কেশবপুরে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীর উপবৃত্তি টাকা না দেওয়ায় শিক্ষককে জুতা মারার চেষ্টা

54

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নে ব্রাহ্মণডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীর উপবৃত্তি টাকা না দেওয়ায় শিক্ষকের উপর জুতা মারার চেষ্টা করেছে ওই ছাত্রী পিতা বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে ও ৫ম শ্রেণি পড়–য়া ছাত্রী খাদিজা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, উপবৃত্তির ১ হাজার ৮ শত টাকা না দেওয়ার কারণে আমার পিতা বিল্লাল হোসেন পাড় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষকের উপর চড়াও হয়ে উঠেন।

এ সময় আমার পিতা বিল্লাল হোসেন পাড়কে প্রধান শিক্ষক জি.এম শরিফুল ইসলাম উল্টা টাকা পাবে না বলে পিতার উপর চড়াও হয়ে শ্রেণি কক্ষ থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। আমি কোন দিনও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেনি। অথচ প্রধান শিক্ষক জি.এম শরিফুল ইসলাম আমাদের ফোন নম্বার না দিয়ে তার পছন্দের একটি নাম্বার দিয়ে ১৮ মাসের ১ হাজার ৮ শত টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে ওই ছাত্রী জানান। ৫ম শ্রেণি পড়–য়া ছাত্র মেহেদী হাসান জানান, প্রধান শিক্ষক জি.এম শরিফুল ইসলাম সময় মত কোন দিন স্কুলে আসেন না। যদিও আসেন বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে প্রতিদিন চলে যান। এ ছাড়া আমাদের অংক ক্লাস কখনও নেননি প্রধান শিক্ষক। মাঝে মধ্যে সহকারি শিক্ষক নজরুল ইসলাম অংকের ক্লাস নিয়ে থাকেন। আমরা যখন স্যারের কাছে জিজ্ঞাসা করি, স্যার আপনি প্রতিদিন আমাদের ক্লাস না নিয়ে চলে যান কেন। তখন আমাদের উপর চড়াও হয়ে উঠেন প্রধান শিক্ষক। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী আয়শা খাতুন জানান, প্রধান শিক্ষক জি.এম শরিফুল ইসলাম সময় মত কোন দিন স্কুলে আসেন না। খেল খুঁশিমত স্কুলে আসেন সপ্তাহে ১ দিন হয়ত বাংলা ক্লাস নেয় প্রধান শিক্ষক। এ ব্যাপারে ওই স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রের পিতা জানান, পড়াশুনার মান ভাল হচ্ছেনা বলে এখান থেকে আমার ছেলেকে নিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি করে দিব। প্রধান শিক্ষকের কারণে অনেক ছাত্র-ছাত্রী ইতিমধ্যে এ স্কুল থেকে চলে গেছে। তার দূনীতির কারণে স্কুলের ভাবমূর্তি দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। যদি প্রধান শিক্ষককে বদলি করা হয় তাহলে আগেরমত পড়াশুনার মান ফিরে আসবে। এ ব্যাপারে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি অসিম দে জানান সোমবার দুপুরে অফিস রুমে এসে খাদিজার পিতা বিল্লার হোসেন পাড় উপবৃত্তির পাওনা টাকার জন্য প্রধান শিক্ষককে জুতা মারার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে প্রধান শিক্ষক ও ওই ছাত্রীর পিতাকে নিয়ে ঘটনাটি মিমাংসা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জি.এম শরিফুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, খাদিজা খাতুনের উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। তারা নিজেরাই ভুল নাম্বার দিয়ে টাকা না পেয়ে আমার উপর চড়াই হয়ে উঠেন ওই ছাত্রীর পিতা। আমি সময়মত প্রতিদিন স্কুলে এসে ক্লাস নিয়ে থাকি। আমার বিরুদ্ধে একটি কুচক্রিমহল বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা যেটা বলেছে সেটা সঠিক নয়। আমি তাদের উপর কখনও চড়াও হয় না। এ ব্যাপারে কেশবপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকবার হোসেন বলেন, ব্রাহ্মণডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি.এম শরিফুল ইসলামের উপর উপবৃত্তির টাকা নিয়ে খারাপ আচারণের ঘটনাটি এটিও মাধ্যমে জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে ওই অভিভাবকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখিত অভিযোগ দায়ের করার জন্য এটিওকে বলা হয়েছে।