ওবায়দুল কবির সম্রাট, কয়রা: সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রায় চলতি বছরে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করেছেন কৃষকেরা। ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে মহারাজপুর ও বাগালী ইউনিয়নে বেশি বোরোর চাষ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং পরবর্তীতে রিংবাঁধ নির্মাণ শেষে কপোতাক্ষনদের লোনা পানি ঠিক মত নিস্কাশন না হওয়ায় কয়রা সদর ইউনিয়নের আংশিক ওউত্তর বেদকাশির অর্ধেকের বেশি জমিতে এ বছর বোরোর চাষাবাদ করতে ব্যর্থ হয়েছেন কৃষকেরা।
এখানকার যে সকল জমিতে বোরো ধান লাগানো হয়েছে তার অর্ধেক জমির ধান হলুদ বর্ণ ধারণ করে ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। ফলে কৃষকেরা ঠিক মত ফসল না পাওয়ার আশংকায় ভুগছেন।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আম্ফানের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার পর চলতি মৌসুমে আড়াই হাজারের বেশি কৃষককে বোরো ধান চাষে সহায়তা করা হয়েছে। বীজ,সার, প্রয়োজনীয় পরামর্শ সহ কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়াহয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গুরুদাস সরকার বলেন, বোরোর ক্ষেত প্রায় সময় পরিদর্শন করে কৃষকের নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। ৪ হাজার হেক্টর জমিতে ২০/২৫ হাজার টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। তবে কিছু জমিতে বিএলবি রোগের কারণে ধান লাল চেবর্ণ ধারণ করেছে।
জমিতে প্রয়োজনীয় পটাশ সারের অভাবে মূলত এ রোধের প্রধান কারণ বলে তিনি জানান। উত্তর বেদকাশির কাটকাটা, বড়বাড়ি, বতুলবাজার, কয়রাসদরের ৩নং কয়রা, ৪নং কয়রা, ঝিলিয়া ঘাটা, ২নং কয়রা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,এখানকার সিংহ ভাগ জমিতে বোরো ধান আধা লালচেও হলুদ বর্ণের হয়ে গেছে। ৩নং কয়রা গ্রামের বোরো চাষী মেহেদী হাসান সরদার বলেন, তিন বিঘা জমিতে তিনি বোরোর চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু ধান ক্ষেতের পানি গ্যাজাযুক্ত হয়ে পুরো জমির ধান হলদে ও ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় আদৌ তিনি ফসল পাবেন কিনাতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। ২নং কয়রা গ্রামের কৃষক হাসানুজ্জামান জানান, গত বর্ষা মৌসুমে আমনের চাষাবাদ করেও লোনা পানির প্রভাবে ফসল পাওয়া যায়নি। আবারো টাকা পয়সা ব্যয় করে জমিতে বোরোধান রোপন করেছি। কিন্তু লবণাক্তার কারণে ধান ক্ষেতের অবস্থা আশানুরূপ না হওয়ায় হতাশায় ভুগছি। তবে বাগালী ও মহারাজপুর এলাকায় বেশ কিছু জমিতে ভাল ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।



