আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে সম্পত্তি লোভী ইকবাল মোল্যা গংদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন সম্পত্তির মালিক শাহিন আলম। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় কেশবপুর নিউজক্লাবে হাজির হয়ে তিনি এই সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে শাহিন আলম জানান আমার পিতার বাড়ি উপজেলার ব্যাসডাঙ্গা গ্রামে এবং নানার বাড়ি বায়সা গ্রামে।
আমার মা আমার নানার একমাত্র সন্তান। মায়ের কোন ভাই বোন না থাকায় নানা আমাদেরকে ৩০ বছর পূর্বে একটি জমিতে বাড়ি তৈরি করে বসবাসের কথা বলে, সেই থেকে আমরা বায়সাতেই স্থায়ী ভাবে বসবাস করে আসছি। আমার নানা মৃত্যুর পূর্বে তার সমুদয় স্থাবর সম্পত্তি আমার মায়ের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেয়। এর পর থেকে আমরা নানার সম্পত্তি ভোগদখলে গেলে আমার মায়ের চাচা মৃত আনসার মোল্যার ছেলে সম্পত্তি লোভী ইকবাল মোল্যা, রবিউল মোল্যা, প্রতিবেশী মৃত হানেফ মোড়লের ছেলে আব্দুল মান্নান ও মৃত কালু মোড়লের ছেলে আলাউদ্দীন ওরফে আলেক বিভিন্ন ভাবে আমাদের ওই সম্পত্তি জবর দখলে নেওয়ার জন্য গভীর পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই জের ধরে রবিবার দুপুরে ২৯ নং বায়সা মৌজার ১৩০৪ খতিয়ানের ১৫৪৪ ও ১৫৪৫ দাগের ৪১.৩২ শতক জমির ওপর রোপনকৃত ২৫০ টি মেহগনি ও শতাধিক কলা গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে।
আমি সংবাদ পেয়ে ওই জমিতে যেয়ে গাছ কাটার প্রতিবাদ করলে ইকবাল মোল্যা, রবিউল মোল্যা, আব্দুল মান্নান ও আলাউদ্দীন ওরফে আলেকের হাতে থাকা গাছ কাটা দা নিয়ে আমাকে হত্যার উদ্যেশ্যে তাড়া করলে আমি জীবন ভয়ে পালিয়ে আসি। উল্লেখ্য দূর্ধর্ষ ও ডাকাত প্রকৃতির ইকবাল মোল্যা, রবিউল মোল্যা, আব্দুল মান্নান ও আলাউদ্দীন ওরফে আলেক আমাকে অপহরণ করার পর মারপিট করে জোর পূর্বক সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে নেয় এবং তারা আমাকে হত্যার হুমকী দিতে থাকে। আমি ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে সংবাদটি প্রকাশের জন্য অনুরোধ করছি।
শুধু তাই নয় সম্পদ লোভী ইকবাল মোল্যা উল্লেখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে নিজের মাকেও ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে হত্যা করেছিল। ওই সময় ইকবাল মোল্যার আপন ভাই রবিউল মোল্যা এলাকার মসজিদে উপস্থিত হয়ে মুসল্লি ও এলাকা বাসীর নিকট তার মায়ের হত্যার বিচার দাবি করেছিল। সাংবাদিক সম্মেলনে শাহিন আলমের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী লায়লী বেগম, ২ মেয়ে শিলা খাতুন ও শাপলা খাতুন, শাহিন আলমের মা ছখিনা বিবি, বোন লিপি বেগম, বায়সা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ মোড়ল ছেলে রেজাউল ইসলাম, মৃত আব্দুল গাজীর ছেলে মোর্শারফ হোসেন, মৃত শরুপ মোল্যার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, মৃত জাহেদ আলী মোড়লের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম পলাশ, মৃত মেহের আলী মোল্যার ছেলে মিজানুর রহমান, হেকমত আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন, জনাব আলীর ছেলে রিপন হোসেন, লুৎফর রহমান মোল্যার ছেলে আব্দুল লতিফ, জলিল মোল্যার ছেলে এজাজুল ইসলাম ও মোন্তাজ আলীর ছেলে আবুল কাশেম, মৃত জাহাবক্স সরদারের ছেলে জামির সরদার।
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে ইকবাল মোল্যার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার মায়ের বয়স ছিল প্রায় ৮৫ বছর, তিনি পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিলেন। তাকে হত্যা করার কথা পুরোটাই বানোয়াট। এলাকার কিছু লোক আমার সম্পত্তি দখল নেওয়ার জন্য এসমস্ত মিথ্যা বানোয়াট কথা উঠিয়ে আমাকে হয়রানি করে চলেছে।



