কেশবপুরে শীত মৌসুম আসলেই শুটকি মাছের ব্যবসায় নেমে পড়ে ব্যবসায়ীরা শুটকি মাছের কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নিয়োজিত দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে শুটকি মাছ

33
কেশবপুরে শীত মৌসুম আসলেই শুটকি মাছের ব্যাবসায় নেমে পড়ে ব্যবসায়ীরা শুটকি মাছের কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নিয়োজিত দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে শুটকি মাছ
কেশবপুরে শীত মৌসুম আসলেই শুটকি মাছের ব্যাবসায় নেমে পড়ে ব্যবসায়ীরা শুটকি মাছের কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নিয়োজিত দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে শুটকি মাছ

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে শীত মৌসুম আসলেই শুটকি মাছের ব্যাবসায় নেমে পড়ে ব্যবসায়ীরা। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে শুটকি মাছ। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুটকি মাছের কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও শ্রম হিসাবে নিয়োজিত হচ্ছে বলে দেখা গেছে।

উপজেলার কেদারপুর, কুশুলদিয়া, মজিদপুর ও ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও শুটকি মাছের কাজে ব্যাস্ত সময় পার করেছেন। কেদারপুর গ্রামের বিল্লাল বিশ্বাস, জসিম বিশ্বাস ও কালাম বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান শীত মৌসুম আসলেই আমরা শুটকি মাছের ব্যবসায় পুরোদোমে নেমে পড়ি।

গত বছর ব্যবসায় ক্ষতি হলেও এবার তা পুষিয়ে নেওয়ার আশা রয়েছে। মজিদপুর গ্রামের মিজানুর রহমান জানান সিলভার মাছ প্রতি মণ ৮শত থেকে ১০০০ টাকা দরে ক্রয় করে থাকি। এরপর ওই মাছ গুলি শুকিয়ে প্রতি মণ ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা বিক্রয় করা হয়। এর পাশাপাশি পুঁটি মাছও শুকানো হয়। এসমস্ত শুটকি মাছ সৈয়দপুর, দিনাজপুর, সিলেট, চিটাগাংয়ের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। শত গত বছরের তুলনায় এবছরে মাছের দাম বেশী হলেও লাভের আশা করছি। আমার এখানে প্রায় ২০ জন নারী-পুরুষ কাজ করে থাকেন। পুরুষের শ্রম প্রতি ৩ শত টাকা ও নারীদের শ্রম প্রতি ২ শত টাকা করে প্রদান করি। এরা সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই কাজে নিয়োজিত থাকে। এদিকে ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের হায়দার আলী বিশ্বাস ও কুশুলদিয়া গ্রামের বলরাম জানান আমরা প্রতি বছরে শুটকি মাছের ব্যবসা করে আসছি।

গত বছরে মাছের আমদানী বেশী থাকলেও ব্যবসায় লোকসান হয়েছিল। এবার আমরা ওই লোকসান পুষিয়ে নিতে পারব বলে মনে করছি। এই শুটকি মাছ ৬ মাস ধরে আমরা পরিচালনা করে থাকি। ফজলু, কালাম, কামরুল, আয়ুব আলী, জাহাঙ্গীর, সবুজসহ অনেকেই জানান আমরা প্রতিবছরে শীত মৌসুম আসলে শুটকি মাছের কাজে নিয়োজিত হয়ে থাকি এবং শ্রমও বেশী পায়। বাকি মাস গুলোতে আমরা বাড়ি বসে না থেকে সকল শ্রম কাজে নিয়োজিত হই।

রামকৃষপুর গ্রামের রেনু বেগম, নাজমা বেগম, আকলিমা বেগম, রাজিয়া বেগম, সুফিয়া বেগম, আলেক বেগম, হামিদা বেগম, মজিদপুর গ্রামের জাহানারা বেগম, রেশমা বেগম, তাসলিমা বেগম, ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের ফতেমা বেগম, জোহরা বেগম, আকলিমা বেগম, জাহানারা বেগম, চায়না বেগম, কুশুলদিয়া গ্রামের মনিরা বেগম, সাদিয়া বেগম ও রাফেজা বেগম সাংবাদিকদের জানান আমরা প্রতি বছরে কর্মসূচির কাজ থেকে শুরু করে সকল কাজে পুরুষের পাশাপাশি আমরাও কাজে নিয়োজিত হই। তারা বলেন প্রতিদিন সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ২শত টাকা করে শ্রমের মজুরি পায়।

আমরা গরীব ঘরের স্ত্রী হওয়ায় ঘরে বসে থাকতে পারি না। শ্রম দিয়ে অর্থ উপার্জন করে স্বামী সন্তানদের নিয়ে ভালই সুখে আছি। আমরা বাড়ি বসে না থেকে কাজ করে খেটে খেয়েও মনের মাঝে একটু সুখ আনন্দ খুজে পায়।