জমে উঠেছে নির্বাচনী খেলা,শঙ্কায় অাছে দলীয় এবং শরীক উভয় প্রার্থীরা ! শেষ মুহূর্তে কে পাচ্ছেন নৌকা ?

231

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় শেষ সময়ে সাতক্ষীরা – ১ (তালা-কলারোয়া) আসনটিতে কে পাচ্ছেন নৌকা। এই আসনটি নিয়ে নির্বাচনী প্রতিবেদনের মাধ্যম তুলে ধরা হয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশিদের বিভিন্ন মতামত ও মনোভাব ।

মোঃ জাবের হোসেন :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রায় আসন্ন।ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন।এখনো পর্যন্ত অা’লীগ তাদের দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেনি।তবে ধারণা করা হচ্ছে খুব শিঘ্রই ঘোষণা করা হতে পারে মনোনয়ন প্রাপ্তদের নাম।
অন্যদিকে বিএনপি তাদের প্রার্থীদের বাছায়ের কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে নিয়ে এসেছে ।আর এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন অধিকাংশ সবাই ঢাকায় অবস্থান করছেন।

সাতক্ষীরা -১ (তালা-কলারোয়া) আসনের প্রতিটা চায়ের স্টল,বিভিন্ন স্ট্যান্ড ,হাট-বাজারে এখন একটাই আলোচনা, সামনে নির্বাচনে কে পেতে পারে নৌকার মনোনয়ন ? প্রার্থীদের তৎপরতার পাশাপাশি ভোটাররটাও চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নিয়ে। কারা পাচ্ছেন এবার মনোনয়ন,দল থেকে না কি শরীক দল থেকে? এই নিয়ে চলছে আলোচনা – সমালোচনার ঝড়।

সাতক্ষীরা ১ আসনটি সংসদীয় -১০৫ (তালা-কলারোয়া) নিয়ে গঠিত। এই আসনটির উত্তরে যশোর জেলার শার্শা উপজেলা ও কেশবপুর,পশ্চিমে ভারতের পশ্চিম বঙ্গ,পূর্বে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ,দক্ষিনে আশাশুনি ও খুলনা জেলার পাইকগাছা। এই আসনটির মোট আয়তন ২২৭.৭ বর্গমাইল । তালা উপজেলা ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে প্রথম উপজেলা হিসাবে মর্যাদা পায়। তালা এবং কলারোয়া উপজেলার ২৪ টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা – ১ আসন।

সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৯১ জন।যার মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা রয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৮১৮ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৭৩ জন।
আসনটি স্বাধীনতার পরে একবার করে জামায়াত ,জাতীয় পার্টি,ওয়ার্কার্স পার্টি এবং দুইবার বিএনপি ছাড়া বাদবাকী সময় আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মূলত এই সমীকরণের কারণে সাতক্ষীরা -১ আসনটি আ’লীগের ঘাটি হিসাবে পরিচিত।

বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পায় তালা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম।কিন্তু দলীয় স্বার্থে এবং জোটগত কারণে নুরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয়া হলেও শেষে শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহকে প্রার্থীতা দেওয়া হয়। নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করে এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি নির্বাচিত হন। অবশ্য ঐই নির্বাচনে জামায়াত- বিএনপি অংশগ্রহণ না করলেও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে সরদার মুজিব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

তার আগে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলামকে হারিয়ে নির্বাচিত হন প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান। মূলত জোট প্রথা চালু করার পরে আসনটিতে বিএনপি- জামায়াতের উপর আর ওয়ার্কার্স পার্টি আ’লীগের উপর নির্ভর করে নির্বাচনী বৈতারণী পার হওয়ায় আসনটি জোট নির্ভর হয়ে পড়ে।

