আনাস বিন ফারুক ।।
জুমাতুল বিদা বা বিদায়ী জুমা।রমজানের শেষ জুমাকে “জুমাতুল বিদা” বলে।তবে এই পরিভাষাটি ইসলামের পরিভাষা নয়। এটি পরবর্তী যুগে আবিষ্কৃত।
আমরা জানি, সপ্তাহের দিবসসমূহের মধ্যে শুক্রবার সর্বশ্রেষ্ঠ। আর আরবী বার মাসের মধ্যে রমজান মাসের গুরুত্ব বেশি। তাই রমজানের শুক্রবারের গুরুত্ব অন্য শুক্রবারের চেয়ে বেশি। যেহেতু ইসলামে কোন শুক্রবারকেই আলাদা মর্যাদা দেয়া হয়নি তাই রমজানের সব শুক্রবারের গুরুত্বই সমান।
অতএব রমজানের শেষ জুমাটিও অবশ্যই গুরুত্বপূ্র্ণ। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এ দিনের কোন ফজিলত আবিষ্কার করা যাবে। অথচ শেষ জুমা সম্পর্কে অনেক মনগড়া ফজিলতের কথা আমাদের মাঝে প্রচলিত আছে।
এ জাতীয় ফজিলত সম্বলিত দুটি বর্ণনা এরকম, :
(১) যে ব্যক্তি রমজানের শেষ জুমায় কোন ফরজ নামাজের কাযা আদায় করবে, সেটি তার জীবনের সত্তর বছরের কাযা নামাজের জন্য যথেষ্ঠ হবে।
উল্লেখ্য যে, এটি “উমরী কাযার হাদীস” নামেও প্রসিদ্ধ। এর আরবী পাঠ এই-
(من قضي صلاة من الفرائض في آخر جمعة من
(من قضي صلاة من الفرائض في آخر جمعة من شهر رمضان كان ذالك جابرا لكل صلاة فاتته في عمره إلي سبعين سنة.)
আল্লামা মোল্লা আলী কারী (রহ.) এই বর্ণনা সম্পর্কে বলেন, এটা নিশ্চিত বাতিল কথা। কেননা এ ব্যপারে “ইজমা” রয়েছে যে, কোন একটি ইবাদত বহু বছরের অনাদায় ইবাদতের বদল হতে পারে না। (দেখুন : আলমাসনূ, ১৯১ পৃ.)
(২) যে ব্যক্তি রমজানের শেষ জুমার যোহরের আগে চার রাকাত নামাজ পড়বে, এটা তার সারাজীবনের কাযা নামাজের কাফফারা হয়ে যাবে।
(এটিও একটি জাল বর্ণনা। দেখুন : রদউল ইখওয়ান ; আব্দুল হাই লখনোবী কৃত।)
রমজানের শেষ জুমা সম্পর্কিত এ জাতীয় আরো বর্ণনা সম্পর্কে জানতে দেখুন
(ردع الإخوان عن محادثات آخر جمعة رمضان)
এটি আব্দুল হাই লখনোবী (রহ.) এর একটি পুস্তিকা। এটাতে তিনি “জুমাতুল বিদা” সম্পর্কিত বর্ণনাগুলির পর্যালোচনা পেশ করেছেন।
[সহায়ক পুস্তক : এসব হাদীস নয়-১ ; প্রকাশনায় : মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা]
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে “সুন্নাহ” অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুক। আমীন।
লেখক : শিক্ষার্থী, আল-ফিকহ্ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগ,ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।


