আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারি আজিজুর রহমানের অনিয়ম, দুর্নীতির ও ঘুষ আদায়ের অভিযোগের বিভাগীয় তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জেলা সহকারি প্রাথমিক অফিসার সরেজমিনে তদন্তে আসলে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক তাদের লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষকবৃন্দের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ নিয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষা অফিসে আসতে হয়। এরমধ্যে পাসপোর্ট, বিদেশ ছুটি, এরিয়া বিল, শ্রান্তি বিনোদন, মাতৃত্বকালিন ছুটিসহ বিভিন্ন কাজে অফিস সহকারি আজিজুর রহমানের কাছে তাদের ধরনা দিতে হয়। এসব কাজের জন্যে তিনি সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা থেকে সর্ব নিন্ম পাঁচশত টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করে থাকেন বলে অভিযোগ। কোন শিক্ষক টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে আজ কাল বলে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত ঘুরনো হয়ে থাকে। শিক্ষকরা বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করলে তিনি দুর্নীতিবাজ আজিজুর রহমানকে বার বার সতর্ক করে দেন। কিন্তু এরপরও তিনি অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণ থেকে বিন্দু মাত্র পিছপা না হয়ে উল্টো শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচারণ অব্যাহত রাখেন। ফলে উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরই জের ধরে গত ১৭ জুলাই শতাধিক শিক্ষকের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক বরাবর প্রেরণ করা হয়। তিনি অভিযোগটি তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলমকে নির্দেশ দেন। এ নির্দেশে জেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গত বৃহস্পতিবার অফিস সহকারি আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সরেজমিনে তদন্ত করেন।
এ ব্যাপারে আজিজুর রহমান বলেন, অফিসে আসা দু‘একজন শিক্ষকের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তার জের ধরে তারা আমাকে হেয় কারর জন্যে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আকবর হোসেন বলেন, আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের আনীত অভিযোগের বিভাগীয় তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।