তবে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মামলা জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ২০ দলীয় জোট বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব ইতিমধ্যে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন।সে হিসাবে বিএনপি শক্ত অবস্থানে অাছে বলে ধরে নেয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে জামায়াত-বিএনপি গত পাঁচ বছরে দৃশ্যত দলীয় কোনো কার্যক্রম চালায়নি।বিভিন্ন নাশকতা সহ সরকার বিরোধী মামলায় শ’ শ’ নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা জেল-হাজতবাস সহ আত্নগোপন কিংবা মামলা এড়াতে প্রকাশ্য রাজনীতিতে নীরব রয়েছেন।তবে গোপনে হলেও তারা এই আসনটি পূনরুদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন বলে ধারণা । তবে তাদের তৎপরতা চোখে দেখা না গেলেও আওয়ামীলীগ,জাতীয়পার্টি,ওয়ার্কার্স পার্টি,জাসদ বেশ জোরেসোরে তৎপতরা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অপরদিকে এই আসনটিতে পাওয়া না পাওয়া থেকে শুরু করে নানা অান্তকোন্দলে রয়েছে আ’লীগও। সাধারণ নেতা-কর্মীরা বলছেন আসন্ন নির্বাচনের আগে দলীয় এই কোন্দল নিরসন না হলে দলের জন্য চরম ক্ষতি হতে পারে।

দলীয় এবং শরীক উভয় প্রার্থীরা মনোনয়ন নিয়ে মাঠ গরম করে রেখেছেন। ২০ দলীয় জোটের কোনো কর্মকান্ড না থাকলেও বিএনপি থেকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব’কে প্রার্থী হিসাবে পেতে চাই দলীয় নেতা-কর্মীরা।একই অবস্থানে রয়েছে জামায়াতের কেন্দ্রিয় অধ্যক্ষ ইজ্জতউল্লাহ।

অন্যদিকে মহাজোট চাইছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি ধরে রাখতে। যদিও মহাজোটের কেন্দ্র থেকে আসনটি ধরে রাখার ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হলেও তাদের বড় সমস্যা প্রার্থীতা নিয়ে।স্বাধীনতার পরে আসনটিতে আ’লীগের ভালো অবস্থান থাকলেও গতবার শরীরকদের ছাড় দিলেও এবার আর ছাড় দিতে রাজী নয় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য।

দলীয় প্রার্থীরা এবার আর শরীক দলের জন্য আসনটি ছেড়ে দিতে রাজী নয়। পক্ষান্তরে শরীক দল ওয়ার্কার্স পার্টি আসনটি আবারো ধরে রাখতে চায় ।যদিও ওয়ার্কার্স পার্টি দল থেকে এই আসনটি নিশ্চিত করেছেন ।তবে জোটগত কারণে এবার আর আ’লীগ শরীক দল থেকে দিবে, কি দিবেনা সেটা নিয়ে চলছে আলোচনা- সমালোচনা ।ওয়ার্কার্স পার্টির এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহর দল থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত হলেও আ’লীগের উপর নির্ভর করছে তারা পাবে কি পাবেনা।

এ আসন থেকে এবার যারা দলীয় মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন , সাবেক জেলা আ’লীগের সভাপতি ও সাংসদ প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সরদার মুজিব,একমাত্র সর্বকনিষ্ঠ নারী প্রার্থী হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ স ম আলাউদ্দীনের কণ্যা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়লা পারভিন সেঁজুতি, তালা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত শেখ নুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, কলারোয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, জেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ কামাল শুভ্র, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু, জেলা আ’লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এড. অনিত মূর্খাজী,স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এসএম আমজাদ হোসেন,শেখ আমজাদ হোসেন,কামরুজ্জামান সোহাগ, মনোয়ারা ফারুক, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এড. মোহাম্মদ হোসেন, অহিদুল ইসলাম সজিব,কলারোয়া উপজেলা আ.লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির।

জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দ দিদার বখ্ত, ওয়ার্কার্স পাটি থেকে দলটির পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ও জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বর্তমান এমপি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ,জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক শেখ ওবায়দুস সুলতান বাবলু, বিএনপি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম,বিএনপি থেকে আরো একজন প্রচার-প্রচারণা করছেন এবং মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন এড.ওয়াছেল উদ্দীন। তিনি সুপ্রীম কোর্টোর সিনিয়র আইনজীবি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের খুলনা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করছেন।

শেখ মুজিবুর রহমান

প্রকৌশলী ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান বলেন ,আমি এমপি থাকাকালীন সময়ে তালা – কলারোয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি।কপোতাক্ষ খনন,রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন,অসংখ্য স্কুল-কলেজের ভবন তৈরি করেছি। জনগনের জন্য কাজ করেছি এবং এখনো পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছি।তাই এবার যদি আমি মনোনয়ন পায় তাহলে আবারো আমি এমপি হবো।তিনি বলেন,দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু সেই তুলনায় তালা-কলারোয়ার উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি।তিনি বলেন অামার সময় অামি পাঁচ বছরে যে উন্নয়ন করেছি সেই উন্নয়ন গত ২০ বছরেও কেউ করেনি।তাই অামি চাই অামি অাবারো এমপি হয়ে হয়ে এলাকায় কাজ করবো,জনগনের জন্য অারো কিছু করতে চাই। তিনি বলেন অামি তালা-কলারোয়াকে উন্নত শিল্প নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

