ্রসার লাইব্রেরিয়ান দুই জনের নিয়োগ ২০১১ সালে দারুল এসহান থেকে সার্টিফিকেট দিয়ে। তাদের এমপিও ভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করার বিধান নেই। তাদের ম্যনুয়াল আবেদন করতে হবে। আমি সব জেনে কি ভাবে তাদের আবেদন খুলনা আঞ্চলিক অফিসে পাঠাব? তাছাড়া গাড়াগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান শিক্ষক শিরিন আখতারের সার্টিফিকেটে কোথা থেকে প্রাপ্ত তার কোন ঠিকানা নেই। আমি আসার আগে এই শিক্ষা অফিসে ব্যপক দুর্নীতি চলত। আমি সেটা হতে দিচ্ছি না। তাই আমার প্রতি মিথ্যা রটনা করছে। যেমন শৈলকূপা কবিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান শিক্ষক ২০০৩ সালে নিয়োগ প্রাপ্ত এবং ২০০৪ সালে এমপিও ভুক্ত হয়েছে। অথচ মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলিতে ২০১০ সালে এক জনবল কাঠাম উন্নয়ন প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই লাইব্রেরিয়ান শিক্ষক পদ সৃষ্টি করা হয়। পদ সৃষ্টির আগেই শিক্ষক নিয়োগ এবং এমপিও ভুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

ঐ সমস্ত শিক্ষকেরা ঠিক মত বিদ্যালয়ে হাজির না হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বিদ্যালয় থেকে বেতন নিচ্ছে।আমি একদিন বাকাই সিদ্ধি স্কুলে যেয়ে দেখি শিক্ষার্থী আছে শিক্ষক নেই। স্কুলে পিটি করাচ্ছে ছাত্ররা। ঐ স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক সকল সময় শৈলকূপা উপজেলা উপজেলা শিক্ষা অফিসে বসে থাকে।

এর আগে ডাউটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পক্ষে সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম করে আমাকে মোবাইলে হুমকি দিয়ে থাকে। যেমন একজন মাগুরার এমপি শিখর বলে আমাকে হুমকি দিয়েছিল পরে দেখা গেল সে মাগুরার এমপি না। সে এখন মাগুরার জেল খানায় আছে। এই জেলায় চাকুরি করতে এসে আমি এদের অনৈতিক অত্যাচার অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।আমি আমার নিয়মের মধ্যে থাকব। কোন অন্যায় করব না বলে দৃঢ় প্রত্যায় ব্যক্ত করেন।