আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তার সাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে মতবিনিময় হয়েছেন। “অপরকে জানান জীবন বাঁচান” এই শ্লোগানে ২৮ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালনের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেøক্সের পক্ষ থেকে র্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার হাসপাতাল কর্মকর্তা ডাক্তার শেখ আবু শাহীন উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, কেশবপুরের জলাতঙ্ক রোগির সংখ্যা অনেক বেশী। কেশবপুরে কুকুরের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এছাড়া এখানে আবহমান কাল থেকে হনুমানের বসবাস। খাদ্যের অভাবে হনুমান লোকালয়ে বিচরন করে। হনুমান ও কুকুরের কাঁমড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রায় কেশবপুর হাসপাতালে রোগিরা ভর্তি হয়। গত ৩০ জুন এক দিনে কেশবপুরের বিভিন্ন এলাকায় ২৫ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেশবপুর হাসপাতালে কুকুর ও হনুমানের কামড়ে ৪শ’৩১ জন রোগি ভর্তি হয়। এদের সকলের প্রত্যেকে ৪ ডোজ করে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। সরকারিভাবে এ বছর ৪শ’৬৫ ভায়েল ও উপজেলা পরিষদ থেকে ২শ’৮ ভায়েল ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। ৭ জুন দৈনিক জনকণ্ঠে জলাতঙ্কের উপর এক রিপোটে ঢাকা ডাইরেক্টর অফিস থেকে একটি তদন্ত দল কেশবপুরে আসেন। তারা ঘটনার সত্যতা পেয়ে কেশবপুর হাসপাতালে সার্বক্ষনিক জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করেন এবং এখানে একটি ভ্যাকসিন সেন্টার করার জন্য তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করেন। তবে এখনো সেই সেন্টারের ব্যবস্থা হয়নি। হাসপাতাল কর্তা আরও জানান, কেশবপুরে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি।
এদিকে হাইকোর্টের নিষেধ থাকায় কেশবপুর দুই তিন বছর বেওয়ারিশ কুকুর মারা বন্ধ রয়েছে বলে পৌর সভার মেয়র রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন। বেওয়ারিশ কুকুরের পরিমান এতো বেড়েছে যে শুধু গ্রাম নয় কেশবপুর শহরে মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ১৫/২০ টা করে কুকুরের দল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কুকুর নিধন বা কুকুরের জলাতঙ্কমুক্ত করার দাবি করেছে জনগন।