সরদার মুজিব

মনোনয়নের বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এসএম মুজিবর রহমান (সরদার মুজিব) বলেন , আমি র্দীঘদিন এই এলাকার মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।ব্যক্তিগত জীবনে আমার চাকরির পেনশন পর্যন্ত দান করে দিয়েছি ।তাছাড়া আমি গত নির্বাচনে দেশের অন্য প্রার্থীর চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়েছি।গত নির্বাচনে অামার সেই ৩০ হাজার ভোটার যদি এবারের নির্বাচনে ২ টি করেও ভোট বাড়ায় তাহলে অামি বিপুল ভোটে বিজয় ছিনিয়ে অানতে পারবো বলে অাশা করি।একমাত্র অামি সাতক্ষীরা-১ অাসনে নিজস্ব দলীয় বাহিনী গড়ে তুলেছি।এছাড়া ২০১৩ সালের জামায়াত-শিবিরের তান্ডবের সময় অামি একাই তালা-কলারোয়ার ২৪ টি ইউনিয়নে অা’লীগের পক্ষে থেকে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে লড়েছি ।তাই এবার যদি আমি মনোনয়ন পাই তাহলে আমি শতভাগ বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ।
তার কাছে সংসদ সদস্য হলে কেমন কাজ করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে।দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে।কিন্তু অামার নির্বাচনী এলাকা সাতক্ষীরা-১ অাসনে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়নি।তালা-কলারোয়া দেশের অন্য জায়গার তুলনায় এখনো অনেক পিঁছিয়ে।অার অামি সেই পিঁছিয়ে পড়া কাজগুলো সমাপ্ত করতে চাই।উন্নয়নের অংশীদার হয়ে দেশের সাথে অাধুনিক রাষ্ট্রে পরিনত করতে চাই অামার এলাকাকে।
তিনি বলেন,এলাকার জন্য মন্ত্রনালয় থেকে, মন্ত্রীদের কাছ থেকে কাজ অানতে গেলে ব্যক্তিগত সূ-সম্পর্ক থাকার প্রয়োজন হয়।ব্যক্তিগত সূসম্পর্ক না থাকলে এলাকার জন্য বেশি কাজ অানা যায়না।সেক্ষেত্রে অামার দিকটা অনেক ভালো।এজন্য অামি যদি সংসদ সদস্য হতে পারি তাহলে এলাকার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত করতে পারবো।

লায়লা পারভীন সেঁজুতি

জেলা মহিলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতি বলেন , অামার বাবা স.ম অালাউদ্দীন ছিলেন অাধুনিক সাতক্ষীরা স্বপ্নদ্রষ্টা। অামার বাবা কর্মমূখি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন,যেটির হাল বাবা মারা যাওয়ার পরে অামি ধরেছি।এছাড়া ভোমরা স্থল বন্দর প্রতিষ্ঠা,সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স,অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান সহ সাতক্ষীরায় অসংখ্য কাজ তিনি করে গিয়েছেন।কিন্তু তার যে স্বপ্ন সাতক্ষীরাকে অাধুনিক সাতক্ষীরায় রুপ দেয়া সেটা তিনি সম্পূর্ন করে যেতে পারেন নি।তিনি শুরু করেছিলেন কিন্তু ঘাতকের বুলেটের অাঘাতে ১৯৯৬ সালে বাবা নিহত হন।তিনি মারা যাবার পরে তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার হাল অামি ধরি।সেই থেকে বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেয়ার জন্য কাজ করে চলেছি।
নারী হিসাবে বাবার কাজ সমাপ্ত করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বাঁধার সম্মুখিন হয়েছেন কি না এরকম প্রশ্নে লায়লা পারভীন সেঁজুতি বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতিতে নারীর প্রতিবন্ধকতা অনেক। তবুও শত প্রতিবন্ধকতা দূর করে অামি অামার বাবার অসমাপ্ত কাজ করার জন্য লড়ে যাচ্ছি।অামি নারী হিসাবে এলাকার নারীদের মাঝে যতটুকু সময় পায় ততটুকু সময় ব্যায় করি।এতে করে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের,পুরুষদের, এলাকার সমস্যা সমূহ জানার চেষ্টা করেছি এবং যতদূর পেরেছি বা পারছি ততদূর এগিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।অামি চাই অামার বাবা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন অামি সেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দিতে চাই।
তিনি বলেন জনগন অামাকে যদি সেবা করার সুযোগ দেয় বা জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি অামাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে পাটকেলঘাটাকে উপজেলা,তালাকে পৌরসভায় উন্নীত করবো।সেই সাথে তালা এবং কলারোয়া উপজেলাকে একটি দৃষ্টিনন্দন উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলতে চাই।সমগ্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে চাই।কপোতাক্ষ নদের প্রাণ ফিরিয়ে অানা,শিল্প-কলকারখানা প্রতিষ্ঠা, শিশু পার্ক,চিড়িয়াখানা সহ কর্মমূখি মানুষদের বেকার সমস্যার সমাধান করবো।তিনি বলেন,ভোমরা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসাবে গড়ে তোলা,তালায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন তৈরি,যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সহ এলাকার দৃষ্টিনন্দন কাজ করবো।

