ঝিনাইদহে হোমিও ডাক্তার বিক্রি করছে এলোপ্যাথ ডাক্তারীর সনদ!

625
ঝিনাইদহে হোমিও ডাক্তার বিক্রি করছে এলোপ্যাথ ডাক্তারীর সনদ!

ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ থানার পৌর এলাকার বলরামপুর সড়কে বিশ্বাস রাজিব কিশোর নামের এক হোমিও ডাক্তার প্রশিক্ষণের নামে এলোপ্যাথ গ্রাম্য চিকিৎসক ও প্যাথলোজিক্যাল টেষ্টের ১০ ধরনের সনদ প্রশাসনের নাকের ডুগায় দেদার্সে বিক্রি করছে। টাকার পরিমানের ওপর নির্ভর করে এখান থেকে সংগ্রহ করা যায় ৬মাসের কোর্স, ১ বছরের কোস এমন কি ডিপ্লোমা কোর্সের সনদ। নেই কোন বৈধ অনুমতিপত্র। অনুমোদনের কপি আছে কিনা জানতে চাইলে বলে এটা শাখা অফিস কাগজপত্র থাকে মেইন অফিসে। এখান থেকে ভুয়া সনদ ক্রয় করে অনেকেই চিকিৎসা কার্যক্রম ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা ও ঔষধের ব্যাবসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে গ্রাম অঞ্চলে ও শহর তলীতে। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিক ও প্যাথোলজিতে চাকরীও করছে বলে জানা যায়। প্রভাবশালীদের সাথে লিয়াজু করে দীর্ঘদিন ধরে মানব ধ্বংসী এই ভুয়া সনদ বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

“লাইফ সাইন্স মেডিকেল টেকনোলোজি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ” প্রতিষ্ঠানের সাইন বোর্ডে লেখা আছে গন প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বাংলাদেশ লাইফ সাইন্স মেডিকেল টেকনোলোজি ফাউন্ডেশন গভঃ রেজিঃ নং ৩৯৫ নিয়ন্তিত লাইফ সাইন্স মেডিকেল টেকনোলোজি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট সোসাইটি কর্তৃক পরিচালিত একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ডি.এম.এফ, ডি.এম.এ, এল.এম.এ.এফ.পি, ডি.এইচ.এম.পি, আর.এইচ.এম.পি, আর.এ.এম.পি, আর.ইউ.এম.পি, ডি.ডি.টি, বি.ডি.এ, এল.ডি.সি, ডি.এন.টি, ডি.এন.এ, ডি.এম.এল.টি, ডি.ভি.পি, এল.ভি.পি, ডি.পি.টি,এল.পি.টি নামের ১০ টি কোর্সের ৩ বছর থেকে এক বছরের ডিল্পোমা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

সরেজমিনে এই প্রতিষ্ঠানে গেলে দেখা যায় যে এইটি বাড়ি ভাড়া করে ডাঃ বিশ্বাস রাজিব কিশোর নামের এক ব্যাক্তি এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের চেয়ারমযান পরিচয় দেয়। বেশ কিছু মানুষ এসেছে এই প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তি হতে। রাজীব কিশোর জানায় যে সে একজন রেজিস্টার কৃত হোমিও ডাক্তার। লিপলেটে তার নামের পাশে লেখা আছে ডি.এইচ.এম.এস (ঢাকা), ডি.ইউ.এম এস.এস(ঢাকা) সি.এইচ.ডাব্লিউ. সি.এইচ.টি (ল্যাব) উচ্চতর প্রশিক্ষণ কলিকাতা, স্পেশাল ট্রেইন্ড অন হারবাল মেডিসিন,রেজিস্টার্ড হোমিও প্যাথ। বাত-ব্যাথা,পলি পাস, স্ত্রী-ব্যাধি ও যৌন রোগীর বিশেষ চিকিৎসক। চিকিৎসক নিবন্ধন নং ২৬৮১২।

অন্য একজন পরিচালক হিসাবে পরিচয় দিলে সে কোন ডাক্তার কি না জানতে চাইলে সে বলে যে সে কোন ডাক্তার না। নাম জানতে চাইলে চেয়ারম্যান পরিচয় ধারি রাজীর কিশোর বলে যে তার নামের দরকার নেই বলে তার নাম বলতে বাধা দেয়। রাজীর কিশোর জানায় যে তার প্রতিষ্ঠানের সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন যার রেজিস্টার নং ৩৯৫। তার প্রতিষ্ঠানের কাগজ পত্র দেখতে চাইলে বলে যে আমার প্রতিষ্ঠানের কাগজ পত্র আপনাদের কেন দেখাব ? তবে তার সাথে কথা বলে জানা যায় যে তার প্রতিষ্ঠানে কোন নিয়োগ প্রাপ্ত ডাক্তার নেই।

কোন ডাক্তার নেই তা আপনি কি ভাবে প্রশিক্ষণ দেন বললে সে জানায় যে বাহিরের বিভিন্ন ডাক্তারেরা এসে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যায়। ঐ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকেই তাদের সামনেই ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিনা বেগমের নিকট লাইফ সাইন্স মেডিকেল টেকনোলোজি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলে যে কালীগঞ্জে এই ধরনের কোন প্রতিষ্ঠান আছে তা আমার জানা নেই। আমি মহেশপুরে এসেছি। প্রতিষ্ঠানের নাম লিখে রাখলাম পরে বিস্তারিত জানাব। তখন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান রাজীব কিশোর বলে যে সিভিল সার্জন নিজে এসে সার্টিফিকেট বিতারন করেছে এখন হয়তো বা তার মনে নেই।