শেখ নুরুল ইসলাম

তালা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৯ সালে সাতক্ষীরা সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করে রাজনীতি শুরু করি ।পর্যায়ক্রমে সর্বশেষ আমি বিগত ১৪ বছর যাবত তালা উপজেলা আ’লীগের দায়িত্ব পালন করছি। এই র্দীঘ সময়ে আমি জনগণের কল্যাণে একাধারে কাজ করে চলেছি ।তাছাড়া বিগত নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন পেলেও দলীয় স্বার্থে ছেড়ে দেই।কিন্তু এবার আর ছাড় দিতে চাইনা । আমার বিশ্বাস আমার কাজের মূল্যায়নের মাধ্যমে আমি এবার মনোনয়ন পাবো। তিনি বলেন,তালা উপজেলা অা’লীগকে সুসংগঠিত করা সহ শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষে এলাকার জনগনের সেবা করে যাচ্ছি।তিনি অারো বলেন জনগন অামাকে চাই বলে অামি এবার নিবাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই।

সৈয়দ দিদার বখ্ত

জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী সৈয়দ দিদার বখ্ত বলেন, অামি সংসদে থাকা কালীন সময়ে তালা-কলারোয়ার অসংখ্য কাজ করেছি।স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা সহ অসংখ্য কাজ করেছি অামার সময়ে।বিগত দিনে অামি এমপি না থাকলেও সবসময় জনগনের সাথে থেকে কাজ করেছি বা এখনো করে চলছি।জনগনের সাথে অামার সম্পৃক্ততা অামি এতটুকুও দূরে রাখিনি।তাই অামি চাইবো দল থেকে সমর্থন পেলে,মনোনয়ন পেলে অামি অাবারো বিপুল ভোটে এমপি হবো।

এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ

বর্তমান সাতক্ষীরা-১ অাসনের এমপি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালে তালা এবং কলারোয়াতে মোট ১৬ জনকে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছিলো।অামি সেই সময় তাদের পাশে থেকেছি।২০১৪ সালের নির্বাচনের পরে অামি অামার এলাকায় জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা বন্ধ করেছি।এলাকায় স্থিতিশীল পরিস্থিতি সফল করেছি।নির্বাচন সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,গণতান্ত্রিক দেশে গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচন হবে এটা স্বাভাবিক।গণতান্ত্রিক ধারায় ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়া দরকার।

তিনি বলেন অামি শুধু সংসদীয় কার্যক্রম করিনি সেই সাথে নির্বাচনী এলাকায় জনগনের সমস্যার প্রত্যক্ষভাবে সমাধান দিয়েছি।সংগত কারণে অামার উপরে জনগনের অাস্থা সৃষ্টি হয়েছে।জামায়াত-বিএনপির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলো, এলাকার সন্ত্রাস,চাঁদাবাজ নির্মূল করেছি।জলাবদ্ধতা নিরসন,সড়ক উন্নয়ন,শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন,মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স,অাশ্রয় কেন্দ্র, সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি,তালা উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন,কলারোয়া উপজেলাকে ৯৫ ভাগ বিদ্যুতায়ন,
জোটের মধ্যে নিরাপত্তা দূরীকরণ সহ অসংখ্য কাজ করেছি।

তালা উপজেলাতে ফায়ার সার্ভিস নেই বিষয়ে জানতে চাইলে এড.মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, সরকার ফায়ার সার্ভিসের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে। জমির জটিলতায় বার বার কাজটি পিছিয়ে যাচ্ছে।তিনি বলেন অামরা যে জমি পাচ্ছি সেটা সরকার থেকে পছন্দ হচ্ছেনা। জমি সমস্যার কারণে সমাধান হচ্ছেনা।

তিনি বলেন দেশের বৃহৎ দল অা’লীগের নেতৃত্বকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলা হয়েছিলো।এরই মধ্য দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় অাসে।জাতীয় প্রয়োজনে নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর।নির্বাচনে অংশগ্রহণ, বর্জন দলীয় সিদ্ধান্ত। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে জেলা ভিত্তিক বাজেটের অাইডিয়া করেছিলেন এবং জেলা ভিত্তিক বাজেট সমন্বয় হলে উন্নয়নে সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, অামাদের এলাকায় বিশেষ করে কাজের সুযোগ না থাকায় প্রচুর মানুষ এলাকার বাইরে কাজের জন্য যাচ্ছে।তাদেরকে কাজের সুযোগ সৃষ্টির জন্য অর্থনৈতিক জোন সৃষ্টি করা হবে।

অাবারো এমপি হতে পারলে কেমন কাজ করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন বেতনা-শালতা পূর্ন জীবন ফিরিয়ে অানা,জলাবদ্ধতা পরিপূর্ণভাবে দূর করা।সাতক্ষীরায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি, সরকার কৃষকদের জন্য যে সুযোগ সৃষ্টি করেছেন সেই সুযোগ কৃষকদের মাঝে পৌঁছায়ে দেয়া সহ এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করবো।

শেখ ওবায়দুস সুলতান বাবলু

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক শেখ ওবায়দুস সুলতান বাবলু বলেন, ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি শুরু করেছি।তিন বার কারাবরণ করেছি রাজনীতির জন্য।তিনি বলেন অামার মনোনয়ন প্রত্যাশার সব থেকে বড় কারণ হলো দলই চাইছে অামি প্রার্থী হয়।যেনো সংসদ সদস্য হয়ে জনগনের সেবা করতে পারি তার জন্য।

প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জনগনের দোরগোড়ায় যেয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি,জনগণের সমস্যার কথা জানার চেষ্টা করছি।কি কি প্রয়োজন সেগুলো মাথায় নিয়ে কাজ করছি।যেনো সংসদ সদস্য হতে পারলে সেই সমস্যাগুলোর যথাযথ সমাধান করতে পারি।অামি রাজনীতির শুরু থেকে সকলের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।তাই ১৪ দলের একজন প্রার্থী হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই।দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রার এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই এই এলাকার সংসদ সদস্য হয়ে।তিনি বলেন, অামি বিশ্বাস করি ১৪ দলের পক্ষ থেকে অামাকে মনোনয়ন দেয়া হবে।কারণ ১৪ দলীয় জোটের অামার উপরে সে বিশ্বাস অাছে।

সংসদ সদস্য হলে অাপনি কি করবেন? এমন
প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুস সুলতান বাবলু বলেন,অামি সংসদ সদস্য হলে প্রথমেই যাতায়াত ব্যবস্থা,পয় নিষ্কাশন সমস্যা,বেকার যুবকদের অাত্ন-কর্ম সংস্থান সৃষ্টি সহ শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে চাই।তিনি বলেন মানুষ সমস্যায় পড়লে নেতাদের কাছে যায়।কিন্তু নেতারা সময় দিয়ে চায়না বলে জনগন কষ্ট পায়।অামি সেই সময়টা দিতে চায়।মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে একসাথে চলতে চায়।তাই অামি প্রতাশা করি ১৪ দল থেকে এবার অামাকে মনোনয়ন দিলে অামি নির্বাচিত হবো বলে অাশা ব্যক্ত করেন শেখ ওবায়দুস সুলতান বাবলু।

বি.দ্র: নিউজটি কপি করলে অবশ্যই সূত্র লাল সবুজের কথা দিতে হবে।